বরিশাল সিটি করপোরেশন (বিসিসি) বকেয়া বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ না করায় পানি শোধনাগার দুটি ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্টে নতুন করে বৈদ্যুতিক সংযোগ দিচ্ছে না বিদ্যুৎ বিভাগ। ফলে ট্রিটমেন্ট প্লান্ট নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগ প্লান্ট দুটি চালু করতে পারছে না। এতে করে নগরবাসীর দীর্ঘদিনের পানির সমস্যার সমাধান হচ্ছে না।
জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর ও বরিশাল সিটি করপোরেশন সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ সরকারের অর্থায়নে পানি সরবরাহ, স্যানিটেশন ও ড্রেনেজ প্রকল্পের আওতায় স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের অধীনে তৎকালীন সিটি মেয়র শওকত হোসেন হিরণ ২০১২ ও ২০১৩ সালে নগরবাসীর পানির চাহিদা মেটাতে বরিশাল কীর্তনখোলা নদীর পাড়ে দুটি সারফেজ ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট নির্মাণের কাজ শুরু করেন।
বরিশাল সিটি করপোরেশনের পানি-বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মনিরুল ইসলাম স্বপন জানান, বিসিসি’র পাঁচ লাখ নগরবাসীর জন্য পাঁচ কোটি ৫০ লাখ লিটার বিশুদ্ধ পানির প্রয়োজন। যার অনুকূলে সিটি করপোরেশন বর্তমানে উৎপাদন করতে পারছে দুই কোটি ৫০ লাখ ৫০ হাজার লিটার পানি।
ধারণ ক্ষমতা না থাকায় নগরীর বর্ধিত এলাকার বিশাল এক অংশ বাদ দিয়ে বর্তমানে সরবরাহ করা হচ্ছে এক কোটি ৫০ লাখ লিটার পানি।
নগরীর উত্তরাংশের বেলতলায় ১৯ কোটি টাকা ব্যয়ে এবং নগরীর দক্ষিণাংশের রুপাতলীতে ২৪ কোটি টাকা ব্যয়ে দুটি সারফেজ ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট এর কাজ শেষ হয়েছে। এগুলো চালু করা গেলে পানির চাহিদার অন্তত ৭৫ ভাগ পূরণ করা যেত। কিন্তু বিদ্যুৎ সংযোগের অভাবে নির্মিত সারফেস ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট চালু করা যাচ্ছে না।
বরিশাল জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শহীদুল আলম জানান, কীর্তনখোলা নদীর পানি নিয়ে ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্টে শোধন করে প্রতিদিন তিন কোটি লিটার পানি সরবরাহ করা সম্ভব। কিন্তু ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির (ওজোপাডিকো) বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ-১ ও ২ সিটি করপোরেশনের কাছে বকেয়া পাওনার দাবিতে বিদ্যুৎ সংযোগ না দেওয়ায় প্লান্ট দুটি চালু করা সম্ভব হচ্ছে না। এ নিয়ে বরিশাল বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে বৈঠক হলেও সঙ্কটের সমাধান হয়নি।
এ বিষয়ে বিসিসি’র মেয়র আহসান হাবিব কামাল বলেন, বকেয়া বিদ্যুৎ বিলের ঘটনাটি আমার আমলে ঘটেনি। এটা ২০০৮ সালের দিকের ঘটনা।
তিনি বলেন, আমার আমলে যখন যে বিল এসেছে তা দিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছি। এখন পর্যন্ত এক কোটি টাকার মতো বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করেছি। তবে নগরবাসীর পানির চাহিদা মেটাতে এবং ক্রম-হ্রাসমান ভূগর্ভস্থ পানির স্তর সংরক্ষণে সারফেস ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট চালুর বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে বলে জানান তিনি।
সিটি করপোরেশনের বিদ্যুৎ বিভাগের সহকারী প্রকৌশলী ওমর ফারুক জানান, ওজোপাডিকোর পাওনার মধ্যে বিপুল অঙ্কের ভৌতিক বিল রয়েছে। বিলগুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে সংশোধন করে দিতে বলা হলেও তারা তা দিচ্ছে না। ফলে করপোরেশনও বকেয়া বিল পরিশোধ করতে পারছে না।
ওজোপাডিকোর বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ-২-এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আমজাদ হোসেন বলেন, সিটি করপোরেশনের কাছে পানির পাম্প ও সড়ক বাতির বিল বাবদ ওজোপাডিকোর দুটি বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগের বকেয়া পাওনা রয়েছে প্রায় ২২ কোটি টাকা। করপোরেশন প্রতিমাসে ১০ শতাংশ করে বিল পরিশোধের ওয়াদা করলেও পরে তা রক্ষা করেনি। যে কারণে নতুন করে সিটি করপোরেশনকে কোনও সংযোগ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।
তবে ভৌতিক বিলের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ওজোপাডিকোর নির্বাহী প্রকৌশলী আমজাদ হোসেন।
/বিটি/টিএন/