এরিক এরশাদ বললেন, ‘অর্থের অভাবে মানবেতর দিন কাটছে আমার’

সাবেক রাষ্ট্রপতি ও জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের ছেলে এরিক এরশাদ বলেন, ‘আমি একজন এতিম ছেলে, আমার বাবা নেই। আমার নামে বাবার করে যাওয়া ট্রাস্ট থেকে কোনও টাকা পাচ্ছি না। অর্থের অভাবে মানবেতর দিন কাটছে আমার। ট্রাস্টের টাকা লুটেপুটে খাচ্ছে, আমি চরম অসহায়ত্ববোধ করছি।’

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় রংপুর নগরীর দর্শনা এলাকায় অবস্থিত পৈতৃক বাসভবন পল্লিনিবাসে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন এরিক। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন ঢাকার বাসার কেয়ারটেকার শাহজাদা মিয়া। তার মা বিদিশা এরশাদ সংবাদ সম্মেলনে না এসে দূরে দাঁড়িয়ে ছিলেন।

এ সময় এরিক বলেন, ‘মঙ্গলবার সকালে ঢাকা থেকে মরহুম বাবা এরশাদের কবর জিয়ারত করার জন্য রংপুরে আসি। জিয়ারতের পর নগরীর মাহিগঞ্জ এলাকায় অবস্থিত পল্লিবন্ধু এরশাদ কোল্ডস্টোরেজে যাই মাকে সঙ্গে নিয়ে। সেখানে গেলে বারী মুন্সি, মুকুল ও তার ছেলে মান্নু আমাকে ও আমার মাকে গালিগালাজ করেন। আমাদের কোল্ডস্টোরেজে ঢুকতে দেননি। এমনকি আমাদের দেখে নেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছে। এই কোল্ডস্টোরেজের মালিক আমি, আমাকে ঢুকতে দেবে না, দেখে নেবে! দুই বছর ধরে কোল্ডস্টোরেজে যে আয় হচ্ছে, সেখান থেকে আমাকে এক পয়সাও দেওয়া হচ্ছে না। সব টাকা তারা লুটেপুটে খাচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘তাদের বোঝা উচিত আমি এতিম ছেলে, আমার বাবা নেই। তারা আমার মাকেও গালি দিয়েছে, তার সঙ্গে অশোভন আচরণ করেছে। বিষয়টি আমরা পুলিশকে বলেছি, তারা পূর্ণ সহায়তা করেছে। আমরা আইনগত ব্যবস্থা নেবো।’ এরিক এ ঘটনায় বিচার দাবি করেন।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে এরিক জাতীয় পার্টির রাজনীতি, জি এম কাদের ও রওশন এরশাদের পাল্টাপাল্টি দল করার ব্যাপারে কোনও মন্তব্য করবেন না বলে জানান।

যা বললেন বিদিশা

এরিকের সংবাদ সম্মেলনের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন বিদিশা এরশাদ। তিনি বলেন, ‘প্রয়াত সাবেক রাষ্ট্রপতি এরশাদ একমাত্র সন্তান এরিকের কল্যাণের জন্য তিনি জীবিত থাকাকালে একটি ট্রাস্ট করে যান। যার নাম হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ ট্রাস্ট। রংপুরে পল্লিনিবাস বাসভবন, নগরীর মাহিগঞ্জে একটি কোল্ডস্টোরেজসহ ঢাকায় কিছু সহায়-সম্পদ আছে। এরশাদ যে ট্রাস্টের কমিটি করে গেছেন, তার মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ার পরেও যারা দায়িত্বে ছিলেন তারা এখনও দায়িত্ব হস্তান্তর করছেন না। ফলে আয়-উপার্জন না থাকায় এরিক প্রচণ্ড রকম কষ্টের মধ্য দিয়ে দিন কাটাচ্ছে। তার স্বাভাবিক জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। বারবার বলার পরেও ট্রাস্টের দায়িত্ব এরিককে বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি।’

তিনি আরও বলেন, ‘রংপুর নগরীর মাহিগঞ্জ এলাকায় এরিকের নামে যে কোল্ডস্টোরেজ আছে সেখান থেকে যে আয় হচ্ছে তা তাকে দেওয়া হচ্ছে না। মুকুল এরশাদের  দূরসম্পর্কের চাচা। তিনি কোল্ডস্টোরেজ দেখাশোনা করতেন। বারবার ফোন করলেও ধরেন না। চিঠি দিলে উত্তর দেন না। বাধ্য হয়ে সেখানে গেলে আমাকে ও আমার ছেলেকে গালাগালি করা হয়। আমাদের চলে যেতে হুমকি দেওয়া হয়। আমাকে শ্লীলতাহানি করা হয়েছে। স্থানীয় থানা পুলিশ আমাদের যথেষ্ট সহযোগিতা করেছে। আমরা ঢাকায় গিয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেবো।’

এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘এরিকের চাচা জি এম কাদের দলের চেয়ারম্যান। তাকে পুরো বিষয় জানানো হবে। তিনি কী করেন দেখি।’

এক প্রশ্নের উত্তরে বিদিশা বলেন, ‘আমি হতবাক হয়েছি, আমার ছেলে এরিক একাই সংবাদ সম্মেলন করেছে। বক্তব্য দিয়েছে। সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তর দিয়েছে। আমি দূরে দাঁড়িয়েছিলাম। চাইছিলাম, ওর সমস্যা ওকেই ফেস করাতে। সে করেছে। এ জন্য আমি গর্বিত।’

জাতীয় পার্টির রাজনীতিতে জি এম কাদের ও রওশন এরশাদের পাল্টাপাল্টি দল করার ব্যাপারে তিনি বলেন, ‘রাজনৈতিক ব্যাপারে আমি কোনও মন্তব্য করবো না।’

এদিকে, এরিকের পল্লিনিবাসে আসা উপলক্ষে তোরণ নির্মাণ করে স্বাগত জানানো হয়। তৃণমূল নেতাকর্মীরা উপস্থিত থাকলেও রংপুর জেলা ও মহানগর জাতীয় পার্টির কোনও নেতাকর্মী, এমনকি এরশাদের পরিবারের কাউকে সেখানে দেখা যায়নি। এ ব্যাপারে জেলা ও মহানগর জাপার কোনও শীর্ষ নেতা মন্তব্য করতে রাজি হননি।