মহাসড়ক অবরোধ করে অটোরিকশাচালকদের বিক্ষোভ

গাজীপুরের শ্রীপুরে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক দুই ঘণ্টা অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন অটোরিকশাচালকরা। এ সময় সড়কের উভয় পাশে যানবাহন আটকে পড়ে যানজটের সৃষ্টি হয়। এতে অফিস ও কারখানাগামী যাত্রীরা দুর্ভোগে পড়ে। অনেককে পায়ে হেঁটে অফিসে রওনা দিতে দেখা গেছে।

রবিবার (২৫ জানুয়ারি) সকাল পৌনে ৮টা থেকে ৯টা ৪৭ মিনিট পর্যন্ত দুই ঘণ্টা ওই মহাসড়কের শ্রীপুর উপজেলার গড়গড়িয়া পুরান বাজার (তুলা গবেষণা কেন্দ্র) এলাকায় বিক্ষোভ ও মহাসড়ক অবরোধের ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় বাসিন্দা, অটোচালক এবং পুলিশের সঙ্গে কথা বলে সড়কে বিক্ষোভ করে অবরোধের ঘটনায় ভিন্ন ভিন্ন তথ্য পাওয়া গেছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, ‘মহাসড়কের তুলা গবেষণা কেন্দ্রের সামনে হাইওয়ে পুলিশের এক সদস্য দায়িত্ব পালন করছিলেন। সে সময় এক অটোরিকশাচালক বিল্লাল হোসেন মহাসড়ক পার হচ্ছিলেন। পুলিশ দেখে দ্রুত চলে যাওয়ার চেষ্টা করলে পড়ে গিয়ে কপালে আঘাত পেয়ে রক্তাক্ত জখম হন ওই চালক। পুলিশের সঙ্গে অটোচালকের ধস্তাধস্তি বা মারধরের কোনও ঘটনা ঘটেনি।’

আরেক প্রত্যক্ষদর্শী স্থানীয় পোশাক শ্রমিক রেজাউল মিয়া বলেন, ‘সকালে মহাসড়কের পাশে দাঁড়িয়ে বাসের জন্য অপেক্ষা করছিলাম। হাইওয়ে পুলিশ মহাসড়কের পুরান বাজার তুলা গবেষণা কেন্দ্রের সামনে ইউটার্নে দায়িত্ব পালন করছিল। দ্রুতগতির একটি অটোরিকশা মহাসড়ক দিয়ে যাচ্ছিল। হঠাৎ সড়কে পুলিশ দেখে ওই চালক ইউটার্ন নিয়ে দ্রুত চলে যাওয়ার চেষ্টা করলে অটোরিকশা উল্টে সড়কে পড়ে গেলে কপালে আঘাত পান।’

স্থানীয় বাসিন্দা রিভার অ্যান্ড নেচার ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান খোরশেদ আলম বলেন, ‘অটোচালকরা ঘটনাস্থলে এসে মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করতে থাকেন। পরে চালক ও অফিসগামী যাত্রীদের দুর্ভোগের কথা বিবেচনা করে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও নেতৃবৃন্দ তাদের বুঝিয়ে মহাসড়ক থেকে সরিয়ে দেন। দুই ঘণ্টা পর সকাল ১০টার দিকে যানবাহন চালাচল স্বাভবিক হয়। আহত অটোচালককে সহকর্মীরা স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা দিয়েছেন।’

মাওনা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুজ্জামান বলেন, ‘আমাদের গাড়ির সঙ্গে লেগে একটি অটোরিকশা মহাসড়কে উল্টে গিয়েছিল। ওই অটোতে কোনও যাত্রী ছিলেন না। সকাল ৮টা থেকে সাড়ে ৮টা পর্যন্ত আধাঘণ্টা মহাসড়ক অবরোধ করে রেখেছিলেন অটোচালকরা।’