অপহরণের পর মুক্তিপণ আদায় করে অস্ত্র দিয়ে ফাঁসানোর অভিযোগে চট্টগ্রাম-৬ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য এবিএম ফজলে করিম চৌধুরীর বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করা হয়েছে।
সোমবার (১৯ আগস্ট) চট্টগ্রামের অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কাজী শহিদুল ইসলামের আদালতে মামলাটি করেন রাউজানের পশ্চিম গুজরার ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান সিরাজউদ্দৌলা। মামলায় ফজলে করিমকে প্রধান করে মোট ২৭ জনকে আসামি করা হয়। আদালত মামলাটি গ্রহণ করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। বাদীপক্ষের আইনজীবী সবুজ তালুকদার বাংলা ট্রিবিউনকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
মামলায় ফজলে করিম চৌধুরী ছাড়াও অপর আসামিরা হলেন মো শাহাব উদ্দিন, মো. সুজাতুল ইসলাম ফাহিম, টনী বড়ুয়া, লিটন দে, মো. আনোয়ার, মো. মাসুদ, আজম খান, মো. সাদ্দাম, সালাউদ্দিন, সাইফুল ইসলাম লিটন, আবু তৈয়ব প্রকাশ কালা তৈয়ব, জামাল প্রকাশ কালা জামাল, অংশুমান বড়ুয়া, আবদুল মন্নান, মো. আরিফ, মো. সাজ্জাদ, হাবিবুর রহমান, আরিফুল ইসলাম, ইসমাইল, দুলাল, মো. রফিক, মো. কামাল, আবদুল আজিজ, মো. আসলাম, মো. ফারুক ও মো. তানভীর। তারা ফজলে করিমের সহযোগী হিসেবে এলাকায় পরিচিত বলে জানান মামলার বাদী।
মামলার এজাহারে বাদী উল্লেখ করেন, ২০২২ সালের ১২ সেপ্টেম্বর আসামি ফজলে করিমের নির্দেশে বাদীকে অপহরণ করে বাড়ি থেকে তুলে নেওয়া হয়। ওই সময় বাড়ির বিভিন্ন জিনিসপত্র ভাঙচুর ও লুটপাট চালান আসামিরা। পরে বাদীকে দূরে একটি ঘরে আটকে রেখে চুল-দাড়ি কেটে বিবস্ত্র করে ছবি তুলে ফজলে করিমের কাছে পাঠান আসামিরা। এরপর রাতে অস্ত্র-গুলি এনে দেওয়া হয় বাদীকে। পরদিন সকালে পুলিশকে খবর দিয়ে অস্ত্র-গুলিসহ বাদীকে ধরিয়ে দেওয়া হয়। এরপর অস্ত্র মামলায় বাদীকে কারাগারে পাঠানো হয়।
বাদী সিরাজউদ্দৌলা বলেন, ‘আমাকে অপহরণ করে হত্যার চেষ্টা করেছেন আসামিরা। পরে মিথ্যা অস্ত্র মামলায় ফাঁসিয়ে দেওয়া হয়। আসামিদের হাত থেকে বাঁচতে ১৫ হাজার টাকা চাঁদাও দিয়েছি। এরপরও রেহাই পাইনি। আমার মতো রাউজানের শত শত মানুষ ফজলে করিমের অত্যাচারের শিকার হয়েছেন।’