ঝিনাইদহ শহরে তেল পাম্পের কর্মচারীদের পিটুনিতে এক যুবক নিহতের ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক সহিংসতা হয়েছে। শনিবার (৭ মার্চ) দিবাগত গভীর রাতে বিক্ষুব্ধ জনতা শহরের একটি ফিলিং স্টেশনে ভাঙচুর চালিয়েছে এবং কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে দাঁড়িয়ে থাকা তিনটি বাসে অগ্নিসংযোগ করেছে।
নিহত যুবকের নাম নীরব হোসেন (২৫)। তিনি কালীগঞ্জ উপজেলার বাদুরগাছা গ্রামের আলিমুর বিশ্বাসের ছেলে। নীরব ঝিনাইদহ শহরের বকুলতলা এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন। এই ঘটনায় তাৎক্ষণিকভাবে তিন জনকে আটক করেছে র্যাব-৬।
শনিবার রাত ৮টার দিকে শহরের কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল এলাকার ‘তাজ ফিলিং স্টেশনে’ তেল নেওয়াকে কেন্দ্র করে কর্মচারীদের সঙ্গে নীরব নামে ওই যুবকের কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে পাম্প কর্মচারীদের পিটুনিতে নীরব গুরুতর আহত হন। সঙ্গে থাকা বন্ধুরা তাকে উদ্ধার করে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। নীরব ‘বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন কমিটি’র একজন সক্রিয় সদস্য ছিলেন বলে জানা গেছে। এই হত্যাকাণ্ডের খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় জনতা ও আন্দোলনকারীরা বিক্ষোভে ফেটে পড়ে।
হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে রাত ১টার দিকে বিক্ষুব্ধ জনতা শহরের আরাপপুর এলাকায় অবস্থিত ‘সৃজনী ফিলিং স্টেশনে’ হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর করে। এর কিছুক্ষণ পর রাত ৩টার দিকে কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে দাঁড়িয়ে থাকা দূরপাল্লার বাসে আগুন লাগিয়ে দেয়। আগুনে রয়েল পরিবহন, জে লাইন ও গোল্ডেন লাইন নামে তিনটি বাসের অধিকাংশ অংশ পুড়ে গেছে।
ঝিনাইদহ ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা জানান, রাত ৩টার দিকে অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে তারা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান। প্রায় আধা ঘণ্টার প্রচেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে এলেও ততক্ষণে বাস তিনটি ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তবে গভীর রাতে বাসগুলো খালি থাকায় কোনও হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। ফায়ার সার্ভিসের এক কর্মকর্তা জানান, তদন্ত শেষে ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত পরিমাণ এবং জড়িতদের শনাক্ত করা সম্ভব হবে।
ঝিনাইদহ র্যাব-৬-এর কমান্ডার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মেহেদী ইমরান সিদ্দিকী বলেন, ‘তেল নিতে আসলে পাম্পের লোকদের সঙ্গে তাদের কথা কাটাকাটির ঘটনা ঘটে। একপর্যায়ে হাতাহাতিতে রূপ নেয়। এরপর যে যুবক তেল নিতে আসছিল সে হাসপাতালে যাওয়ার পর মারা যায়। এই ঘটনার পর পাম্পের তিন জনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। বাকিটা তদন্ত করে বলা যাবে।’
ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. সব্যসাচী পাল সুমন বলেন, ‘নিহতের শরীরে কয়েকটি আঘাতের ক্ষত আছে। হতে পারে ওই আঘাতে অভ্যন্তরীণ কোনও কারণে তার মৃত্যু হয়েছে।’