ভারতের সিকিমে আকস্মিক বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি ও তিস্তার ড্যাম ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় বাংলাদেশের উত্তরের পাঁচ জেলার তিস্তা তীরবর্তী এলাকায় বন্যার আশঙ্কা করছে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (বাপাউবো)। উজানের ঢলে বুধবার থেকে অস্বাভাবিক গতিতে বাড়ছে তিস্তার পানি। এর তীরবর্তী বাসিন্দাদের আকস্মিক বন্যার কবল থেকে রক্ষা করতে সতর্ক অবস্থানে কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসন।
বন্যার পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের বরাতে বুধবার পাউবো জানায়, ভারতীয় আবহাওয়া সংস্থার তথ্য অনুযায়ী ভারতের সিকিম অঞ্চলে আগামী ৪৮ ঘণ্টায় ভারি বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস থাকায় তিস্তা নদীতে বন্যা পরিস্থিতি অব্যাহত থাকতে পারে। ভারতের উত্তর সিকিমে তিস্তা নদীর চুংথাং ড্যাম ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় উজানে তিস্তা নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ অবস্থায় বাংলাদেশের নীলফামারী, লালমনিরহাট, রংপুর, কুড়িগ্রাম ও গাইবান্ধা জেলায় তিস্তা তীরবর্তী এলাকাগুলো প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এদিকে, তিস্তায় সম্ভাব্য বন্যা পরিস্থিতিতে জেলার রাজারহাট উপজেলার তিস্তার বাঁ তীরের ক্ষতিগ্রস্ত স্পার বাঁধ নিয়ে আতঙ্কে রয়েছেন এর উজান ও ভাটিতে থাকা কয়েকশ’ পরিবার। যদিও পানি উন্নয়ন বোর্ড বলছে, ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধটির অবশিষ্ট অংশ নিয়ে তেমন ঝুঁকি নেই।
জেলার রাজারহাট ও উলিপুর উপজেলার তিস্তা তীরের মানুষজনকে নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাইকিং করা হয়েছে। এ ছাড়াও সম্ভাব্য দুর্যোগে আশ্রয় নেওয়ার জন্য স্থানীয় বাসিন্দাদের জন্য দুই উপজেলায় ২৮টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
রাজারহাট উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) কাবেরী রায় বলেন, ‘উপজেলার ঘড়িয়ালডাঙা ও বিদ্যানন্দ ইউনিয়নের প্রত্যেকটি ওয়ার্ডে মাইকিং করে সম্ভাব্য বন্যার সতর্কতা প্রচার করা হয়েছে। স্থানীয় মসজিদ থেকেও মাইকিং করা হয়েছে। নদী তীরবর্তী বাসিন্দাদের সময়মতো আশ্রয়কেন্দ্রসহ নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে বলা হয়েছে।’
‘আমরা ১৪টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রেখেছি। এ ছাড়াও জরুরি পরিস্থিতিতে উদ্ধার তৎপরতার জন্য নৌকা প্রস্তুত রাখা হয়েছে। সবাই সতর্ক রয়েছেন।’ প্রশাসনের প্রস্তুতি নিয়ে বলেন ইউএনও।
উপজেলার ঘড়িয়ালডাঙা ইউনিয়নের বুড়িরহাটে তিস্তার বাঁ-তীরে ক্ষতিগ্রস্ত স্পার বাঁধ নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করে ইউএনও বলেন, ‘বাঁধটি অর্ধেক ভেঙে আছে। এটি পুরোটা ভেঙে যাওয়া নিয়ে ভয়ে আছি। ভেঙে গেলে পরিস্থিতি খারাপ হতে পারে। এ নিয়ে আমরা একটু টেনশনে আছি।’ এ ছাড়া তেমন ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা নেই বলে জানান তিনি।
এদিকে, উলিপুর উপজেলার তিস্তা তীরবর্তী চারটি ইউনিয়নে সতর্কতামূলক মাইকিং করা হয়েছে। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) ও ভারপ্রাপ্ত ইউএনও উপজেলার থেতরাই ও বজরা ইউনিয়নে সরেজমিন ঘুরে স্থানীয়দের আশ্রয়কেন্দ্রসহ নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নিতে বলেছেন। সম্ভাব্য পরিস্থিতি মোকাবিলায় ১৪ টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এ ছাড়াও পরিস্থিতি মোকাবিলায় চারটি ইউনিয়নে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা শাখার কর্মীদের ট্যাগ করা হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) কাজী মাহমুদুর রহমান বলেন, ‘তিস্তার তীরবর্তী এলাকায় আমাদের সতর্ক দৃষ্টি রয়েছে। বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে দুর্গতরা যাতে আশ্রয়কেন্দ্রে আসতে পারেন সেজন্য আমরা প্রস্তুতি রেখেছি। খাদ্য সহায়তাসহ যেকোনও জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।’
পাউবো কুড়িগ্রামের নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘পানি বাড়ছে। তবে তিস্তার কুড়িগ্রাম অংশে পানি প্রবেশের পর সমতল তেমন একটা উচ্চতায় ওঠার সম্ভাবনা কম। আমাদের এদিকটায় নদীর প্রশস্ততা বেশি। তা ছাড়া যে হারে পানি বাড়ছে তাতে কুড়িগ্রাম অংশে তেমন ক্ষয়ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা কম।’ তিস্তার স্পার বাঁধের ঝুঁকি প্রশ্নে এই প্রকৌশলী বলেন, ‘আমি রাতে বাঁধ থেকে ফিরেছি। বাঁধে ঝুঁকি নেই। আশা করছি কোনও সমস্যা হবে না। আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই।’