কিশোরগঞ্জ-৩ আসনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী ও দলটির মহাসচিব মো. মুজিবুল হক চুন্নুর নির্বাচনি পোস্টার নিয়ে করিমগঞ্জ ও তাড়াইলে বিতর্ক হচ্ছে। পোস্টারে তিনি ‘জাতীয় পার্টির মনোনীত ও আওয়ামী লীগ সমর্থিত’ লেখায়’ বিষয়টি নিয়ে পক্ষে বিপক্ষে নানা কথা হচ্ছে।
এ নিয়ে স্থানীয় আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারা বেশি ক্ষুব্ধ হয়েছেন। তবে দলটির সাধারণ নেতাকর্মীদের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। একপক্ষ বলছে, তিনি পোস্টারে কোনোভাবেই আওয়ামী লীগ সমর্থিত লিখতে পারেন না। তবে আরেকটি পক্ষ বলছে, এ আসনে যেহেতু আওয়ামী লীগ কোনও প্রার্থী দেয়নি। এখান থেকে তাদের দলের প্রার্থীকে প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে। আর আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না দেওয়া হলেও এটি দেশের সবাই জানে, জাতীয় পার্টির সঙ্গে সমঝোতার অংশ হিসেবে আওয়ামী লীগের প্রার্থীকে বসিয়ে দেওয়া হয়েছে। কাজেই পোস্টারে যা লেখা হয়েছে, সেটি অসত্য নয়।
করিমগঞ্জ ও তাড়াইল উপজেলা নিয়ে গঠিত কিশোরগঞ্জ-৩ আসনের রাস্তাঘাটে জাতীয় পার্টির প্রার্থী মো. মুজিবুল হক চুন্নুর পোস্টার দেখা যাচ্ছে। লাঙ্গল প্রতীক নিয়ে তিনি নির্বাচন করছেন। পোস্টারের এক জায়গায় লেখা রয়েছে, ‘জাতীয় পার্টির মনোনীত ও আওয়ামী লীগ সমর্থিত সংসদ সদস্য প্রার্থী’। ‘আওয়ামী লীগ সমর্থিত’ লেখাটি নিয়ে বিপত্তি দেখা দিয়েছে আওয়ামী অঙ্গনে।
প্রসঙ্গত, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী ছিলেন করিমগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক নাসিরুল ইসলাম খান আওলাদ। তিনি উপজেলা চেয়ারম্যান পদ ছেড়ে প্রার্থী হন। পরে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েও তিনি মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নেন।
জাতীয় পার্টি প্রার্থী মুজিবুল হক চুন্নুর পোস্টার নিয়ে আওলাদ বেশি ক্ষুব্ধ হয়েছেন। এ প্রসঙ্গে শুক্রবার তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘জাতীয় পার্টির সঙ্গে সমঝোতা হওয়ায় এ আসনে ছাড় দেওয়া হয়েছে। তাই বলে তাকে সমর্থন দেওয়া হয়নি। তিনি পোস্টারে আওয়ামী লীগ সমর্থিত লিখে ঠিক করেননি। এটি কোনোভাবে আমরা মানতে পারছি না। এ বিষয়ে তাড়াইল উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আজিজুল হক মোতাহার বলেছেন, এ ধরনের পোস্টার আমাদের বিস্মিত করেছে। চুন্নুকে তো আমরা সমর্থন দিইনি। আমরা বিষয়টি নিয়ে দলীয় ফোরামে কথা বলবো।’
জানা গেছে, কিশোরগঞ্জ-৩ আসনে আওয়ামী লীগের কোনও প্রার্থী না থাকলেও দলটির চার নেতাকর্মী এখানে স্বতন্ত্র হয়ে নির্বাচন করছেন। তারা হলেন– নিউইয়র্ক আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. মাহফুজুল হক (ঈগল), অবসরপ্রাপ্ত মেজর মো. নাসিমুল হক (কাঁচি), কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক লীগের শ্রম বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার গোলাম কবীর ভূঁইয়া (কেটলি) এবং সাবেক ছাত্রলীগ নেতা মো. রুবেল মিয়া (ট্রাক)।
এ প্রসঙ্গে কথা বলতে দুপুর ১২টার দিকে জাপা প্রার্থী মো. মুজিবুল হক চুন্নুকে ফোন দেওয়া হলেও পাওয়া যায়নি।
তবে জেলা জাতীয় পার্টির এক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘এটি ফালতু বিতর্ক। কারণ সবাই জানে, আসনটিতে জাতীয় পার্টির প্রার্থীকে ঘোষণা না দিয়ে হলেও সমর্থন দিয়েছে আওয়ামী লীগ। দলীয় সিদ্ধান্ত মানলে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের তো লাঙ্গলেই ভোট দিতে হবে। আর কেউ যদি দলীয় সিদ্ধান্ত না মানেন, সেটি অন্য বিষয়।’