বিএনপি থেকে সদ্য বহিষ্কৃত আলোচিত নেত্রী ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য প্রার্থী ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা নির্বাচনি প্রচারণায় প্রশাসনের বাধা দেওয়ার অভিযোগ করেছেন। তাকে বাধা দেওয়া হচ্ছে, অথচ যারা প্রশাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখায় তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না উল্লেখ করে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আপনাদের এইরকম (বৃদ্ধাঙ্গুল উঁচু করে) দেখায়। প্রশাসনে বসে আছেন, আপনারা খোঁজ নিন। সব জায়গায় সভা হচ্ছে। আপনি পারলে থামাতেন। আজকে আমি ভদ্রতা দেখিয়ে থামিয়েছি। নেক্সটাইম এই ভদ্রতাটা করবো না।’
রবিবার বিকালে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার নোয়াগাঁও ইউনিয়নে নির্বাচনি উঠান বৈঠক করেন রুমিন ফারহানা। এ সময় আচরণবিধি ভঙ্গের অভিযোগ করলে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শাহরিয়ার হাসান খানের সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় এসব কথা বলেন তিনি।
এ সময় ক্ষোভ প্রকাশ করে রুমিন ফারহানা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উদ্দেশে বলেন, ‘এক্সকিউজমি স্যার, এক্সকিউজ মি, মাফ করবেন। স্যার, দিস ইজ দ্য লাস্ট টাইম। এটাই এটাই শেষ সময়। এর পর আমি আর এ বিষয়ে শুনবো না।
‘আজকে আমি শুনছি, কিন্তু ভবিষ্যতে আর শুনবো না। আমি যদি না বলি এখান থেকে বের হতে পারবেন না, স্যার। মাথায় রেখেন। আজকে যাদের কথা শুনে আপনারা চলছেন, শেখ হাসিনার সময়ে তারা কানে ধইরা খাটের নিচে থাকতো স্যার। আমি রুমিন ফারহানা আমার কোনও দল লাগে না।’
এ সময় সমাবেশস্থলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে রুমিন ফারহানার সমর্থকরা উত্তেজনা প্রশমন করেন।
পরে সভাস্থল থেকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আচরণবিধি ভঙ্গের অভিযোগে তার সমর্থক মো. জুয়েলকে সমাবেশ আয়োজন করার জন্য ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করেন। জরিমানার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন, সরাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবু বকর সরকার।
এর আগে ওই উঠান বৈঠকে স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য প্রার্থী ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা স্থানীয়দের উদ্দেশে বলেন, ‘আমাদের মা দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া আল্লাহর কাছে মেহমান হয়ে গেছেন। এরপর দল আমাকে বহিষ্কার করে। এখন আবার দল আমাকে সকাল-বিকাল টেলিফোন করে বলে, মন্ত্রিত্ব দিয়ে দেবো আসনটা ছেড়ে দেন। আমার জান থাকতে, আমার শরীরে এক বিন্দু রক্ত থাকতে মন্ত্রিত্ব তো দূরের কথা, আমি সারা দুনিয়ার কারও কথায় কারও জন্য আমার এলাকার এই মানুষদের ছেড়ে যাবো না।’
এ সময় তিনি প্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার কথা স্মরণ করে বলেন, ‘আমি শুধু একটা কষ্টের কথা বলি, যাদের জন্য আমি এই লড়াইটা করেছি, আমার প্রাণের দল, যে দলের হাত ধরে আমার রাজনীতিতে আসা, আমার নেতা তিনবারের প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া। বেগম খালেদা জিয়া আমাকে রাজনীতিতে নিয়ে এসেছেন। তার ভালোবাসায় আশ্রয়ে সহযোগিতায় আমি এতদূর এসেছি।
‘আমার মা বেগম খালেদা জিয়া যেদিন মারা গেছেন, সেইদিন আমি বহিষ্কার হয়েছি। আমার মা জীবিত থাকা অবস্থায় আমাকে বহিস্কার করা যায় নাই। আমার মা দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া হাসপাতালে যাওয়ার দুই দিন আগে (২০ নভেম্বর) বলেছিলেন, “রুমিন আর সোহেলের ব্যাপারটা কী? কেন রুমিনকে মনোনয়ন দেওয়া হলো না।” দল তার কোনও জবাব দিতে পারেন নাই।’
‘প্রিয় এলাকাবাসী, আমি গত ১৭ বছর আমি শক্রপক্ষে ছিলাম, কার জন্য লড়াই করেছি, আপনারা সবাই জানেন। এখন মিডিয়ার যুগ, সবার হাতে হাতে মোবাইল ফোন, সবই দেখা যায়। কে রাস্তায় লড়াই করছে, কে পুলিশের বাধা উপেক্ষা করে রাস্তায় বসে পড়ছে। কাকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় অবাঞ্ছিত ঘোষণা করার পর আওয়ামী লীগ আবারও ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় গিয়ে মিটিং করেছে। সংসদে দাঁড়িয়ে কে বলেছে এই সংসদ অবৈধ। এটা আপনারা সবাই জানেন।’