কুমিল্লা আদালত প্রাঙ্গণে সাবেক আইজিপি ও এক যুগ্মসচিবসহ তিন জনের ওপর হামলার চেষ্টা করেছে সাধারণ জনতা। রবিবার (১১ নভেম্বর) বেলা ১১টায় কঠোর নিরাপত্তায় দুজনকে কুমিল্লা চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের এজলাসে ওঠানো হয়। ফিরতি পথে তাদের হামলার চেষ্টা করে সাধারণ মানুষ। এ সময় কিল-ঘুষির ঘটনাও ঘটে।
সরেজমিন দেখা গেছে, বেলা ১১টার কিছু আগে-পরে দুটি পুলিশের গাড়ির মাঝে একটি প্রিজন ভ্যানে করে তিন আসামিকে আনা হয়। এ সময় মাথায় হেলমেট ও বুকে জ্যাকেট পরানো অবস্থায় তাদের দেখা গেছে। আদালত চত্বরে আনলে অর্ধশতাধিক পুলিশ সদস্য এবং বিভিন্ন বাহিনীর সদস্যরা কঠোর নিরাপত্তায় তাদের চারতলার এজলাস ওঠান। সে সময় এজলাসের সামনে দুই শতাধিক বিএনপি ও জামায়াতপন্থি আইনজীবী উপস্থিত ছিলেন। কঠোর নিরাপত্তা দিতে এজলাসের বাইরে অর্ধশত পুলিশকে পাহারা দিতে দেখা যায়।
পরে বেলা ১১টা ৫০ মিনিটে আসামিদের এজলাস থেকে বের করতে শুরু করে পুলিশ। এ সময় উপস্থিত আইনজীবীরা ও সাধারণ মানুষ ‘ভুয়া’ ‘ভুয়া’ দুয়োধ্বনি দিতে থাকেন। অনেককে ‘খুনি’ ‘খুনি’ স্লোগানও দিতে শোনা যায়। পরে কঠোর নিরাপত্তায় তড়িঘড়ি করে তাদের নিচতলায় নামানো হয়।
নিচতলার প্রধান ফটকের পাশে হামলার চেষ্টা করে সাধারণ মানুষ। সেখানে শখানেক আইনজীবী ও সাধারণ জনতার উপস্থিতি দেখা যায়। এ সময় এক ব্যক্তিকে হাতে থাকা নথির ফাইল দিয়ে সাবেক আইজিপি শহিদুল হকের মাথায় বাড়ি দিতে দেখা যায়। এ ছাড়াও কিল ঘুষি মারতে দেখা যায় অনেককে। এর মাঝেই পুলিশ তড়িঘড়ি করে প্রিজন ভ্যানে উঠিয়ে নেয় তাদের। মুহূর্তেই আদালত চত্বর ছেড়ে যায় প্রিজন ভ্যান। ছাড়ার সময় শতাধিক লোকজনকে প্রিজনভ্যানের পেছনে ‘ধর’ ‘ধর’ বলে দৌড়াতে দেখা যায়।
এ বিষয়ে জানতে কোর্ট পুলিশের পরিদর্শক মুজিবুর রহমানের মোবাইল ফোনে কল দিলেও তিনি রিসিভ করেননি।
কুমিল্লা জেলা পিপি কায়মুল হক রিংকু বলেন, ‘তারা (আসামিরা) নরপিশাচ। দেশের একজন সাবেক প্রধানমন্ত্রীসহ প্রবীণ রাজনৈতিক ব্যক্তিদের হয়রানি সাধারণ জনগণ মেনে নিতে পারে না। তারপরেও তাদের নিরাপদে বের করে নিয়ে গেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।’