বরিশাল-৪ (হিজলা-মেহেন্দীগঞ্জ) আসনের দ্বৈত নাগরিকত্বের অভিযোগে মনোনয়ন বাতিল হওয়া ড. শাম্মি আহমেদ এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী পংকজ নাথের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে একজন নিহত এবং ২০ জন আহত হয়েছেন। বরিশাল নগরীর বঙ্গবন্ধু উদ্যানে শুক্রবার দুপুরে আওয়ামী লীগের নির্বাচনি জনসভাস্থলে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত ব্যক্তি বরিশালের হিজলা উপজেলার কুড়ালিয়া গ্রামের বাসিন্দা কোব্বাত সিকদারের ছেলে সিরাজ সিকদার (৫৮)। তিনি ওয়ার্ড কৃষকলীগের সভাপতি।
আহতরা হলেন– হাসান, সিয়াম, হোসেন, শিপন, ইয়াসিন, খোরশেদ, সেকেন্দার, তাজউদ্দিন, আলিম, হাসান বয়াতী, রুহুল, শাহ আলম, জুলহাস ও আলী হোসেনসহ ২০ জন। তারা বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।
এ বিষয়ে হিজলা উপজেলা মৎস্যজীবী লীগের আহ্বায়ক রেজাউর রহমান রাজু বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে দুপুরে আওয়ামী লীগের আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ড. শাম্মি আহমেদের সমর্থকদের বিশাল একটি মিছিল বঙ্গবন্ধু উদ্যানে প্রবেশ করে। সেখানে আগে থেকেই অবস্থান করছিলেন পংকজ নাথ গ্রুপের সমর্থকরা। তারা আকস্মিক হামলা চালায়। হামলায় নিহত সিরাজ মাঠে লুটিয়ে পড়লে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা তাকে মাঠের পাশে শুইয়ে রাখেন। পরে শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে আনা হলে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।’ হামলায় তাদের কমপক্ষে ১৫ জন আহত হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক কবিরউদ্দিন বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে ধারণা করছি, সিরাজ হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। ময়নাতদন্তের জন্য লাশ মর্গে পাঠানো হয়েছে। প্রতিবেদন পেলে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যাবে।’
এদিকে, হাসপাতালের পঞ্চমতলায় সার্জারি ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন পংকজ সমর্থকরা জানান, ড. শাম্মির সমর্থকরা মিছিল নিয়ে বঙ্গবন্ধু উদ্যানে প্রবেশ করে। সে সময় তারা সেখানে অবস্থান করছিলেন। ড. শাম্মি মঞ্চে বক্তৃতা শুরু করার পরপরই তার সমর্থকরা লাঠিসোঁটা নিয়ে হামলা চালায়। হামলায় তাদের ১৫ থেকে ২০ জন আহত হয়েছেন। ১২ জন চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
কোতয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিচুল হক বলেন, ‘সিরাজকে হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। প্রাথমিকভাবে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ধারণা করা হলেও ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর নিশ্চিতভাবে বলা যাবে। এ ঘটনায় আরও বেশ কিছু লোক আহত হয়েছেন। তারা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।’
পংকজ নাথ বলেন, ‘মিছিল নিয়ে প্রবেশের সঙ্গে সঙ্গে হামলা চালানো হয়েছে। লাঠি এবং রড কোথায় পেলো তারা। এটি পরিকল্পিত ঘটনা।’
এ বিষয়ে কথা বলার জন্য ড. শাম্মি আহমেদের মোবাইলে কল দেওয়া হলেও তিনি রিসিভ করেননি।