নারায়ণগঞ্জের আলোচিত সাত খুন মামলার অন্যতম বাদী বিজয় পালের সাক্ষ্যগ্রহণ করেছেন আদালত। নারায়ণগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালতে সোমবার দুপুর পৌঁনে ১২টা থেকে সোয়া ১টা পর্যন্ত এই সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়। এরপর আগামী ৭ মার্চ বিজয় পালের পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে।
তবে মামলার আরেক বাদী সেলিনা ইসলাম বিউটির সাক্ষ্য আজ গ্রহণ করা হয়নি। আগামী ৩ মার্চ তার সাক্ষ্যগ্রহণ করা হবে বলেও জানিয়েছেন আদালত।
আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট ওয়াজেদ আলী খোকন জানান, এই মামলায় মোট আসামির সংখ্যা ৩৫ জন। এরমধ্যে গ্রেফতার রয়েছেন ২৩ জন। এছাড়া পলাতক রয়েছেন ১২ জন। সোমবার বাদী বিজয় পালকে আদালতে উপস্থিত ১০ জন আসামির আইনজীবী জেরা করেন। তবে বাকি ১০ জন আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন না। এছাড়া পলাতক ১২ আসামির পক্ষে তাদের আইনজীবীরাও এদিন বিজয় পালকে জেরা করেন। যদিও মামলার প্রধান আসামি সাবেক ওয়ার্ট কাউন্সিলর নূর হোসেন, র্যাব কর্মকর্তা এমএম রানা এবং তারেক সাঈদের পক্ষে তাদের আইনজীবী বাদীকে জেরার জন্য আদালতের কাছে সময় প্রার্থনা করেন। এরপরেই আদালত আগামী ৭ মার্চ বিজয় পালের দ্বিতীয় স্বাক্ষ্যগ্রহণের তারিখ ধার্য করেন।
এর আগে সকালে সাত খুন মামলার প্রধান আসামি নূর হোসেন, তারেক সাঈদসহ ২৩ আসামিকে কঠোর নিরাপত্তায় আদালতে হাজির করা হয়।
উল্লেখ্য, ২০১৪ সালের ২৭ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলাম, তার বন্ধু মনিরুজ্জামান স্বপন, তাজুল ইসলাম, লিটন ও গাড়িচালক জাহাঙ্গীর আলম এবং আইনজীবী চন্দন কুমার সরকার ও তার গাড়িচালক ইব্রাহীম অপহৃত হন। পরে ৩০ এপ্রিল শীতলক্ষ্যা নদী থেকে ছয়জনের ও ১মে একজনের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
তদন্ত শেষে প্রায় এক বছর পর গত ৮ এপ্রিল নূর হোসেন, র্যাবের সাবেক তিন কর্মকর্তাসহ ৩৫ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ। কিন্তু অভিযোগপত্র থেকে পাঁচ আসামিকে বাদ দেওয়ায় এবং প্রধান আসামি নূর হোসেনের জবানবন্দি ছাড়া অভিযোগপত্র আদালত আমলে নেওয়ায় ‘নারাজি’ আবেদন করেন সেলিনা ইসলাম বিউটি। আবেদনটি ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ও জজ আদালতে খারিজ হয়ে গেলে বিউটি উচ্চ আদালতে যান। হাইকোর্টের আদেশে বলা হয়, পুলিশ চাইলে মামলাটির ‘অধিকতর তদন্ত’ করতে পারে এবং ‘হত্যার ষড়যন্ত্র ও পরিকল্পনার’ ধারা যুক্ত করে নতুন করে তদন্ত প্রতিবেদন দিতে পারে।
/এসএম/টিএন/