আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে টেকনাফের চারটি ইউনিয়নে ৩৬টি ভোট কেন্দ্রের মধ্যে ২০টিকে ঝুঁকিপূর্ণ বলে চিহ্নিত করেছে পুলিশ।
জানা গেছে, আগামীকাল ২২ মার্চ টেকনাফ বাহারছড়া, টেকনাফ সদর, সাবরাং ও সেন্টমার্টিন ইউনিয়নে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এই চার ইউনিয়নে নিবার্চনে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও মূল প্রতিদ্বন্দ্বি বিএনপিতে একাধিক প্রার্থী থাকায় সংঘর্ষের আশঙ্কা করছে পুলিশ। এর মধ্যে টেকনাফ সদর ইউনিয়ন ও সাবরাং ইউনিয়নের অর্ধেকের বেশি কেন্দ্রে সংঘর্ষের আশঙ্কা রয়েছে।
টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবদুল মজিদ জানান, টেকনাফ উপজেলার চারটি ইউনিয়নের ৩৬টি ভোট কেন্দ্রের মধ্যে ২০টি কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ চিহ্নিত করা হয়েছে। এইসব কেন্দ্রের নিরাপত্তার জন্য একজন এসআইয়ের নেতৃত্বে পুলিশের ৯ জন করে সদস্য বরাদ্দের জন্য পুলিশ সুপার কার্যালয়ে জানানো হয়েছে। তবে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন করতে ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে অতিরিক্ত নিরাপত্তার পাশাপাশি গোয়েন্দা নজরদারি থাকবে বলেও জানান তিনি।
ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলো হচ্ছে- টেকনাফের সাবরাং ইউনিয়নের আল হোসাইনিয়া এবতেদিয়া মাদ্রাসা, কাটাবনিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, হাজী নবী হোসেন উচ্চ বিদ্যালয়, নোয়া পাড়া, শাহপরীর দ্বীপ মাঝার পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, শাহপরীর দ্বীপ উত্তর পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, শাহপরীর দ্বীপ হাজী বশির আহমদ উচ্চ বিদ্যালয়। টেকনাফ সদর ইউনিয়নের লম্বরী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, লেঙ্গুরবিল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, পল্লান পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মহেষখালীয়া পাড়া কাশেমুল উলুম দাখিল মাদ্রাসা, কচুবনিয়া নুরানী মাদ্রাসা, বড় হাবিব পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। বাহাছড়া ইউনিয়নে শামলাপুর উচ্চ বিদ্যালয়, উত্তর শীলখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও দক্ষিণ শীলখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। সেন্টমার্টিন ইউনিয়নে জিনজিরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, সেন্টমার্টিন ওয়াবাদা ভবন, কোণার পাড়া, মাঝার পাড়া।
টেকনাফ সদর ইউনিয়নের পল্লান পাড়ার বাসিন্দা মো.আবদুল্লাহ ও সাহাব উদ্দিন জানান, প্রকাশ্যে যেভাবে হামলা ও হুমকি-ধামকি শুরু হয়েছে, আমরা ভোট কেন্দ্রে যেতে পারব কিনা সন্দেহ রয়েছে। সাবরাং ইউনিয়নের শাহপরীর দ্বীপ ৮ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার প্রার্থী আবু ফয়েজ জানান, শাহপরীর দ্বীপ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র অতি ঝুঁকিপূর্ণ। একজন প্রার্থী এখন থেকেই ভোটারদের হুমকি-ধামকি দিচ্ছেন।
টেকনাফ উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও রিটার্নিং কর্মকর্তা নুরুল ইসলাম জানান, টেকনাফ উপজেলায় ৬টি ইউনিয়নের মধ্যে চারটিতে আগামীকাল ২২ মার্চ নিবার্চন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। বাকি দুই ইউনিয়নে আগামী ২৭ মার্চ নিবার্চন অনুষ্ঠিত হবে ।
তিনি বলেন, নির্বাচনে দলীয় মনোনীত এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীদের তৎপরতা বেড়েছে। তবে ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রের নিরাপত্তায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কঠোর ভূমিকা পালন করবে।
/বিটি/টিএন/