‘গুপ্ত’ রাজনীতি নিষিদ্ধের দাবি জানিয়ে দেয়াললিখন কর্মসূচি পালন করেছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) ছাত্রদল। বুধবার (২২ এপ্রিল) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির পাশে দেয়াললিখনের মাধ্যমে বিভিন্ন দাবি জানায় রাবি শাখা ছাত্রদল।
দেয়াললিখন কর্মসূচিতে ছাত্রশিবিরকে ‘প্রতিষ্ঠিত রাজাকার’ আখ্যা দিয়েছেন রাবি শাখা ছাত্রদল সভাপতি সুলতান আহমেদ রাহী।
তিনি বলেন, ‘গণঅভ্যুত্থানের পরে জামায়াত-শিবির ইসলামিক পরিচয়ে বাংলাদেশের প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে কীভাবে অস্থিতিশীল পরিবেশ করা যায়, কীভাবে শিক্ষার পরিবেশকে নষ্ট করা যায়– সেই ষড়যন্ত্রে সব সময় লিপ্ত থাকে। তারা কখনোই নিজেদের রাজনৈতিক পরিচয়ে রূপ প্রকাশ করে না। নিজেদের আড়াল রেখে, গোপন রেখে, গুপ্ত পরিচয়ে তারা বিগত সময়ে ছাত্রলীগের লুঙ্গির তলে থেকে রাজনীতি করে, হেলমেট পরে সাধারণ শিক্ষার্থীসহ বাংলাদেশে যারা আন্দোলনমুখী ছিলেন তাদের রক্তাক্ত করেছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘এই “গুপ্ত” কোনও একটি বাহিনী নয়, এটি ইসলামি ছাত্রশিবির নামে একটি রাজনৈতিক সংগঠন। যারা ৭১ সালে বাংলাদেশের বিপক্ষে ছিল, পাকিস্তানের পক্ষ হয়ে আমাদের বাংলাদেশের নারীদের নির্মমভাবে হত্যা করেছে, ধর্ষণ করেছে। এখনও ২০২৪-এর গণঅভ্যুত্থানের পরে তারা সেই মব কালচারের মাধ্যমে, গুপ্ত রাজনীতির মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা, রক্তাক্ত করা, রগ কাটা, হত্যা করা– এসবের মধ্যে তারা এখনও জড়িত আছে।’
শিবিরকে শিবির বললে তাদের লোম খাড়া হয়ে যায়; ‘গুপ্ত’ বললে তাদের লোম খাড়া হয়ে যায়; রাজাকার বললে তাদের লোম খাড়া হয়ে যায়। অথচ তারা তো প্রতিষ্ঠিত রাজাকার। আমরা সুস্পষ্টভাবে বলতে চাই, শিবিরের গুপ্ত রাজনীতি আর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে আমরা সহ্য করবো না। তাদের অনতিবিলম্বে সুষ্ঠু ধারার রাজনীতিতে ফিরে আসতে হবে, না হলে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে তাদের রাজনৈতিক কার্যক্রম পুরাদমে নিষিদ্ধ করা হবে।’
শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক সর্দার জহুরুল বলেন, ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দেয়াল লিখনের মাধ্যমে শুরু হয়েছিল। এই দেয়াল লিখনের মাধ্যমে সব ক্যাম্পাসে গুপ্ত রাজনীতি নিষিদ্ধের দাবিতে সোচ্চার হলে গুপ্ত রাজনীতি নিপাত যাবে। এতে গণতন্ত্র মুক্তি পাবে। গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে আমরা কোনও গুপ্ত রাজনীতি হতে দেবো না। পাশাপাশি বাংলাদেশ বিরোধী ও বাংলাদেশ বিরোধী যারা মদতদাতা আছে তাদের এই দেশে ঠাঁই হবে না।’
দেয়াল লিখন কর্মসূচিতে কেন্দ্রীয় ও হল পর্যায়ের বিভিন্ন স্তরের ছাত্রদল নেতাকর্মীরা উপস্থিত থেকে এই দাবির প্রতি সংহতি প্রকাশ করেন।