মাগুরার সেই শিশু ধর্ষণ ও হত্যা মামলা: শেষ হলো সাক্ষ্যগ্রহণ 

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের দুই চিকিৎসকের সাক্ষ্যগ্রহণের মধ্যে দিয়ে শেষ হলো মাগুরার চাঞ্চল্যকর শিশু ধর্ষণ ও হত্যা মামলার রাষ্ট্রপক্ষের শুনানি। এ নিয়ে মামলায় বাদীসহ মোট ২৯ জনের সাক্ষ্য নেওয়া হলো।

বুধবার (৭ মে) জেলার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক এম জাহিদ হাসানের আদালতে শেষ হয় এ সাক্ষ্যগ্রহণ।

এর আগে সকালে ঝিনাইদহ জেলা কারাগার থেকে প্রধান অভিযুক্ত হিটু শেখসহ সব আসামিদের আদালতে হাজির করা হয়।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মনিরুল ইসলাম মুকুল বলেন, ‘আমরা অবগত আছি মাগুরাতে চাঞ্চল্যকর শিশু হত্যা মামলার বিচারকাজ চলছে। সাক্ষ্যগ্রহণের শেষ দিনে আজ আদালতে আমরা দুই জন সাক্ষীকে উপস্থাপন করেছিলাম। তারা দুজন ঢাকা মেডিক্যালের ফরেনসিক বিভাগের, যারা ময়নাতদন্ত করেছেন।’

রমজানের ছুটিতে শহরের নিজনান্দুয়ালী এলাকায় বোনের বাড়িতে বেড়াতে গিয়ে গত ৫ মার্চ রাতে শিশুটি ধর্ষণের শিকার হয়। বোনের শ্বশুর হিটু শেখ তাকে ধর্ষণের পর হত্যার চেষ্টা করে। এ ঘটনায় হিটু শেখকে প্রধান আসামি করে মামলা করেন শিশুটির মা। এ মামলায় ১৩ এপ্রিল পুলিশ চার্জশিট দাখিল করা হয়। পরে ২৩ এপ্রিল অভিযোগ গঠনের মধ্যে দিয়ে বিচারকাজ শুরু হয়।

মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, গত ১ মার্চ শিশুটি নিজ বাড়ি থেকে বড় বোনের শ্বশুরবাড়িতে বেড়াতে যায়। ৬ মার্চ বেলা সাড়ে ১১টার দিকে তাকে অচেতন অবস্থায় মাগুরা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে ১৩ মার্চ ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয়। ওই দিন সন্ধ্যায় হেলিকপ্টারে মরদেহ মাগুরায় আনা হয়। জানাজার পর উত্তেজিত জনতা শিশুটির বোনের শ্বশুরবাড়িতে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেন। এর আগে ৮ মার্চ শিশুটির মা মাগুরা সদর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে মামলা করেন। মামলায় চার জনকে আসামি করা হয়। বর্তমানে কারাগারে রয়েছে তারা সবাই।