যৌতুকের টাকা না দেওয়ায় স্বামী-শাশুড়ির দেওয়া আগুনে দগ্ধ গৃহবধূ তাহমিনা বেগম ৪ দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়ে মারা গেছেন। রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন তাহমিনার অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে স্থানান্তরের পরামর্শ দেন চিকিৎসক। রবিবার রাত আড়াইটার দিকে তাকে ঢাকায় নিয়ে যাওয়ার পথে তিনি মারা যান।
তাহমিনা বেগম রংপুরের পীরগাছা উপজেলার পূর্ব চণ্ডিপুর গ্রামের কফিল উদ্দিনের মেয়ে। পার্শ্ববর্তী দাদন চৌধুরানী গ্রামের আব্দুল মান্নানের সঙ্গে তার বিয়ে হয়েছিল স্ত্রী।
পুলিশ জানায়, তাহমিনার সঙ্গে ১০ বছর আগে বিয়ে হয় আব্দুল মান্নানের। বেশ কিছুদিন ধরে তাহমিনার কাছে তার স্বামী মান্নান ও শাশুড়ি আলেমা বেগম ২৫ হাজার টাকা যৌতুক দাবি করে আসছিল। টাকা না দেওয়ায় তাকে প্রায়ই মারধর করা হতো। গত বৃহস্পতিবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে স্বামী ও তার শাশুড়ি বাপের বাড়ি থেকে টাকা আনতে তাহমিনার উপর চাপ দেয়। তিনি টাকা আনতে অস্বীকৃতি জানালে রাত ১টার দিয়ে স্বামী ও শাশুড়িসহ স্বজনরা মিলে তাহমিনার শরীরে আগুন ধরিয়ে দেয়। এতে তার কোমর থেকে গলার শ্বাসনালী পর্যন্ত ঝলসে যায়। প্রথমে গ্রাম্য ডাক্তার দিয়ে চিকিৎসা করানোর পর অবস্থার অবনতি ঘটলে এলাকাবাসী তাহমিনাকে শুক্রবার গভীর রাতে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসে। তার শ্বাসনালীসহ শরীরের ৩৫ শতাংশ ঝলসে গিয়েছিল।
এ ঘটনায় আব্দুল মান্নানকে পুলিশ গ্রেফতার করলেও শাশুড়ি আলেমা বেগমসহ অন্যদের এখনও গ্রেফতার করতে পারেনি।
পীরগাছা থানার ওসি আমিনুল ইসলাম জানান, লাশ ময়নাতদন্তের পর তার স্বজনদের কাছে হন্তান্তর করা হবে।
/এআর/এসটি/