সুনামগঞ্জ-১ আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী জেলা আমির মাওলানা তোফায়েল আহমদকে মনোনয়ন প্রত্যাহার করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে দলের পক্ষ থেকে। আসনটি ১০ দলীয় নির্বাচনি জোটের শরিক বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টিকে ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এতে ক্ষুব্ধ হন জামায়াতের স্থানীয় নেতাকর্মীরা ও সমর্থকরা। তারা মনোনয়ন প্রত্যাহার ঠেকাতে জেলা শহরে জামায়াতের দলীয় কার্যালয়ে তোফায়েল আহমদকে তালাবদ্ধ করে রাখেন। একই সময়ে সেখানে জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মোহাম্মদ আব্দুল্লাহকে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়। মঙ্গলবার বেলা ৩টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
জামায়াতের নেতা-কর্মী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সুনামগঞ্জ-১ আসনের অন্তর্ভুক্ত ধর্মপাশা, তাহিরপুর, জামালগঞ্জ ও মধ্যনগর উপজেলায় দীর্ঘদিন ধরে তোফায়েল আহমদের পক্ষে মাঠে কাজ করে আসছিলেন নেতাকর্মীরা। হঠাৎ তার মনোনয়ন প্রত্যাহারের সম্ভাবনার খবরে তারা ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন।
এ পরিস্থিতিতে তাহিরপুর উপজেলা থেকে আসা কয়েকজন নেতাকর্মী দুপুরে জেলাশহরে জামায়াতের দলীয় কার্যালয়ে অবস্থান নেন। একপর্যায়ে বেলা ৩টার দিকে তারা মাওলানা তোফায়েল আহমদকে কার্যালয়ের ভেতরে রেখে বাইরে থেকে তালা লাগিয়ে দেন। এ সময় জেলা পর্যায়ের নেতারা পরিস্থিতি শান্ত করতে কর্মী-সমর্থকদের বোঝানোর চেষ্টা করেন।
বিক্ষুব্ধ কর্মীরা জানান, দেড় বছর ধরে তারা তোফায়েল আহমদকে প্রার্থী ধরে প্রচারণা চালিয়ে আসছেন। নির্বাচনের মুখে এসে হঠাৎ আসনটি অন্য দলকে ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত তারা মেনে নিতে পারছেন না।
এ বিষয়ে জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির মোমতাজুল হাসান আবেদ বলেন, ‘আগে আসনটি ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশকে ছেড়ে দেওয়ার আলোচনা চলছিল। কিন্তু ওই দল জোট থেকে সরে যাওয়ায় জেলা আমিরের নির্বাচন করার বিষয়টি প্রায় নিশ্চিত ছিল। আজ সকালে জানানো হয়েছে, জোটগত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আসনটি নেজামে ইসলাম পার্টিকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। দলীয় সিদ্ধান্ত মানতে হবে, তবে কর্মীদের আবেগের প্রতিও শ্রদ্ধা রয়েছে।’
এ আসনে অন্য প্রার্থীদের মধ্যে আছেন বিএনপির কামরুজ্জামান কামরুল, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম এবং বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মুখলেছুর রহমান।
উল্লেখ্য, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন আজ। তফসিল অনুযায়ী, আগামীকাল বুধবার চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ এবং প্রতীক বরাদ্দ দেবে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।