দীর্ঘদিন ধরে দেশে আইপিএল, বিপিএলসহ বিভিন্ন অনলাইন ওয়েবসাইটের মাধ্যমে জুয়া খেলে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়া চক্রের আটক ছয় সদস্যকে শুক্রবার আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।
শুক্রবার রাত পৌনে ৯টার দিকে জেলা পুলিশের মিডিয়া সেল থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
যশোরের ডিবি পুলিশের সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন সেল বৃহস্পতিবার রাতে যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার হাজেরআলী মোড়ের আব্দুল মান্নানের বাড়ির দুইতলার ফ্লাট থেকে তাদের আটক করে।
আটককৃতরা বিভিন্ন জুয়া এজেন্সির এজেন্ট হিসেবে কাজ করতো। তারা হলো– ঝিকরগাছা উপজেলার লাউজানী গ্রামের আব্দুর রাজ্জাকের দুই ছেলে নাজমুল ওয়াহিদ মিল্লাত ও নাজমুল শাহাদৎ, শার্শা উপজেলার বাগুরী গ্রামের হাবিবুর রহমানের ছেলে মাহাবুবুর রহমান মাসুম, সাতক্ষীরা সদর উপজেলার আমতলা গ্রামের আনারুল ইসলামের ছেলে আসাদুল ইসলাম, একই গ্রামের মনিরুল হুদার ছেলে মোহাম্মদ জাহিদ হাসান এবং যশোর সদরের বড়মেঘলা গ্রামের আলমগীরের ছেলে তারেক রহমান।
একইসঙ্গে তাদের কাছ থেকে জুয়ার কাজে ব্যবহৃত ৫টি ল্যাপটপ, ১০টি মোবাইল ফোন, দুটি ট্যাব, তিনটি হার্ডডিস্ক, ৩০টি মোবাইল সিম, বিকাশের এজেন্ট অ্যাকাউন্টে থাকা দুই লাখ ৬৩ হাজার টাকা জব্দ করা হয়েছে।
ডিবি পুলিশের ওসি মঞ্জুরুল হক ভুঞা বলেছেন, আটককৃতরা ভার্চুয়াল কারেন্সির মাধ্যমে জুয়া খেলার আয়োজন করে আসছিল। অবৈধভাবে ই-ট্রানজ্যাকশনের মাধ্যমে বিদেশে অর্থ পাচার ও যুবসমাজের নৈতিক অবক্ষয়ের অভিযোগ ছিল তাদের বিরুদ্ধে। তারা দীর্ঘদিন ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক ও হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহার করে বিভিন্ন মেসেঞ্জার গ্রুপে লোভনীয় প্রচারণা চালানো তাদের পেশা। এ ক্ষেত্রে তারা একাধিক আইডি ব্যবহার করেন। অল্প সময়ে প্রচুর অর্থ উপার্জনের লোভ দেখিয়ে যুবসমাজকে অনলাইন বেটিংয়ে আসক্ত করে। এ ছাড়া আইপিএলকে কেন্দ্র করে তারা বড় মিশনে নেমেছে– এমন একটি খবর আসে পুলিশের কাছে। বিষয়টি নিয়ে কাজ শুরু করে সাইবার ক্রাইম ইউনিটের এসআই শিবু মন্ডলের নেতৃত্বে একটি টিম। তারা ঝিকরগাছা থেকে এ চক্রের ছয় সদস্যকে আটক করে শুক্রবার আদালতে সোপর্দ করে। বিচারক তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।