২ পক্ষের সংঘর্ষে একজন নিহতের পর চলছে বাড়িঘর ভাঙচুর-লুটপাট

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার নাকোবাড়িয়া এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দু’পক্ষের সংঘর্ষে মহব্বত আলী নামে এক ব্যক্তি নিহত হওয়ার ঘটনায় এখনও মামলা হয়নি। তবে ওই এলাকায় এখনও চলছে প্রতিপক্ষের বাড়িঘর ভাংচুর ও লুটপাট। এমনকি গোয়ালের গরুও নিয়ে গেছে।

এ ঘটনায় পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা ৯ জনকে আটক করেন। রবিবার দুপুরে তাদের ৫৪ ধারায় আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।

জানা গেছে, সামাজিক আধিপত্য বিস্তার নিয়ে স্থানীয় জামাল ইউনিয়নের নজরুল ইসলাম মোল্লার সঙ্গে অপর পক্ষ আরিফ হোসেনের দীর্ঘদিন বিরোধ চলে আসছিল। এ নিয়ে রবিবার সকালে দুই পক্ষ সংঘর্ষে জড়ায়। এতে মহব্বত আলী গুরুতর আহত হন। পরে ঢাকায় নেওয়ার পথে মারা যান তিনি। মহব্বত আলীকে নজরুল ইসলাম মোল্লার সমর্থক বলে দাবি করা হয়েছে। এরপর নিহতের খবর এলাকায় পৌঁছালে নজরুল ইসলামের সমর্থকরা প্রতিপক্ষের বাড়ি ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটায়। সোমবার এ পর্যন্ত ইউনিয়নজুড়ে প্রায় ৩৫-৪০টি বাড়িতে ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয়েছে। এদিকে হামলা ও গ্রেফতার আতঙ্কে পুরুষশূন্য হয়ে পড়েছে গ্রামগুলো।

এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য লিটন আলী (৪২), মুরাদ বিশ্বাস (৫৪), মেহেদী হাসান (২৬), বাবলু মিয়া (৫০), কামাল হোসেন (৩২), মজিদ (৪০), বরকত আলী মেম্বর (৫৫), ফারুক ও ফিরোজ নামে ৯ জনকে আটক করা হয়েছে।

এদিকে, এলাকাবাসীর অভিযোগ, কয়েকদিন ধরে দু’পক্ষ পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনা ঘটার আশঙ্কার কথা পুলিশকে জানালেও তারা ব্যবস্থা নেয়নি। সংঘর্ষের কিছু সময় আগেও পুলিশকে বিষয়টি জানানো হয়। বাড়িতে ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে তখনও পুলিশ ইউনিয়নে অবস্থান করছিল।

ছোট তালিয়ান গ্রামের তরিকুল ইসলাম বলেন, ‘নজরুল ইসলাম মোল্লার সমর্থক মহব্বত আলীর নিহত হওয়ার খবর এলাকায় পৌঁছালে ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের প্রায় ৩৫-৪০টি বাড়িতে ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয়। এ সময় গরু, ধান ও ঘরের আসবাবপত্র নিয়ে গেছে। বাড়িতে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে খুবই দুশ্চিন্তায় পড়েছি। পানি খাওয়ার একটি গ্লাসও বাড়িতে অবশিষ্ট নেই।’

কালীগঞ্জ থানার ওসি শহিদুল ইসলাম হাওলাদার বলেন, ‘এ ঘটনায় এখনও মামলা হয়নি। আটক ৯ জনকে ৫৪ ধারায় আদালতে পাঠানো হয়েছে। মামলা করলে পুলিশ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।’ তবে সংঘর্ষের আশঙ্কার কথা আগে থেকে কেউ জানায়নি বলে জানান তিনি।