বগুড়া পল্লী উন্নয়ন একাডেমির (আরডিএ) সাবেক ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক এম এ মতিন ও তার স্ত্রী সাবিনা আফরোজের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন আইনসহ দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনে চার্জশিট দাখিল হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে অবৈধ পন্থায় সরকারি ক্ষমতা অপব্যবহার করে জ্ঞাত আয় বহির্ভূত ৭৩ লাখ নয় হাজার ৪৯৫ টাকার সম্পদ অর্জনের মামলা রয়েছে।
দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) বগুড়া কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক জাহিদুল ইসলাম বুধবার বিকালে জানান, তদন্ত শেষে সম্প্রতি সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতে এ অভিযোগপত্র দাখিল করেন তিনি। এতে আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা ও হুলিয়া জারির প্রার্থনা জানানো হয়েছে।
দুদক সূত্র জানায়, জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ পাওয়ায় দুদক বগুড়া কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক জাহিদুল ইসলাম ২০২৫ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি এম এ মতিন ও সাবিনা আফরোজ দম্পতির বিরুদ্ধে নিজ কার্যালয়ে এ মামলা করেন। এরপর নিজেই তদন্ত শুরু করেন। আসামি আবদুল মতিন বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার সান্তাহার নতুন বাজার এলাকার মৃত আবদুল হালিমের ছেলে। তাদের বর্তমান ঠিকানা ঢাকা মহানগরীর রমনার ১৩১ নিউ ইস্কাটন রোডের ইস্কাটন প্লাজার ফ্লাট নং-৪/বি উল্লেখ করা হয়েছে।
আসামিরা দাখিল করা সম্পদ বিবরণীতে ২৯ লাখ ৯৮ হাজার ১১০ টাকা মূল্যের স্থাবর সম্পদ অর্জনের তথ্য গোপন করেন। এম এ মতিন মিথ্যা তথ্য দেন এবং তার স্ত্রী সাবিনা আফরোজের ৭৩ লাখ ৯ হাজার ৪৯৫ টাকা মূল্যের জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনে সহায়তা করেন। মতিন বগুড়া পল্লী উন্নয়ন একাডেমিতে কর্মরত অবস্থায় অবৈধ পন্থায় সরকারি ক্ষমতার অপব্যবহার করে স্ত্রীর নামে জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জন করেন। তিনি দুর্নীতি দমন কমিশন আইন ২০০৪-এর ২৬(২) ধারা, দণ্ডবিধির ১০৯ ধারাসহ দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেন। ফলে দুর্নীতি দমন কমিশন আসামি দম্পতির বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিলের অনুমোদন দেন।
এর পরিপ্রেক্ষিতে তদন্তকারী কর্মকর্তা দুদক বগুড়া জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক বগুড়ার সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতে আসামি এমএ মতিন ও তার স্ত্রী সাবিনা আফরোজের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেন। এতে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন ২০০৪-এর ২৬(২)/২৭(১) ধারা, দণ্ডবিধি ১০৯ ধারা এবং ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারা উল্লেখ করা হয়েছে।
বুধবার বিকালে দুদক বগুড়া কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক জাহিদুল ইসলাম জানান, তদন্ত শেষে ২৬ জানুয়ারি বগুড়ার সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে। আদালতে আসামিদের প্রতি গ্রেফতারি পরোয়ানা ও হুলিয়া জারির প্রার্থনা জানানো হয়েছে।