বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় (ববি) সংলগ্ন খয়রাবাদ ব্রিজের ঢালে বাসশ্রমিকরা শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালিয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এতে তিন জন আহত হলে বরিশাল-ঢাকা-কুয়াকাটা মহাসড়ক অবরোধ করে শিক্ষার্থীরা। দুর্ভোগে পড়েন দূর-দূরান্তের যাত্রী এবং যানবাহন সংশ্লিষ্টরা। তবে সেনাবাহিনীর হস্তক্ষেপে এক ঘণ্টা পর স্বাভাবিক হয় যান চলাচল। শনিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
আহত শিক্ষার্থীরা হচ্ছেন– লোকপ্রশাসন বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের তানজিল আজাদ এবং একই বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের তরিকুল ইসলাম আজমাইন ও রবিউল ইসলাম। তারা শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।
আহতরা জানিয়েছেন, খয়রাবাদ ব্রিজের ঢালে প্রতিদিন চেকপোস্ট বসায় বাস মালিক সমিতি। সেখান থেকে কোনও ধরনের থ্রিহুইলার চলাচল করতে দেয় না। সকালে ওই স্থান থেকে থ্রিহুইলার অতিক্রমকালে চেকপোস্টে থাকা বাসশ্রমিকরা তাদের বাধা দেন। এক পর্যায়ে যাত্রীদের মারধর শুরু করেন। এ নিয়ে দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ বাঁধলে শিক্ষার্থীরা পরিস্থিতি সামাল দিতে যান। কিন্তু বাসশ্রমিকরা উল্টো তাদের ওপর হামলা চালিয়ে আহত করেন। এ ঘটনার সংবাদ ক্যাম্পাসে পৌঁছালে হোস্টেলে থাকা শিক্ষার্থীরা মহাসড়কে এসে অবরোধ করেন। পরে সেনাবাহিনী এসে হামলাকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিলে তারা মহাসড়ক ছেড়ে দেন।
এ ব্যাপারে বরিশাল জেলা বাস মালিক গ্রুপের আহ্বায়ক জিয়া উদ্দিন সিকদার বলেন, ‘মহাসড়কে থ্রিহুইলার চলাচল উচ্চ আদালত থেকে নিষেধ করা হয়েছে। তারপরও থ্রিহুইলার মহাসড়কে যাত্রী বহন করে আসছে। এতে বাস মালিকরা আর্থিকভাবে ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন। এ কারণে খয়রাবাদ এলাকায় চেকপোস্ট বসানো হয়। সেখানে থ্রিহুইলার যাত্রী বহন করায় যাত্রীদের নামিয়ে দিয়ে থ্রিহুইলার চালককে চলে যেতে বলা হয়। এরপর থ্রিহুইলারের চালকরা একত্র হয়ে বাসশ্রমিকদের ওপর হামলা চালায়। বাসশ্রমিকের কেউ শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালাননি বলে দাবি করেন তিনি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. সোনিয়া খান সনি জানান, শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনার পর মহাসড়ক অবরোধের খবর পেয়ে তিনি দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যান। সেখানে সেনাবাহিনী ও পুলিশের উপস্থিতিতে যাত্রীদের ভোগান্তির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে শিক্ষার্থীরা মহাসড়ক ছেড়ে দেন। হামলাকারীদের বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছে বলে জানান তিনি।
বরিশাল মেট্রোপলিটন বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘থ্রিহুইলার ও বাসশ্রমিকদের মধ্যে সংঘর্ষ থামাতে গিয়ে শিক্ষার্থীরা আহত হন। সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে হামলাকারীদের শনাক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’