নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে ভাড়া বাসার একটি কক্ষ থেকে বৃদ্ধ দম্পতির মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তাদের শরীরে কোনও আঘাতের চিহ্ন নেই। তবে বিষয়টি বেশ রহস্যজনক বলে মনে করছে পুলিশ।
শুক্রবার (১৮ অক্টোবর) সন্ধ্যায় মিজমিজি পাইনাদী রেকমত আলী স্কুলের পাশের এলাকার একটি বাড়ি থেকে তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহতরা হলেন– আবুল কালাম (৬২) ও তার স্ত্রী আমেনা বেগম (৫৭)। আবুল কালাম মিজমিজি বাতানপাড়া এলাকার খলিল মুন্সির ছেলে। তাদের সংসারে মানিক ও ফয়সাল নামে দুই ছেলেসন্তান রয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, স্বামী-স্ত্রী দুজনই দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ ছিলেন। তাদের দুই ছেলে গাড়িচালক। তারা বাবা-মাকে রেখে আলাদা বসবাস করেন।
নিহতদের ছেলে মো. মানিক বলেন, ‘বাবা-মা দুজনে রোগে আক্রান্ত ছিলেন। বাবা বক্ষব্যাধি ও ডায়াবেটিস রোগে এবং মা ক্যানসার ও প্যারালাইসিসে আক্রান্ত ছিলেন। গুলিস্তানে আমাদের নিজস্ব একটি দোকান আছে। এই দোকানের ভাড়া দিয়েই বাবা-মা চলতেন। আর আমরা দুই ভাই পরিবার নিয়ে আলাদা বসবাস করে আসছি। আজ দুপুরে বাড়ির মালিকের ফোন পেয়ে জানতে পারি আমাদের বাবা-মা দুজনই মারা গেছেন। অসুস্থতার ফলে তাদের স্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে। তাদের মরদেহের ময়নাতদন্ত করতে দেবো না।’
এ বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তরিকুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। দুজন একসঙ্গে মারা গেছেন। তবে তাদের শরীরে কোনও আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। ধস্তাধস্তির কোনও আলামতও পাওয়া যায়নি। তবে ময়নাতদন্তের পরে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ বলা সম্ভব হবে।’
নিহতের স্বজনরা ময়নাতদন্ত ছাড়া মরদেহ নিতে চেয়েছে। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘ঘটনাটি বেশ রহস্যজনক। ফলে আইনি প্রক্রিয়ার জন্য আমরা লাশগুলো ময়নাতদন্তে পাঠাবো। এরপর আইনানুগ ব্যবস্থা নেবো।’