কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার হ্নীলা ইউনিয়নের রঙ্গীখালী পাহাড়ে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) বিশেষ অভিযানে সশস্ত্র ডাকাত দলের সঙ্গে গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। অভিযানে বিপুল পরিমাণ আগ্নেয়াস্ত্র, গোলাবারুদ, মর্টার শেল, হ্যান্ড গ্রেনেড ও বোমা তৈরির উপকরণ উদ্ধার করেছে বিজিবি।
বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) রাতে বিষয়টি নিশ্চিত করেন উখিয়া ব্যাটালিয়ন বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ জসীম উদ্দিন।
বিজিবি সূত্রে জানা যায়, হ্নীলা ইউনিয়নের রঙ্গীখালী পাহাড় ও বাহাড়ছড়া ইউনিয়নের মেরিন ড্রাইভ সংলগ্ন পাহাড়ি এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে কয়েকটি সশস্ত্র ডাকাত চক্র অস্থায়ী ঘাঁটি গড়ে তুলে স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটকদের অপহরণ, গুম, খুন এবং মানবপাচারের মতো গুরুতর অপরাধে জড়িত ছিল। এসব চক্র সীমান্ত এলাকায় মাদক ও চোরাচালান কার্যক্রমেও সম্পৃক্ত ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।
বিজিবি উখিয়া ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক জানান, বুধবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে বিজিবির একটি চৌকস দল তিন স্তরের কৌশলগত পরিকল্পনায় অভিযান শুরু করে। রাত সাড়ে ১০টার দিকে রঙ্গীখালী পাহাড় এলাকায় সন্দেহজনক গতিবিধি লক্ষ করলে বিজিবি সদস্যরা এলাকা ঘিরে ফেলেন।
এ সময় ডাকাত দলটি বিজিবির উপস্থিতি টের পেয়ে গুলি করলে আত্মরক্ষার্থে বিজিবিও পাল্টা গুলি ছোড়ে। একপর্যায়ে ডাকাতরা তাদের অস্থায়ী ঘাঁটি ত্যাগ করে পার্শ্ববর্তী পাহাড়ে পালিয়ে যায়।
পরে বিজিবি সদস্যরা পরিত্যক্ত ঘাঁটিতে তল্লাশি চালিয়ে একটি জি-৩ রাইফেল, রাইফেলের বিভিন্ন অংশ ও ম্যাগাজিন, ওয়ান শুটার গান, এলজি শুটার গান, এমএ-১ (এমকে-২ ভ্যারিয়েন্ট), একনলা গাদা বন্দুক, সিলিং, তিনটি আরজিএস হ্যান্ড গ্রেনেড, একটি মর্টারের গোলা, ১৭ কেজি গান পাউডার, হাতবোমা তৈরির উপকরণ, দেশি অস্ত্রসহ মোট ৩০২ রাউন্ড গুলি এবং ব্যবহৃত খালি খোসা উদ্ধার করে।
বিজিবির প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, উদ্ধার করা এসব অস্ত্র ব্যবহার করেই ডাকাত দলটি দীর্ঘদিন ধরে সীমান্ত এলাকায় বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছিল।
তিনি আরও জানান, দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা ও সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে উখিয়া ব্যাটালিয়ন (৬৪ বিজিবি) সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। ভবিষ্যতেও গোয়েন্দা তথ্যভিত্তিক ও সমন্বিত অভিযান অব্যাহত থাকবে।