নোয়াখালীতে গ্রামবাসীর সঙ্গে হিযবুত তাওহীদের সংঘর্ষে আটক ১১৩

নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী উপজেলার চাষীরহাট ইউনিয়নের পোরকরা গ্রামে হিযবুত তাওহীদ সমর্থক ও গ্রামবাসীর সংঘর্ষের ঘটনায় এ পর্যন্ত ১১৩ জনকে আটক করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার দুপুরে তাদের আদালতে হাজির করা হলে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন বিচারক।

সোনাইমুড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হানিফুল ইসলাম জানান, সোমবারের ঘটনায় থানায় পৃথক দুটি মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

সোমবার দিনভর হিযবুত তাওহীদ সমর্থকদের সঙ্গে পোরকরা গ্রামবাসীর সংঘর্ষে দুই হিযবুত তাওহীদ সমর্থক ও এক গ্রামবাসী নিহত হন। এ ঘটনায় বিক্ষুব্ধ লোকজন রাতে সড়ক অবরোধ করেন। মধ্যরাত পর্যন্ত সোনাইমুড়ি-লাকসাম আঞ্চলিক মহাসকের বিভিন্ন স্থানে গাছের গুঁড়ি ও ইট ফেলে এবং টায়ার জ্বালিয়ে যানবাহন চলাচলে বাধা সৃষ্টি করেন স্থানীয়রা। এ সময় সড়কের উভয়দিকে দুই শতাধিক যানবাহন আটকা পড়ে।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এস.এম. আশরাফুজ্জামান জানান, গ্রামবাসীর সঙ্গে সংঘর্ষে আহত হিযবুত তাওহীদের ১১৩ জনকে আটক করা হয়। আটককৃতদের মধ্যে ৪৭ জনকে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। বাকিদের জেলা সদরের সুধারাম মডেল থানায় রাখা হয়। আজ তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এছাড়া সংঘর্ষে পুলিশের ওপর হামলা ও তিনজন নিহতের ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে। নিহত তিনজনের লাশ ময়নাতদন্ত শেষে স্বজনদের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।

এদিকে, নোয়াখালী-২ (চাটখিল-সোনাইমুড়ী) এর সংসদ সদস্য এইচ এম ইব্রাহিম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এক সমাবেশে বলেন, যার যার ধর্ম সে পালন করবে, এতে বাধা দেওয়ার অধিকার কারও নাই। যদি কেউ ঘটে যাওয়া ঘটনার পুনরাবৃত্তি করার চেষ্টা করে তাকে আইনের মুখোমুখি হতে হবে।

বর্তমানে এলাকা পুরুষ শূন্য রয়েছে। পরিস্থিতি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে থাকলেও গুমোট অবস্থা বিরাজ করছে।

উল্লেখ্য, স্থানীয় নুরুল হক মেম্বারের পরিবারের সদস্যরা গত কয়েক বছর ধরে হিযবুত তাওহীদের আদর্শ, উদ্দেশ্য নিয়ে এলাকায় তৎপরতা চালিয়ে আসছে। কিন্তু গ্রামবাসী এতে সমর্থন না দেওয়ায় ২০০৯ সালেও হিযবুত তাওহীদ সমর্থকদের সঙ্গে তাদের সংঘর্ষ হয়। হিযবুত তাওহীদের কর্মীরা কয়েক মাস আগে পুনরায় তাদের সাংগঠনিক তৎপরতা শুরু করে। তারা নুরুল হক মেম্বারের বাড়ির সামনে একটি মসজিদ নির্মাণের ঘোষণা দেয়। সর্বশেষ গত ২৪ ফেব্রুয়ারি হিযবুত তাওহীদের সমর্থকরা নুরুল হক মেম্বারের বাড়ির সামনে সমাবেশ করে। সমাবেশে সংগঠনের বর্তমান লক্ষ্মীপুর ও নোয়াখালীর প্রধান হোসাইন মো. সেলিমের ইসলাম বিদ্বেষী বক্তব্যের কারণে গ্রামবাসীর মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। এ কারণে সোমবার এলাকার লোকজন হিযবুত তাওহীদের কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নিকারুজ্জামান বরাবর স্মারকলিপি দেন। পরে বেলা ১১টার দিকে হিজবুত তাওহীদ সমর্থকরা তাদের নিজস্ব সম্পত্তিতে একটি মসজিদ নির্মাণের প্রস্তুতি নিলে এলাকাবাসী এসে বাধা দেন। এ সময় উভয়পক্ষে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে দু’পক্ষে তীব্র উত্তেজনা দেখা দেয় যা দুপুরের পরে সংঘর্ষে রূপ নেয়। সংঘর্ষে প্রতিপক্ষের হামলায় রুবেল ও সোলায়মান ঘটনাস্থলেই নিহত হন। এ সময় হিজবুত তাওহীদ সদস্যদের হামলায় গুরুতর আহত হন মজিবুল। সোনাইমুড়ি উপজেলা হাসপাতালে আনার পর তার মৃত্যু হয়।

অন্যদিকে হোসাইন মো. সেলিম জানান, গ্রামবাসী তাদেরকে ভুল বুঝেছে। তারা জঙ্গিবাদ, ধর্ম ব্যবসায়ী ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে।

/বিটি/টিএন/