আগামী ২৩ এপ্রিল অনুষ্ঠিতব্য রাঙামাটি জেলার ৪৯টি ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন পিছিয়ে ষষ্ঠ ধাপে নিয়েছে নির্বাচন কমিশন। চেষ্টা করেও সব দলের প্রার্থী এ নির্বাচনে অংশ নিতে না পারায় নির্বাচন কমিশন নির্বাচন পিছিয়ে দিয়েছে। ৪ জুন এসব নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচন কমিশন সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, ৩য় ধাপে নির্বাচনে রাঙামাটি জেলার ৪৯টি ইউনিয়ন পরিষদের মধ্যে ১৮টিতেই ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ, ২৭টিতে বিএনপি কোনও প্রার্থী দিতে পারেনি। দল দু’টির অভিযোগ, সশস্ত্র মহড়ার কারণে এসব ইউনিয়নে কেউ প্রার্থী হতে রাজি হচ্ছেন না। যারা প্রার্থী হচ্ছেন তাদেরকে আঞ্চলিক দলগুলোর সশস্ত্র কর্মীরা হুমকি দিয়ে এলাকাছাড়া করা হচ্ছে।
জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা নাজিম উদ্দীন জানান, রাঙামাটির ৪৯টি ইউনিয়ন পরিষদের মধ্যে চেয়ারম্যান পদে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন জমা দিয়েছেন ১২১ জন। এছাড়াও আওয়ামী লীগের ৩১ জন, বিএনপির ২২ জন, জাতীয় পার্টি (লাঙ্গল) ৫ জন ও ইসলামী আন্দোলনের ৩ জন প্রার্থী চেয়ারম্যান পদে মনোনয়ন জমা দিয়েছিলেন।
আওয়ামী লীগ সূত্র জানায়, রাঙামাটির ৪৯টি ইউনিয়নের মধ্যে রাঙামাটি সদরের ছয়টি ও জুরাছড়ি উপজেলার চারটি ইউনিয়নে কোনও প্রার্থীই দিতে পারেননি। এছাড়া বাঘাইছড়ি উপজেলার আটটি ইউনিয়নের মধ্যে পাঁচটিতে, বরকল উপজেলার পাঁচ ইউনিয়নের মধ্যে একটিতে, নানিয়ারচর জেলার চারটির মধ্যে দুইটিতে কোনও প্রার্থী দিতে পারেনি।
অন্যতম প্রধান দল বিএনপি ৪৯টি ইউনিয়নের মধ্যে মাত্র ২২টিতে প্রার্থী দিতে পেরেছেন। বাকিগুলোতে নির্বাচনের জন্য কেউ আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এরমধ্যে আওয়ামী লীগের মতো রাঙামাটি সদর ও জুরাছড়ির দশটি ইউনিয়নে কোনও প্রার্থী দিতে পারেনি। এছাড়া বরকল উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নের মধ্যে চারটিতে, বাঘাইছড়ি উপজেলার আটটি ইউনিয়নের মধ্যে সাতটি, বিলাইছড়ি উপজেলায় তিনটির মধ্যে একটিতে, কাউখালী উপজেলায় চারটির মধ্যে একটিতে দলীয় প্রার্থী নেই।
অন্যদিকে আওয়ামীলীগ ও বিএনপি থেকে দলীয় মনোনয়ন নিশ্চিত করা হলেও আঞ্চলিক দলগুলো এখনও কোনও প্রার্থীকে সমর্থন দেয়নি। তবে কিছুদিনের মধ্যেই তাদের সমর্থিত প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করা হবে।
এদিকে রাঙামাটি সদর উপজেলার দুটি ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী না থাকায় বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হতে চলেছেন দু’জন স্বতন্ত্র প্রার্থী। এরা হলেন মগবান ইউনিয়ন পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যান বিশ্বজিৎ চাকমা ও জীবতলী ইউনিয়ন পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যান সুদত্ত কার্বারি। এরা দু’জনেই আঞ্চলিক দল জনসংহতি সমিতির সমর্থিত প্রার্থী।
এছাড়াও একই পরিস্থিতির কারণে নৌকার পাশাপাশি ধানের শীষ প্রতীকে সবগুলো ইউনিয়নে প্রার্থী দিতে পারেনি বলে অভিযোগ করেছে বিএনপি।
রাঙামাটিতে ইউপি নির্বাচন মোটেও সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ হওয়ার সম্ভাবনা নেই বলে আশঙ্কা প্রকাশ করে জেলা বিএনপির সভাপতি মো. শাহ আলম বলেন, এখানে যে কোনও নির্বাচনে ‘জোর যার দখল-প্রভাব তার’ সংস্কৃতিতে পরিণত হয়েছে। এবার ইউপি নির্বাচনে ধানের শীষে কেবল ২২ চেয়ারম্যান প্রার্থী মনোনয়ন দেওয়া সম্ভব হয়েছে। বাকি ২৭ ইউনিয়নে অন্য দলগুলোর জোর মোকাবিলায় শক্তিশালী অবস্থান না থাকাতে দলীয় প্রার্থী মনোনয়ন দেওয়া সম্ভব হয়নি। তিনি বলেন, নির্বাচন পিছিয়েও তেমন কোনও পরিবর্তন হবে বলে মনে করি না।
রাঙামাটি জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. মুছা মাতব্বর বলেন, অবৈধ অস্ত্রের কারণে সন্ত্রাসীরা আওয়ামী লীগের প্রার্থীদের ভয় দেখাচ্ছেন। যারা প্রার্থী হচ্ছেন তাদেরকেও হুমকি দেওয়া হচ্ছে। ইতোমধ্যে কয়েকজন প্রার্থী হুমকির ভয়ে এলাকা ছাড়তে বাধ্য হয়েছে। তিনি সরকারের কাছে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের দাবি জানান। তিনি জানান, মূলত আঞ্চলিক দলগুলোর অস্ত্রবাজির কারণে যেখানে জাতীয় দলগুলোর কোনও প্রভাব নেই সেখানে প্রার্থী দেওয়া যাচ্ছে না। প্রার্থী হলে হুমকি দিয়ে এলাকা ছাড়া করা হচ্ছে। যতদিন এই এলাকা থেকে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার করা যাবে না ততদিন এই এলাকায় সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব হবে না।
তবে ইউপি নির্বাচনে কাউকে বাধা বা হুমকি দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে জেএসএস কেন্দ্রীয় সহ-তথ্য ও প্রচার সম্পাদক সজীব চাকমা বলেন, জেএসএস সব সময় গণতন্ত্রে বিশ্বাসী। সেই বিশ্বাসে তাদের সমর্থিত প্রার্থীরা নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। জেএসএসের বিরুদ্ধে নির্বাচনে কাউকে প্রার্থী হওয়ার বাধা বা হুমকি দেওয়ার অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। সম্ভবত জেএসএসকে বেকায়দায় ফেলতে অসৎ উদ্দেশ্যে এমন মিথ্যা অভিযোগ করা করা হতে পারে বলে মন্তব্য করেন সজীব চাকমা।
/টিএন/