কালীগঞ্জের ওসির দাবি

কালীগঞ্জে হোমিও ডাক্তার নিহতের ঘটনায় ‘আইএস’ জড়িত নয়

কালীগঞ্জে নিহত ডাক্তার হাফেজ আব্দুর রাজ্জাক

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে হোমিও ডাক্তার হাফেজ আব্দুর রাজ্জাক (৪০) হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় কালীগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের হয়েছে। এদিকে, ইসলামিক স্টেট (আইএস) জঙ্গিরা এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে একটি ওয়েবসাইটে এমন দাবি করা হলেও কালীগঞ্জ থানার ওসি এ দাবি নাকচ করেছেন।

কালীগঞ্জে ডাক্তার নিহত হওয়ায় পরিবারের আহাজারি

গত সোমবার রাত ১০ টার দিকে কালীগঞ্জ-গান্না সড়কের ইমাম খোমেনী হোমিও  হলের চিকিৎসা কেন্দ্র থেকে ডাক্তার আব্দুর রাজ্জাক বাড়ি ফেরার পথে কৃষি অফিস পাড়ায় অজ্ঞাত দুর্বৃত্তরা তাকে কুপিয়ে হত্যা করে। 

নিহত ডাক্তার ঝিনাইদহ সদর উপজেলার খড়াশুনি গ্রামের হাশেম আলীর ছেলে। তিনি কালীগঞ্জ চাপালী কৃষি অফিস পাড়ায় বাড়ি করে দীর্ঘদিন ধরে সেখানে বসবাস করে আসছিলেন।

এই স্থানে ডাক্তার হাফেজ আব্দুর রাজ্জাককে কুপিয় হত্যা করে দুর্বৃত্তরা

এলাকাবাসী ও পুলিশ জানায়, সোমবার রাত সাড়ে ১০ টার দিকে কালীগঞ্জ-গান্না সড়কের ইমাম খোমেনী হেমিও হলের চিকিৎসা কেন্দ্র থেকে ডাক্তার আব্দুর রাজ্জাক বাড়ি ফিরছিলেন। পথিমধ্যে কৃষি অফিস পাড়ায় অজ্ঞাত দুর্বৃত্তরা তাকে কুপিয়ে রাস্তার ওপর ফেলে রেখে চলে যায়। পরে এলাকাবাসী তাকে উদ্ধার করে কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করলে কর্তব্যরত ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তার পরিবার সদস্যদের আহাজারিতে এলাকার পরিবেশ ভারি হয়ে ওঠে। এলাকাবাসীর মধ্যেও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

নিহতের আরেক ভাই নুর আলী জানান, তার ভাই রাজ্জাক কোনও রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন না। তবে তিনি ইরানের ইমাম খোমেনীর ভক্ত ছিলেন। কারও সঙ্গে তার ভাইয়ের কোন গোলযোগও নেই। কারা কেন তাকে হত্যা করেছে সে বিষয়ে তারা নিজেরাই ভাবতে পারছেন না।

হত্যাকাণ্ডের খবর পেয়ে রাত সাড়ে ১১ টার দিকে ঝিনাইদহ পুলিশ সুপার আলতাফ হোসেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আজবাহার আলী শেখ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।  সে সময় তারা ওই হোমিও হলের মধ্যে  অনেক ইসলামি বই পুস্তক ও পত্রিকা দেখতে পান।

মঙ্গলবার সকালে নিহতের ভাই শওকত আলী বাদী হয়ে অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করে মামলাটি দায়ের করেন। মামলা নং ১১।

কালীগঞ্জে নিহত ডাক্তারের চেম্বার থেকে উদ্ধার করা অনেক ইসলামি বই

কালীগঞ্জ থানার অফিসার-ইন-চার্জ (ওসি) জানান, হত্যাকাণ্ডের রহস্য এখনও উদঘাটন করা সম্ভব হয়নি। তবে হত্যাকারীদের গ্রেফতার করতে থানা পুলিশসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এখন মাঠে রয়েছেন।

নিহত ডাক্তারের চেম্বার পরিদর্শন করছেন পুলিশ কর্মকর্তারা

বিদেশি একটি ওয়েবসাইটে এই হত্যাকাণ্ড ইসলামিক স্টেট (আইএস) জঙ্গিদের দ্বারা সংঘটিত হয়েছে এমন দাবির কথা জানালে ওসি আনোয়ার হোসেন এ দাবি নাকচ করে বলেন, এই এলাকায় কোনও আইএস জঙ্গি নেই। তাই আইএস এর দ্বারা এ ঘটনা ঘটতে পারে না। তবে হত্যার রহস্য এখনও উদঘাটিত হয়নি।  

 উল্লেখ্য, এর আগে গত ৭ জানুয়ারি ঝিনাইদহ সদর উপজেলার গান্না ইউনিয়নের বেলেখাল বাজারে জমির উদ্দীন খাজা (৬৫) নামের এক হোমিও চিকিৎসককে ছুরিকাঘাত করে হত্যা করা হয়।

/টিএন/