চট্টগ্রামে আইনজীবী আলিফ হত্যা: আরও এক আসামি গ্রেফতার

চট্টগ্রাম আদালত এলাকায় আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফ হত্যার ঘটনায় পলাতক আসামি গণেশকে (১৯) গ্রেফতার করেছে র‍্যাব-৭। শনিবার (১০ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় নগরীর কোতয়ালি থানাধীন লালদীঘীর জেলা পরিষদ সুপার মার্কেট এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে তাকে গ্রেফতার করা হয়। আলিফ হত্যায় সরাসরি অংশ নেয় বলে পুলিশের তদন্তে তার নাম উঠে আসে।

গণেশ নগরীর কোতয়ালি থানাধীন সেবক কলোনির শরিফ দাসের ছেলে।

রবিবার (১১ জানুয়ারি) সকালে র‍্যাব-৭-এর সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) এ আর এম মোজাফ্ফর হোসেন এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

আলিফ হত্যা মামলার আইনজীবী ও চট্টগ্রাম আদালতের সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর রায়হানুল ওয়াজেদ চৌধুরী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফ হত্যা মামলায় চার্জশিটভুক্ত অন্যতম আসামি শ্রীগণেশকে র‍্যাব গ্রেফতার করেছে। এই মামলায় মোট ২৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আরও ১৬ জন আসামি পলাতক রয়েছে।’

২০২৪ সালের ২৫ নভেম্বর সম্মিলিত সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র ও ইসকনের বহিষ্কৃত নেতা চিন্ময় দাসকে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে ঢাকা বিমানবন্দর এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়। পরদিন ২৬ নভেম্বর তাকে চট্টগ্রাম আদালতে হাজির করা হয়, আদালত জামিন মঞ্জুর না করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। সে সময় চিন্ময় দাসের অনুসারীরা তার মুক্তির দাবিতে আদালত প্রাঙ্গণে বিক্ষোভ শুরু করেন এবং তাকে কারাগারে নেওয়ায় বাধা প্রদান করেন।

পরে বিক্ষোভকারীরা আদালত চত্বরে বেশ কয়েকটি গাড়ি ও মোটরসাইকেল ভাঙচুর এবং কোর্ট বিল্ডিং কমপ্লেক্সের নিচতলায় অবস্থিত একটি চেম্বার ক্ষতিগ্রস্ত করেন। বিক্ষোভের একপর্যায়ে আদালতের বিপরীত পাশে রঙ্গম কনভেনশন সেন্টার এলাকায় অবস্থানরত আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফকে হত্যার উদ্দেশ্যে বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারী চন্দন, রুমিত দাস, সুমিত দাস, গগন দাস, নয়ন দাস, বিশাল দাস, আমান দাস, সুকান্ত, শ্রী গনেশসহ তাদের সহযোগীরা আলিফকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে নৃশংসভাবে হত্যা করে বলে অভিযোগ ওঠে।

এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নিহত আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফের বাবা জামাল উদ্দিন বাদী হয়ে নগরীর কোতয়ালি থানায় ৩১ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ১০-১৫ জনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

২০২৫ সালের ১ জুন মামলার তৎকালীন তদন্ত কর্মকর্তা, কোতয়ালি জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার মাহফুজুর রহমান ৩৯ জনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন।

গত ২৫ আগস্ট চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট এস এম আলাউদ্দিন মাহমুদের আদালত চার্জশিটের গ্রহণযোগ্যতা শুনানি শেষে ৩৯ আসামির বিরুদ্ধে চার্জশিট গ্রহণ করেন।