জামালপুরে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি

জামালপুরে যমুনাসহ অন্যান্য নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে।

জামালপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম জানান, শুক্রবার সকাল ১১টায় দেওয়ানগঞ্জের বাহাদুরাবাদ ঘাট পয়েন্টে যমুনা নদীর পানি ২৪ ঘণ্টায় ৪ সেন্টিমিটার বেড়ে বিপদসীমার ৫৫ সেন্টিমিটার এবং সরিষাবাড়ীর জগন্নাথগঞ্জ ঘাট পয়েন্টে ৭ সেন্টিমিটার বেড়ে বিপদসীমার ৯৪ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

তিনি আরও জানান, গত তিন দিন বন্যার পানি হ্রাস পেলেও আবারও পানি বাড়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন দুর্গতরা। পানি কমায় যারা বাড়িঘরে ফিরে গিয়েছিলেন তারা আবারও আশ্রয়কেন্দ্রে আসতে শুরু করেছে। বিস্তীর্ণ এলাকায় বন্যার পানি প্রবেশ করায় প্রতিদিনিই নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। দেওয়ানগঞ্জ, বকশীগঞ্জ, ইসলামপুর, মেলান্দহ, মাদারগঞ্জ ও সরিষাবাড়ী উপজেলার ৫০টি ইউনিয়নের প্রায় তিন লাখ মানুষ পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক জাকিয়া সুলতানা জানান,  বন্যার কারণে তলিয়ে গেছে আট হাজার হেক্টর জমির ফসলি জমি। বন্ধ রয়েছে ১৯টি কমিউনিটি ক্লিনিক, ২শ ৫৯টি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ৮৮টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের পাঠদান।

জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা আলমগীর হোসেন বলেন, ‘বন্যাদুর্গতদের জন্য ১৫টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। বিভিন্ন স্থানীয় ও আঞ্চলিক সড়ক ডুবে যাওয়ায় যাতায়াতে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। দুর্গত এলাকায় খাবার, সুপেয় পানি, শিশুখাদ্য ও গো-খাদ্যের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। দুর্গতদের জন্য ৫শ ৪০ মেট্রিক টন চাল, ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং ৪ হাজার ৫০ প্যাকেট শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়েছে।’