মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে প্রবেশের সাত বছর পূর্তি উপলক্ষে আশ্রয় ক্যাম্পে গণহত্যা দিবস পালন করেছে রোহিঙ্গারা। এ উপলক্ষে রবিবার (২৫ আগস্ট) ক্যাম্পে বিশাল সমাবেশের আয়োজন করা হয়। দিনটিকে রোহিঙ্গারা কালো দিবস আখ্যা দিয়ে রোহিঙ্গা গণহত্যা দিবস হিসেবে পালন করে আসছে।
রবিবার সকাল ১০টার পর থেকে মুষলধারে বৃষ্টি উপেক্ষা করে উখিয়ার বিভিন্ন ক্যাম্পে সমাবেশে ‘হোপ ইজ হোম’ ক্যাম্পেইন পালন করছেন তারা। হাজার হাজার রোহিঙ্গা ‘মিয়ানমারে গণহত্যা বন্ধ করো, গণহত্যা বন্ধ করো’ স্লোগানে প্রকম্পিত করে সমাবেশস্থল।
হোপ ইজ হোম ক্যাম্পেইন উপলক্ষে সকাল থেকেই রোহিঙ্গারা আশ্রয় ক্যাম্পের ফুটবল মাঠে জড়ো হতে শুরু করে। পোস্টার, প্ল্যাকার্ডে তারা মিয়ানমারে ফিরে যাওয়ার দাবি তুলে ধরে।
সমাবেশে রোহিঙ্গা কমিউনিটি নেতারা বলেছেন, ২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট মিয়ানমারের সামরিক জান্তার গণহত্যার মুখে লাখ লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে এসে আশ্রয় নেয়। সামরিক জান্তা রোহিঙ্গাদের বাড়িঘর পুড়িয়ে দিয়েছে। তারা আরাকানে জাতিগত নিধন চালিয়ে গেছে।
রোহিঙ্গা নেতারা জানান, ২০১৭ সালের পর এ বছর মিয়ানমারের আরাকানে রোহিঙ্গা জাতি দ্বিতীয় গণহত্যার শিকার হচ্ছে। বর্তমানে সে দেশের রাখাইন স্টেটে আরাকান আর্মি রোহিঙ্গাদের ওপর দ্বিতীয় দফা গণহত্যা চালাচ্ছে। দেশে ফিরে যাওয়ার জন্যে এই গণহত্যা দিবসটি পালন করছে রোহিঙ্গারা।
বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে সবচেয়ে বেশি প্রত্যাশা রেখে রোহিঙ্গা নেতাদের অনেকেই বলেন, ‘এই দিনে মিয়ানমার জান্তা সরকার আমাদের ওপর গণহত্যা চালিয়েছে। এই দেশে আর কত বছর থাকবো? আর থাকতে চাই না। আমরা আমাদের স্বদেশে ফিরতে চাই। মিয়ানমার আমাদের দেশ। অনতিবিলম্বে আমাদের নিজ দেশে ফেরত নিতে হবে। বাংলাদেশের প্রতি আমরা কৃতজ্ঞতা জানাই, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে প্রত্যাবাসন সফল করতে দেশটির পাশে থাকতে হবে।’
তারা রাখাইনে রোহিঙ্গাদের ওপর সামরিক জান্তা এবং আরাকান আর্মির গণহত্যা বন্ধে জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের হস্তক্ষেপ কামনা করেন। এ ছাড়া প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ায় যুক্তরাষ্ট্র, জাতিসংঘ, ওআইসি, যুক্তরাজ্য, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, বাংলাদেশসহ দাতা সংস্থার কাছে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ার জন্যে সহযোগিতা কামনা করেন তারা।
সমাবেশে বক্তব্য দেন– রোহিঙ্গা কমিউনিটি নেতা সৈয়দ উল্লাহ, মাস্টার মোহাম্মদ কামাল, মাস্টার রশিদ আহমদ মাস্টার রহমত উল্লাহ প্রমুখ।