দানার প্রভাবে সুন্দরবন উপকূলে বৃষ্টি

ঘূর্ণিঝড় ‘দানা’ মোংলা সমুদ্রবন্দর থেকে ৬৪০ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণপূর্বে অবস্থান করছে। এর প্রভাবে সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার সুন্দরবন সংলগ্ন গাবুরা, পদ্মপুকুর, বুড়িগোয়ালিনীসহ উপকূলীয় এ অঞ্চলের বিভিন্ন এলাকার আকাশ মেঘলা রয়েছে। গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি হচ্ছে উপকূলের বিভিন্ন এলাকায়।

সাতক্ষীরা আবহাওয়া অধিদফতরের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জুলফিকার আলী রিপন বলেন, ‘আজ বুধবার বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট গভীর নিম্নচাপটি ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিয়েছে। এর নাম দেওয়া হয়েছে দানা। উপকূলীয় অঞ্চলে ২ নম্বর স্থানীয় সতর্কতা সংকেত জারি করা হয়েছে। আর এর প্রভাবে সাতক্ষীরা উপকূলের বিভিন্ন এলাকায় আকাশ মেঘলা ও বৃষ্টি হতে পারে। বৃষ্টি বাড়তে পারে সন্ধ্যার পর থেকে।’

তিনি জানান, আগামীকাল বৃহস্পতিবার ও শুক্রবারও বৃষ্টি হতে পারে।

শ্যামনগর উপজেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা শাহিনুল আলম জানান, ঘূর্ণিঝড় ‘দানা’ মোকাবিলায় উপজেলার সরকারি ১০২টিসহ মোট ১৬২টি সাইক্লোন শেল্টার প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এ ছাড়া পর্যাপ্ত শুকনো খাবার মজুত রাখা রয়েছে। জানমালের নিরাপত্তার জন্য দুই হাজার ৯শ ৮০ জন সিপিপি সদস্য রয়েছেন, যাদের মধ্যে অর্ধেক নারী ও অর্ধেক পুরুষ। এ ছাড়াও পর্যাপ্ত অন্যান্য স্বেচ্ছাসেবক প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের শ্যামনগরে কর্মরত এসও প্রিন্স রেজা বলেন, ‘শ্যামনগরে ৩৬০ কিলোমিটারের মতো বেড়িবাঁধ আছে। সেগুলোর মধ্যে ৬-৭টি পয়েন্ট বেশ ঝুঁকিপূর্ণ। এ ছাড়া বেশ কিছু এলাকায় ঝুঁকিপূর্ণ পয়েন্টে কাজ চলছে।’

এ ছাড়া সাতক্ষীরা পানি উন্নয়ন বোর্ড-১-এর নির্বাহী প্রকৌশলী সালাহ উদ্দিন জানান, পাউবো-১-এর আওতায় ৩৮০ কিলোমিটার বেড়িবাঁধের মধ্যে তিন কিলোমিটার অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। তবে, বড় ধরনের দুর্যোগ না এলে বাঁধ ভাঙার সম্ভাবনা নেই।

এদিকে, পশ্চিমবঙ্গ উপকূলে ঘূর্ণিঝড় ‘দানা’ নিয়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। বৃহস্পতিবার (২৪ অক্টোবর) রাতে এটি পশ্চিমবঙ্গ উপকূলে আছড়ে পড়তে পারে বলে সতর্ক করেছে আবহওয়া বিভাগ। এর পরই রাজ্যটিতে টানা চার দিন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং একদিনের জন্য রেল যোগাযোগ বন্ধ ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ। বুধবার ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলো এই খবর জানিয়েছে।