ঠাকুরগাঁও সরকারি কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক জিন্নাতুন নাহার বলেন, কয়েক বছর ধরে ছেলেদের তুলনায় মেয়েরা এ কলেজে ভালো ফল করছেন। সবক্ষেত্রেই তারা এগোচ্ছেন কিন্তু সে তুলনায় সমাজে স্বীকৃতি মিলছে না। তিনি বলেন, তবে, অচলায়তন ধীরে ধীরে ভাঙছে। তবুও এখানে নারী অগ্রগতিকে খামচে ধরছে যৌতুক প্রথা, বাল্যবিবাহর মতো সামাজিক ব্যধিগুলো রয়েছে মারাত্মক আকারে। আছে নারীদের সমান কর্মঘণ্টায়ও পুরুষের তুলনায় প্রায় অর্ধেক মজুরির সমস্যা। সমাজে পুরুষদের মানসিকতা বদলানো শুরু হলেও এখনও আছে ব্যপকভাবে পুরুষতান্ত্রিক মানসিকতা!
জগন্নাথপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী হাবিবা জানান , তাকে অভিভাবকরা বিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করলেও অদম্য ইচ্ছায় তিনি পড়াশুনা চালিয়ে যাচ্ছে।
কৃষিপ্রধান এ জেলায় কর্মজীবী নারীদের প্রধান পেশা কৃষিমজুরি। গৌরিপুরের ক্ষেতমজুর হেমবালা (৪৫) ক্ষোভের সঙ্গে জানালেন, পুরুষের সমান কাজ করলেও তাদের মজুরি অর্ধেক। একই অভিযোগ একই পেশার শশীবালা , নন্দনি ও সামসুন্নাহারের।
সমাজকর্মী ও নারীসংগঠক শারমিন বললেন, এ জেলায় যৌতুক ছাড়া কোনও বিয়ে হয় না। যৌতুকপ্রথা এ জেলার রন্ধ্রে রন্ধ্রে ঢুকে পড়েছে। যৌতুক এখানে কোনও নিন্দনীয় কাজ তো নয়ই বরং যে ছেলে যৌতুক নেয় না তার যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়। এ জেলার হাজার হাজার মোটরসাইকেলের শতকরা ৯৫ ভাগ যৌতুক সূত্রে প্রাপ্ত।
সমস্যাগুলোর ব্যাপকতা স্বীকার করলেন জেলা মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তা মোরশেদ আলীও। তিনি বললেন সভা সমাবেশ উঠান বৈঠকের মাধ্যমে এ ব্যপারে সচেতন কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। যৌতুক ও বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে সামাজিক আন্দোলনও গুরুত্বপূর্ণ।
সরকারভাবে অধিকতর নির্দিষ্ট নীতিমালা প্রণয়ন ও পুরুষতান্ত্রিক মনোভাব সমাজ থেকে দূর করার মধ্য দিয়ে এ অবস্থার পরিবর্তন ঘটবে বলে মনে করছেন নারী সংগঠকরা!
/এনএস/এমএনএইচ/