আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হতে ময়মনসিংহে প্রাণপণ চেষ্টা চালাচ্ছেন বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থীরা। তবে তাদের ছাড় দিতে নারাজ দলটির মনোনয়নবঞ্চিত নেতারা। তারা নিজেদের বিজয়ী করতে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন। ফলে অনেক জায়গায় নেতাকর্মীরাও বিভক্ত হয়ে পড়েছেন। এর প্রভাব ভোটের মাঠে পড়বে ধারণা করা হচ্ছে।
এ ছাড়া জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থীরাও আদাজল খেয়ে মাঠে নেমেছেন। তারা বিএনপি ও বিএনপির বিদ্র্রোহী প্রার্থীদের জনপ্রিয়তার হিসেব কষেই ভোট টানতে তৎপরতা চালাচ্ছেন। অন্যান্য দলের প্রার্থীরও আশা, তারাও আশানুরূপ ভোট পাবেন, হবেন বিজয়ী।
স্থানীয়রা বলছেন, ‘বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থীরা হেসে-খেলেই বিজয়ী হতে পারতেন। তবে তাদের জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ছাড়াও সবচেয়ে বেশি ভাবাচ্ছেন বিএনপির বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থীরা। যেসব আসনের বিএনপি নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন, সেসব আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থীর বিজয়ী হওয়া কঠিন হয়ে যাবে।’
এই জেলায় সংসদীয় আসন ১১টি। ভোটার রয়েছেন ৪৭ লাখ ৬৪ হাজার ৯৯ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২৪ লাখ ৬ হাজার ৮৯২ জন, নারী ভোটার ২৩ লাখ ৫৭ হাজার ১৬৬। হিজড়া ভোটার রয়েছেন ৪১ জন।
জেলার এগারোটি সংসদীয় আসনে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, অন্যান্য দল ও স্বতন্ত্রসহ ৬৭ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ময়মনসিংহ-৪,৫,৭,৮ সংসদীয় আসন ছাড়া বাকিগুলোতে বিএনপির প্রার্থীর সঙ্গে দলটির বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থীরা নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন। এসব আসনে বিএনপির সঙ্গে বিদ্রোহী প্রার্থীর হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের সম্ভাবনা রয়েছে।’
ময়মনসিংহ-১ (হালুয়াঘাট-ধোবাউড়া) আসনে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা প্রার্থী হয়েছেন। তবে ধানের শীষের প্রার্থী কেন্দ্রীয় বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স সবচেয়ে হেভিওয়েট। তবে কেন্দ্রীয় এই নেতার বিরুদ্ধে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন উত্তর জেলা বিএনপির সদস্য ও ব্যবসায়ী সালমান ওমর রুবেল। এই নেতারও রয়েছে জনপ্রিয়তা। সঙ্গে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী ইসলামী ছাত্রশিবির ময়মনসিংহ জেলার সাবেক সভাপতি মাহফুজুর রহমান মুক্তাও ভোটের মাঠে আলোচনায় রয়েছেন। এই আসনে তিন ভাগে সবচেয়ে বেশি ভোট পড়বে। তবে বিএনপির প্রার্থী সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স ও স্বতন্ত্র প্রার্থী সালমান ওমর রুবেলের মধ্যে জমজমাট প্রতিদ্বন্দ্বিতা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।’
ময়মনসিংহ-২ (ফুলপুর-তারাকান্দা) আসনে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের মোতাহার হোসেন তালুকদার নির্বাচন করছেন। এই আসনে দশ দলীয় ঐক্যের বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের রয়েছেন মোহাম্মদুল্লাহ। আর বিএনপির বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে রয়েছেন সাবেক সংসদ সদস্য শাহ শহীদ সারওয়ার। জাতীয় পার্টি থেকে রয়েছেন এমদাদুল হক খান। তবে ভোটাররা বলছেন, বিএনপির মোতাহার হোসেন তালুকদার ও বিএনপি স্বতন্ত্র প্রার্থী শাহ শহীদ সারোয়ারের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে।’
আরেকটি আলোচিত আসন ময়মনসিংহ-৩ (গৌরীপুর)। এই আসনে বিএনপির প্রার্থী এম ইকবাল হোসাইন। এই আসনে বিএনপি নেতা আহাম্মদ তায়েবুর রহমান হিরন স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন। তিনি সাবেক উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ছিলেন। আসনটিতে এই দুই প্রার্থীই বেশি আলোচনায়।
ময়মনসিংহ-৬ (ফুলবাড়িয়া) আসনেও একই অবস্থা। বিএনপির ধানের শীষের প্রার্থী আখতারুল আলমের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন একই দলের সাবেক এমপি ইঞ্জিনিয়ার শামছ উদ্দিন আহমেদের স্ত্রী আখতার সুলতানা স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে। এ ছাড়া জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী মো. কামরুল হাসানের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আরেক নেতা অধ্যাপক মো. জসিম উদ্দিন। সদ্য বহিষ্কৃত এই নেতারও আলাদা জনপ্রিয়তা রয়েছে। ফলে ভোট কয়েক ভাগে বিভক্ত হয়ে যাবে। এই আসনে কে বিজয়ী হবেন তা নিয়ে ভোটারদের মধ্যে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ।
ময়মনসিংহ-৮ (ঈশ্বরগঞ্জ) আসনে বিএনপি থেকে ধানের শীষের মনোনয়ন পেয়েছেন লুৎফুল্লাহেল মাজেদ বাবু। এই নেতাকে পরাজিত করতে অন্যান্য রাজনৈতিক দলের প্রার্থী ছাড়াও বিএনপির সাবেক এমপি শাহ্ নূরুল কবিরও প্রার্থী হয়েছেন। তিনি বিএনপির সব পদ থেকে পদত্যাগ করে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী হয়েছেন। এই আসনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী কয়েক বারের এমপি ফখরুল ইমাম ছাড়াও জামায়াতে ইসলামীসহ অন্যান্য রাজনৈতিক দলের নেতারা প্রার্থী হয়েছেন। বিএনপির সাবেক এমপি শাহ্ নূরুল কবির নির্বাচনে অংশগ্রহণ করায় বিএনপি মনোনীত প্রার্থীর ভোট কমবে।
ময়মনসিংহ-৯ (নান্দাইল) আসনে বিএনপি থেকে মনোনয়ন পেয়েছেন ইয়াসের খান চৌধুরী। বিএনপির বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন সাবেক এমপি খুররুম খান চৌধুরীর স্ত্রী হাসিনা খান চৌধুরী। এ আসনে জাতীয় পার্টি, ইসলামী আন্দোলন ছাড়াও আরও বেশ কয়েকটি দলের প্রার্থী রয়েছেন। তবে ভোটাররা বলছেন, ইয়াসের খান চৌধুরী ও হাসিনা খান চৌধুরীর মধ্যে লড়াই হবে।
ময়মনসিংহ-১০ গফরগাঁও আসনে বিএনপি থেকে মনোনয়ন পেয়েছেন আখতারুজ্জামান বাচ্চু। এই আসনে তিনিসহ ৮ প্রার্থী নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন। তবে বিএনপি নেতা আবু বক্কর সিদ্দিকুর রহমান স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ায় আলোচনায় এসেছেন। এই আসনেও বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ও বিএনপির স্বতন্ত্র প্রার্থীর মধ্যে লড়াইয়ে আভাস পাওয়া গেছে।
এদিকে, শিল্পাঞ্চল খ্যাত ময়মনসিংহ-১১ (ভালুকা) আসনে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী ফখর উদ্দিন আহমেদ। এ ছাড়া হেভিওয়েট প্রার্থী হিসেবে রয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মোহাম্মদ ছাইফ উল্লাহ পাঠান, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রার্থী জাহিদুল ইসলাম। এ ছাড়া প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন অন্যান্য রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরা। তবে বিএনপির প্রার্থী ফখর উদ্দিনের সবচেয়ে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী হয়েছেন বিএনপি নেতা আলহাজ মোর্শেদ আলম স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন। এই আসনে বিএনপির ভোট দুই ভাগে বিভক্ত হওয়ার সম্ভবনা তৈরি হয়েছে।
ময়মনসিংহ-১ আসনের বিএনপি নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী সালমান ওমর রুবেল বলেন, ‘বছরজুড়ে এলাকার মানুষের সুখে-দুঃখে পাশে ছিলাম। কারও সঙ্গে কখনও অন্যায় করিনি। আমাকে ধানের শীষের মনোনয়ন না দেওয়ায় অসংখ্য ভোটার কষ্ট পেয়েছেন। তাদের ইচ্ছায় আমি প্রার্থী হয়েছি। বিপুল ভোটে নির্বাচিত হবো বলে আশা করছি।’
একই আসনে ধানের শীষের প্রার্থী সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স বলেন, ‘বিএনপি নেতাকর্মীরা আমার সঙ্গে রয়েছেন। সব শ্রেণি-পেশার ভোটার আমাকে ভোট দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। তাই জয়ের ব্যাপারে আমি শতভাগ আশাবাদী।’
ময়মনসিংহ-২ (ফুলপুর-তারাকান্দা) আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মোতাহার হোসেন তালুকদার বলেন, ‘নির্বাচনে ধানের শীষের জোয়ার এসেছে। দলের বাইরে গিয়ে কেউ আজ পর্যন্ত ভালো করতে পারে নাই। ফুলপুর-তারাকান্দাবাসী ধানের শীষের প্রতীককেই বেছে নেবেন এবং আমাকে জয়যুক্ত করবেন।’
এই আসনে বিএনপির বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী সাবেক এমপি শাহ শহীদ সারোয়ার মামলায় জেলখানায় থাকায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
ময়মনসিংহ-৩ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী এম ইকবাল হোসাইন বলেন, ‘বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত স্বতন্ত্র প্রার্থী আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা প্রপাগাণ্ডা ছড়াচ্ছে। তবে ভোটাররা এসবে কান দিচ্ছে না। বিএনপি নেতারা আমার পক্ষে কাজ করছেন। জয়ের ব্যাপারে আমি আশাবাদী।’
একই আসনে বিএনপি নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী আহাম্মদ তায়েবুর রহমান হিরন বলেন, ‘যাকে বিএনপি থেকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে, তিনি বিগত সময়ে এলাকায় ছিলেন না। দলের দুঃসময়ে তাকে রাজপথে পাওয়া যায়নি। তিনি মনোনয়ন পাওয়ায় অসংখ্য নেতাকর্মী মনোক্ষুণ্ন হয়েছেন। তারা আমার সঙ্গে রয়েছেন। বিএনপি মনোনীত প্রার্থী পরাজিত হবেন বলে সবমহলে আলোচনা রয়েছে। ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান থেকে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছিলাম। দলের দুঃসময়ে কখনও রাজপথ ছেড়ে যাইনি। নিশ্চয়ই ভোটাররা আমাকে বিজয়ী করবেন।’
ময়মনসিংহ-৬ ফুলবাড়িয়া আসন থেকে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আক্তারুল আলম বলেন, ‘দল আমাকে মনোনয়ন দিয়েছে। নেতাকর্মীরা আমার সঙ্গে আছেন এবং তারা দিনরাত কাজ করছেন। আশা করছি, ধানের শীষ বিজয়ী হবে।’
অন্যদিকে, বিএনপি নেতা সাবেক এমপি ইঞ্জিনিয়ার শামছ উদ্দিন আহমেদের স্ত্রী ও স্বতন্ত্র প্রার্থী আখতার সুলতানা বলেন, ‘ফুলবাড়িয়ায় আমার স্বামী মরহুম সাবেক এমপি ইঞ্জিনিয়ার শামসুদ্দিন সাহেবের যথেষ্ট অবদান রয়েছে। তার ভক্ত বিএনপির বেশির ভাগ নেতাকর্মী আমার সঙ্গে থেকে কাজ করছেন। জয়ের ব্যাপারে আমি যথেষ্ট আশাবাদী।’
ময়মনসিংহ-৮ (ঈশ্বরগঞ্জ) আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী লুৎফুল্লাহেল মাজেদ বাবু বলেন, ‘ঈশ্বরগঞ্জে বিএনপি নেতাকর্মীরা ঐক্যবদ্ধ আছেন। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি সংসদ নির্বাচনে তারা আমাকে জয়যুক্ত করার ব্যাপারে সর্বত্র কাজ করে যাচ্ছেন। সাধারণ মানুষের মাঝে ব্যাপক আগ্রহ রয়েছে ধানের শীষকে ভোট দেওয়ার জন্য।’
একই আসনে বিএনপি থেকে সদ্য বহিষ্কৃত ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী শাহ নূরুল কবীর বলেন, ‘দীর্ঘদিন থেকেই দলের সঙ্গেই ছিলাম। কিন্তু দল আমাকে মনোনয়ন না দেওয়ায় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশে যোগদান করেছি। ঈশ্বরগঞ্জে হাতপাখাকে জয়যুক্ত করার ব্যাপারে মানুষের মাঝে ব্যাপক আগ্রহ সৃষ্টি হয়েছে। বিএনপির বেশির ভাগ নেতাকর্মী আমার সঙ্গে থেকে কাজ করছেন।’
ময়মনসিংহ-৯ (নান্দাইল) আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ইয়াসের খান চৌধুরী বলেন, ‘সারা দেশের মতো নান্দাইলেও ধানের শীষের জোয়ার দেখা দিয়েছে। বিএনপি নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ ধানের শীষকে জয়যুক্ত করবে এমনটাই প্রত্যাশা করি।’
বিএনপির বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী হাসিনা খান চৌধুরী বলেন, ‘আমার স্বামী মরহুম সাবেক এমপি খুরুম খান চৌধুরী দীর্ঘদিন নান্দাইলে সংসদ সদস্য ছিলেন। তিনি জনগণের নেতা হিসেবে মানুষের খুব কাছের ছিলেন। বিএনপি নেতাকর্মী এবং সাধারণ মানুষের আগ্রহ দেখে আমি স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছি। আশা করছি নির্বাচনে জয়যুক্ত হবো।’
ময়মনসিংহ-১০ (গফরগাঁও) আসনে বিএনপি মনোনীত আকতারুজ্জামান বাচ্চু জানান, গফরগাঁওয়ের সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে বিএনপি নেতাকর্মীরা মুখিয়ে আছেন ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনে ধানের শীষকে বিজয়ী করার জন্য। সুষ্ঠু নির্বাচন হলে বিএনপি বিজয়ী হবে– এমনটাই জানান তিনি।
বিএনপি নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী আবু বকর সিদ্দিকুর রহমান বলেন, ‘বিএনপির জন্মলগ্ন থেকেই আমাদের পরিবার দলটির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। আমি মনোনয়ন না পাওয়ায় বিএনপি নেতাকর্মী এবং সাধারণ মানুষ কষ্ট পেয়েছেন। এসব মানুষের কষ্ট দূর করতেই আমি স্বতন্ত্রপ্রার্থী হয়েছি। বিএনপির বেশির ভাগ নেতাকর্মী আমার হয়ে কাজ করছেন। আশা করছি, বিপুল ভোটে আমি বিজয়ী হবো।’
ময়মনসিংহ-১১ আসনের বিএনপি নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী আলহাজ মোর্শেদ আলম বলেন, ‘ভোটাররা আমাকে প্রার্থী হতে উৎসাহ জুগিয়েছেন। কারণ দলের দুঃসময়ে যেমন রাজপথে ছিলাম, ঠিক তেমনি গরিব, দুঃখী, অসহায় মানুষদের নানাভাবে সহযোগিতা করেছি, এখনও করছি। বিএনপির অসংখ্য নেতাকর্মী আমার সঙ্গে রয়েছেন। তাই স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েই বিজয়ী হবো ইনশাল্লাহ।’
একই আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ফখর উদ্দিন আহমেদ বাচ্চু বলেন, ‘দল সবকিছু বুঝেশুনেই আমাকে ধানের শীষের মনোনয়ন দিয়েছে। ধানের শীষের পক্ষে সব শ্রেণি-পেশার ভোটার রয়েছে। ধানের শীষের বিজয়ের ব্যাপারে আমি শতভাগ আশাবাদী।’
বিদ্রোহী প্রার্থীদের বিষয়ে ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা বিএনপির সদস্যসচিব রুকনুজ্জামান সরকার বলেন, ‘দলের বাইরে গিয়ে যারা প্রার্থী হয়েছেন তাদের আমরা বিদ্রোহী প্রার্থী বলি না। আমরা মনে করি, ধানের শীষের বাইরে গিয়ে কেউ আজ পর্যন্ত ভালো কিছু করতে পারেনি। এরপরেও প্রত্যেকেরই গণতান্ত্রিক অধিকার রয়েছে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার। আমরা আশা করছি, ময়মনসিংহের ১১টি আসনে ধানের শীষ প্রতীকে যারা নির্বাচন করছেন প্রত্যেকেই বিজয়ী হয়ে আসবেন।’