রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) শিমুল (২১) নামে এক বহিরাগত শিক্ষার্থীর রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় রাজশাহী-ঢাকা মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করছেন স্থানীয়রা। শুক্রবার (২৪ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন বিনোদপুর বাজারের সড়কে অবস্থান নেন তারা।
বিক্ষোভকারীরা বলছেন, তারা শিমুলের রহস্যজনক মৃত্যুর সুষ্ঠু তদন্ত চান। সুষ্ঠু তদন্ত না হওয়া পর্যন্ত রাজপথ ছাড়বেন না।
বিক্ষোভরত রাজশাহী কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের হাবিবুর রহমান মুক্তা বলেন, ‘গতকাল আমাদের ভাইকে যারা মেরেছে, আমরা তার সুষ্ঠু বিচার চাই। আজ আমার ভাইকে মারা হলো, কাল আবার অন্য ভাইকে মারা হবে– এটি আমরা মেনে নেবো না। এটি পরিকল্পিতভাবে করা হয়েছে। আর রাবি শিক্ষার্থীদের দ্বারা এটি ধামাচাপা দেওয়া হচ্ছে। যতক্ষণ পর্যন্ত এর সুষ্ঠু তদন্ত না হবে, ততক্ষণ পর্যন্ত আমরা আন্দোলন চালিয়ে যাবো।’
বিক্ষোভকারী আরেক স্থানীয় বলেন, ‘আমাদের দাবি, আমাদের ওপর থেকে বহিরাগত ট্যাগ সরাতে হবে। আজ আমাদের কর্মসূচির প্রধান উদ্দেশ্য হলো, আমরা শিমুল হত্যার সুষ্ঠু বিচার চাই। আর ভবিষ্যতে যেন এই ধরনের কোনও ঘটনা না ঘটায় প্রশাসন। আজ শিমুলের ওপর আক্রমণ চালিয়েছে, কাল অন্য কারও ওপর চালাবে। এর আমরা সুষ্ঠু বিচার চাই।’
বৃহস্পতিবার (২৩ জানুয়ারি) রাত সাড়ে ১০টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের জগদীশ চন্দ্র বসু একাডেমিক ভবনের পাশে শিমুল নামে রাজশাহী কলেজের ওই শিক্ষার্থীর রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। শিমুল নগরীর মতিহার থানাধীন মধ্য মেহেরচন্ডী বুধপাড়া এলাকার জামাল মিয়ার ছেলে।
শিমুলের মৃত্যু নিয়ে এখন পর্যন্ত ধোঁয়াশা চলছে। একাধিক সূত্রে এখন পর্যন্ত তিন ধরনের তথ্য পাওয়া গেছে। ডাক্তার বলছেন, মাথায় রক্তক্ষরণে শিমুল মারা গেছেন। তার শরীরে কোনও আঘাতের চিহ্ন বা রক্তের দাগ পাওয়া যায়নি। তবে তার পরিবারের দাবি, তাকে মারধর করে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এদিকে, প্রক্টর বলছেন, মোটরসাইকেল নিয়ে পালানোর সময় দুর্ঘটনা ঘটেছে।