কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে নারীকে হেনস্তা ও লাঠি দিয়ে বেধড়ক মারধরের ঘটনায় মামলা হয়েছে। শনিবার দুপুরে কক্সবাজার সদর থানায় ভুক্তভোগী বাদী হয়ে এ মামলা করেন। এতে পুলিশ হেফাজতে থাকা অভিযুক্ত ফারুকুল ইসলাম (২২) ও নয়ন রুদ্র নামের দুই জনসহ অজ্ঞাত ৫-৬ জনকে আসামি করা হয়েছে। মামলার পর পুলিশের হেফাজতে থাকা অভিযুক্ত যুবক ফারুকুলকে গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
মামলার এজাহারে বাদী উল্লেখ করেছেন, ‘বুধবার (১১ সেপ্টেম্বর) রাত ১০টার দিকে কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের সুগন্ধা পয়েন্টে ঘুরতে গেলে ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক দাবি করে ফারুকুল ইসলামসহ একদল যুবক তাকে ঘিরে ধরে। তারা জানতে চায়, রাতে সমুদ্রসৈকতে সাধারণ মানুষকে কেন হয়রানি করি, গালাগাল করি। একপর্যায়ে আমাকে ও সঙ্গে থাকা ছয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা আমার সহপাঠীকে লাঠি দিয়ে উপর্যুপরি বেধড়ক মারধর করে। পরে টানাহেঁচড়া করে কাপড়-চোপড় ছিঁড়ে ফেলে এবং শ্লীলতাহানি করে। এই ঘটনার ভিডিও ধারণ করতে গেলে ১২ হাজার টাকা মূল্যের একটি মোবাইল কেড়ে নিয়ে যায়। একই সঙ্গে এই ঘটনায় মামলা করতে গেলে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দেয়।’
এ বিষয়ে কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জসিম উদ্দিন চৌধুরী জানিয়েছেন, ‘কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে কয়েকজন যুবক কর্তৃক নারীকে প্রকাশ্যে হেনস্তা, অবমাননা ও শারীরিক নির্যাতনের ঘটনা গতকাল শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি জেলা পুলিশের দৃষ্টিগোচর হয়। ঘটনাটির গুরুতর ও স্পর্শকাতর বিবেচনায় পুলিশ সুপারের দিকনির্দেশনায় জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) একটি দল তাৎক্ষণিক মূল অভিযুক্ত যুবক ফারুকুল ইসলামকে শনাক্ত করে ওইদিন রাতে আটক করে। পরে ভিকটিম ফারুকুল ইসলাম ও নয়ন রুদ্রসহ (এজাহার নামীয়) ৫-৬ জন অজ্ঞাত ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করলে সদর থানায় মামলা করা হয়। পরে আসামি ফারুকুলকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। গ্রেফতার আসামি ফারুকুল চট্টগ্রাম জেলার লোহাগড়া উপজেলার চুনতি বড় হাতিয়া এলাকার মৌলনা মাজেদুল ইসলামের ছেলে।’
এর আগে কক্সবাজারের নবাগত পুলিশ সুপার মুহাম্মদ রহমত উল্লাহ বলেছেন, ‘সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক হিজড়াকে লাঠি দিয়ে বেধড়ক মারধরের ভিডিও ভাইরাল হয়। পরে বিষয়টি নজরে আসলে পুলিশ ওই যুবককে হেফাজতে নেয়। এখন তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। হিজড়াদের পক্ষ থেকে সকালে অভিযোগ করার কথা রয়েছে। তাদের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে এটি লিখিত আবেদনের ওপর নির্ভর করবে।’
প্রসঙ্গত, শুক্রবার সকাল থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি ভিডিও ভাইরাল হতে শুরু করে। যেখানে দেখা যায়, সমুদ্রসৈকতে তৃতীয় লিঙ্গের এক ব্যক্তিকে কান ধরে উঠবস করানো হচ্ছে। তাকে লাঠি দিয়ে প্রহার করে সৈকত থেকে চলে যেতে বলা হচ্ছে। তাকে ঘিরে রেখেছে জনা বিশেক যুবক। বেশির ভাগের হাতে ভিডিও ধারণরত মোবাইল ফোন।