রাঙামাটির নানিয়ারচরে নদীর পানিতে ভেসে গিয়ে তিন বছর বয়সী এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকালে উপজেলার উপজেলার বুড়িঘাট ইউনিয়নের কুকুরমারা এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।
স্থানীয়রা জানান, বুড়িঘাট এলাকার বাসিন্দা সিএনজি অটোরিকশাচালক মৃদুল কুমার চাকমার ছেলে শ্রেষ্ঠ চাকমা বিকালে বন্ধুদের সঙ্গে বাড়ির পাশে খেলছিল। সে সময় শিশুদের চিৎকার শুনে পাশের লোকজন সেখানে আসেন। তখন শ্রেষ্ঠ নদীর স্রোতে ভেসে যায়। পরে এলাকাবাসী শিশুটিকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপেক্সে নিয়ে গেলে দায়িত্বরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিক্যাল অফিসার ডা. আরাফাত হোসেন জানান, শ্রেষ্ঠ চাকমা নামে তিন বছরের এক শিশুকে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আনা হয়। তবে শিশুটি হাসপাতালে আনার আগেই পানিতে ডুবে মারা যায়। কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা করে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এদিকে, জেলার বাঘাইছড়ির বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। নতুন করে আরও কয়েকটি গ্রামে বন্যার পানি প্রবেশ করেছে। কাউখালী উপজেলার ইছামতি ও কাউখালী খালে পানি বেড়ে ডুবে গেছে আশ্রয়ণ প্রকল্পের ২০টি ঘর।
পাহাড়ধসের ঝুঁকি এড়াতে জেলা প্রশাসন ও সেনাবাহিনীর নেতৃত্বে শহরের শিমুলতলী, রূপনগরসহ বেশ কিছু এলাকায় মাইকিং করে আশ্রয় কেন্দ্রে যেতে অনুরোধ করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে অনেকেই আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান নিয়েছেন।
বাঘাইছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শিরিন আক্তার বলেন, ‘উপজেলার বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটেছে। উপজেলার ৮টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার প্রায় ২০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। এখন পর্যন্ত ৫৫টি আশ্রয়কেন্দ্রে খোলা হয়েছে। সেগুলোতে সন্ধ্যা পর্যন্ত এক হাজার ৬৫৫ জন মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন। আশ্রয়কেন্দ্রে রান্না করা খাবার দেওয়া হচ্ছে।’