গ্রেফতার আতঙ্কে এখন পুরুষশূন্য চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার কদলপুর ইউনিয়নের পঞ্চপাড়া গ্রাম। কলেজছাত্র শিবলী সাদিক হৃদয়কে (১৯) অপহরণের পর হত্যায় জড়িত সন্দেহে উমংচিং মারমা (২৬) নামে এক ব্যক্তিকে পুলিশের কাছ থেকে ছিনিয়ে নিয়ে গণপিটুনি দিয়ে হত্যা করে বিক্ষুব্ধ গ্রামবাসী। এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা গ্রামবাসীদের বিরুদ্ধে পৃথক দুটি মামলা করে।
মামলার পর গ্রেফতার আতঙ্কে এলাকাছাড়া পুরো গ্রামের পুরুষ। ঘটনার পর থেকে বন্ধ রয়েছে ওই গ্রামের দোকানপাঠসহ সব ধরনের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। গ্রামজুড়ে নেমে এসেছে নিস্তব্ধতা।
জানা গেছে, দুটি মামলার মধ্যে একটি পুলিশের গাড়ি ভাঙচুর এবং পুলিশের ওপর হামলা, অপরটি সন্দেহজনক আসামি উমংচিং মারমাকে পুলিশ হেফাজত থেকে ছিনিয়ে নিয়ে হত্যার অভিযোগ। এ দুই মামলায় অজ্ঞাতনামা গ্রামবাসীর বিরুদ্ধে রাউজান থানা পুলিশ বাদী হয়ে পৃথক মামলা দায়ের করে।
স্থানীয়রা বলছেন, রাতে ও দিনে এ গ্রামে পুলিশের আনাগোনা বেড়েছে। গ্রেফতার আতঙ্কে আছে গ্রামের নারী-পুরুষ। এ কারণে তারা গ্রেফতার এড়াতে এলাকা ছেড়ে আত্মগোপনে চলে গেছে। এসব মামলাকে পুঁজি করে রাউজান থানা পুলিশ বাণিজ্য করছে বলেও অভিযোগ তুলেছেন গ্রামবাসী। যদিও এ অভিযোগ সত্য নয় বলে দাবি করেছে পুলিশ।
কদলপুর গ্রামের বাসিন্দা আবদুস সালাম বলেন, ‘পুলিশের দায়ের করা মামলার জের ধরে পুরো গ্রাম এখন পুরুষশূন্য। অনেক নারীও এলাকা ছেড়ে অন্যত্র চলে গেছে। এলাকার দোকানপাঠ বন্ধ। সড়কে পুরুষ মানুষের আনাগোনা নেই বললেই চলে। এলাকায় যারা রিকশা এবং সিএনজি অটোরিকশা চালাতো তারাও গা ডাকা দিয়েছেন। এলাকার পরিবেশ এখন নীরব নিস্তব্ধ।’
রাউজান কদলপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নিজাম উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী বলেন, ‘পুলিশের কাছ থেকে আসামি ছিনিয়ে নিয়ে পিটুনি দিয়ে হত্যার ঘটনায় পুলিশ দুটি মামলা করেছে। আমার জানামতে পুলিশ এখনও এ দুই মামলায় কাউকে গ্রেফতার করেনি। এলাকার পরিবেশ এখন স্বভাবিক আছে।’
রাউজান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল্লাহ আল হারুন বলেন, ‘পুলিশের কাছ থেকে আসামি ছিনিয়ে নিয়ে পিটিয়ে হত্যা, পুলিশের গাড়ি ভাঙচুর ও দায়িত্বে বাধা দেওয়ার অভিযোগে দুটি মামলা হয়েছে। মামলা দুটি তদন্তাধীন।’
গত ২৮ আগস্ট রাতে রাউজান উপজেলার পঞ্চপাড়া গ্রামে একটি মুরগির খামার থেকে কলেজছাত্র শিবলীকে অপহরণ করা হয়। ঘটনার দুই দিন পর অপহরণকারীরা ফোন করে ১৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। পরে অপহরণকারীদের কথামতো বান্দরবান জেলার ডুলাপাড়া নামক স্থানে গিয়ে দুজন লোকের হাতে দুই লাখ টাকা দেওয়া হয়। এরপরও তারা শিবলীকে মুক্তি দেয়নি। ঘটনার ১৩ দিন পর গ্রেফতার উমংচিং মারমা হত্যার দায় স্বীকার করে। তার দেওয়া তথ্যে ১১ সেপ্টেম্বর লাশ উদ্ধারে উমংচিং মারমাকে সঙ্গে নিয়ে কদলপুর-রাঙ্গুনিয়া এলাকার পাহাড়ি এলাকায় যায় পুলিশ। সেখান থেকে খণ্ডিত লাশের অংশবিশেষ উদ্ধার করা হয়। খণ্ডিত লাশ নিয়ে ফেরার পথে পুলিশের কাছ থেকে ঘটনায় জড়িত আসামি উমংচিং মারমাকে ছিনিয়ে নেয় জনতা। পরে উত্তেজিত গ্রামবাসীর গণপিটুনিতে তার মৃত্যু হয়।