কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী ও নাগেশ্বরী সীমান্তের তিনটি পয়েন্ট দিয়ে আরও ২৪ জন নারী-পুরুষকে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ঠেলে দিয়েছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী-বিএসএফ। মঙ্গলবার (২৭ মে) ভোরে তাদের বাংলাদেশে ঠেলে দেয় বিএসএফ। আটক ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার চেষ্টা করছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। এ ঘটনায় বিএসএফের সঙ্গে পতাকা বৈঠকের আহ্বান জানিয়েছে বিজিবি।
কুড়িগ্রাম বিজিবি ২২ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মাহাবুবুল হক এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন। বিজিবি ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার ভোর রাতে ভূরুঙ্গামারী উপজেলার সোনাহাট ও বাবুরহাট সীমান্ত এবং নাগেশ্বরী উপজেলার কেদার সীমান্ত পথে ২৪ জন নারী-পুরুষকে বাংলাদেশ ভূখণ্ডে ঠেলে দেয় বিএসএফ। পরে তাদের আটক করে সংশ্লিষ্ট ক্যাম্পে নেয় বিজিবি। তারা কোন দেশের নাগরিক তা মঙ্গলবার বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত নিশ্চিত হতে পারেনি বিজিবি। পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার জন্য তথ্য যাচাই-বাছাই করছে বিজিবি।
লেফটেন্যান্ট কর্নেল মাহাবুবুল হক বলেন, ‘২৪ জন নারী-পুরুষকে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ঠেলে দেওয়া হয়েছে। পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার জন্য তাদের আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এ ঘটনায় পতাকা বৈঠক আহ্বান করা হয়েছে।’
এদিকে, মঙ্গলবার ভোরে জেলার রৌমারী উপজেলার ঐতিহাসিক বড়াইবাড়ী সীমান্ত পথে ১৪ জন নারী-পুরুষকে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ঠেলে দিয়েছে বিএসএফ। এ ঘটনায় বিজিবি ও স্থানীয় বাসিন্দারা বাধা দিলে সীমান্তে উত্তেজনা দেখা দেয়। সীমান্তে বিএসএফ গুলি ও ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায় বলে দাবি করেছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঠেলে দেওয়ার নারী-পুরুষদের সবাই ভারতীয় নাগরিক। তাদের মধ্যে ভারতের আসাম রাজ্যের মরিগাঁও জেলার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক রয়েছেন। দীর্ঘ কয়েক ঘণ্টা সীমান্তের শূন্যরেখায় অপেক্ষা করার পরও তাদের ফেরত নেয়নি বিএসএফ। পরে নিরাপত্তার স্বার্থে মঙ্গলবার দুপুরের পর তাদের বড়াইবাড়ী ক্যাম্পে নেয় বিজিবি।