লক্ষ্মীপুরে বিএনপি নেতা এ্যানিসহ ৩ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা

লক্ষ্মীপুরে পুলিশের দুই মামলায় বিএনপির প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানিসহ তিন নেতার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি এবং আরও সাত নেতাকর্মীর জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। রবিবার (১০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ (দ্বিতীয়) সৈয়দা আমিনা ফারহিন এ রায় দেন।

এ সময় আদালত প্রাঙ্গণে বিএনপির শত শত নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন। মোতায়েন করা হয় বিপুলসংখ্যক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য।

বিষয়টি নিশ্চিত করছেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ও জজ কোর্টের পিপি অ্যাডভোকেট জসিম উদ্দিন।

বিএনপির নেতাদের জামিন না মঞ্জুর করায় লক্ষ্মীপুর কোর্ট চত্বরে বিএনপি যুবদল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ মিছিল করেন। কোর্টচত্বরসহ লক্ষ্মীপুর জেলা শহরে আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা নেতাদের মধ্যে তিন জন হলেন– কেন্দ্রীয় বিএনপির প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবুল খায়ের ভূঁইয়া, লক্ষ্মীপুর জেলা বিএনপির সদস্য সচিব সাব উদ্দিন সাবু।

এ মামলায় জামিন মঞ্জুর না করে আদালতে পাঠানো সাত জন হলেন– জেলা বিএনপির যুগ্ম-আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট হাছিবুর রহমান, জেলা ছাত্রদলের সভাপতি হাসান মাহমুদ ইব্রাহিম, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল-মামুন, সিনিয়র সহ-সভাপতি আব্দুর রহমান রাজন, জেলা ছাত্রদলের সহ-সভাপতি জুয়েল মাহমুদ, পৌর ছাত্রদলের আহ্বায়ক আবুল বারাকত সৌরভ, সদর পূর্ব ছাত্রদলের সদস্য সচিব বায়েজিদ ভূঁইয়া।

আসামিপক্ষের আইনজীবী আহমেদ ফেরদৌস মানিক  বলেন, ‘বিরোধী দলকে দমন করতে আজকের এ রায়। আমরা এ রায়ে সন্তুষ্ট নই। আমরা উচ্চ আদালতে যাব। ইতোপূর্বে মহামান্য হাইকোর্ট আসামিদের আগাম জামিন দিয়েছেন।’

উল্লেখ্য, গত ১৮ জুলাই লক্ষ্মীপুরে ত্রিমুখী সংঘর্ষ এবং সজীব হত্যার ঘটনায় সদর মডেল থানায় পরদিন ১৯ জুলাই রাতে চারটি পৃথক মামলা দায়ের করা হয়েছে। তার মধ্যে নিহত সজীবের মেজো ভাই সুজন বাদী হয়ে অজ্ঞাত আসামি করে একটি মামলা করেন। পাশাপাশি মজুপুর এলাকায় কমলনগর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এ কে এম নুরুল আমিন রাজু তার বাসভবন ও ব্যক্তিগত গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনায় ৩০০ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেছেন।

এ ছাড়াও দায়িত্ব পালন কাজে বাধাসহ পুলিশকে আহত করার ঘটনায় সদর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মোজাম্মেল হোসেন বাদী হয়ে বিএনপি নেতা এ্যানিকে প্রধান করে ২৫ জনের নাম উল্লেখ ছাড়াও অজ্ঞাত আরও এক হাজার ৫০০ জনের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেছেন।

সেই সঙ্গে বিস্ফোরক ও নাশকতার ঘটনায় বিশেষ ক্ষমতা আইনে সদর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আনিছুর রহমান বাদী হয়ে আরও একটি মামলা দায়ের করেন। এই মামলাতেও বিএনপি নেতা এ্যানিকে প্রধান করে ৩০ জনের নাম উল্লেখ ছাড়াও অজ্ঞাত আরও এক হাজার ৫০০ জনকে আসামি করা হয়েছে।