পুলিশ ও হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে নাগেশ্বরী উপজেলার কচাকাটা থানা এলাকার নারায়নপুরের জনৈক ইসহাকের স্ত্রী ফাতেমা একটি পুত্র সন্তানের জন্ম দেন। কিন্তু বাচ্চাটি জন্ম নেওয়ার পর থেকে শ্বাসকষ্টে ভুগতে থাকে। এমতাবস্থায় বাচ্চার মা ফাতেমার শারীরিক অবস্থা খারাপ এবং বাচ্চার বাবা ইসহাক ঢাকায় থাকায় ফাতেমার মামা-মামী দুজনে মিলে দুপুর ১টায় বাচ্চাটিকে চিকিৎসার জন্য কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালে নিয়ে আসেন এবং ৭ নম্বর শিশুওয়ার্ডে ভর্তি করান। প্রচণ্ড গরমের কারণে তারা বাচ্চাটিকে ওয়ার্ডের বারান্দায় রাখা বেডে নিয়ে চিকিৎসা চালাতে থাকেন। সন্ধ্যা সোয়া ৭টার দিকে লাল বোরখা পড়া এক মহিলা বাচ্চার সঙ্গে থাকা ফাতেমার মামী আহেজন(৬০) বাচ্চাটিকে তার কোলে দিয়ে একটু হাটাহাটি করতে বলেন। আহেজন সরল বিশ্বাসে বোরখা পরিহিত মহিলাকে বাচ্চাটি দিয়ে টয়লেট সারতে যান। এর ৫ মিনিট পর তিনি ফিরে এসে দেখেন বাচ্চাসহ মহিলা উধাও। তারা তৎক্ষণাত বিষয়টি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে অবহিত করলে কর্তৃপক্ষ পুলিশকে জানায়। কিছুক্ষণের মধ্যে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে বিভিন্নজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করলেও শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত বাচ্চাটিকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।
বাচ্চা হারানোর বিষয়ে হাসপাতালের নিরাপত্তা প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে কিনা, এমন প্রশ্নের উত্তরে কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক ডা. নজরুল ইসলাম ঘটানার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, নিরাপত্তার বিষয়টি কর্তৃপক্ষের নয় বরং বাচ্চার নিরাপত্তার দায়িত্ব তার মায়ের অথবা তার সঙ্গে আসা অভিভাবকের। প্রতিবেদকের অপর এক প্রশ্নের জবাবে এই আবাসিক চিকিৎসক জানান, ‘হাসপাতালে সিসিটিভি ক্যামেরা থাকলে হয়তো এমন ঘটনা নাও ঘটতে পারতো। আমি ইউনিসেফ-এর কাছে ইতোমধ্যে এ সংক্রান্ত একটি আবেদন করেছি এবং তারা সে প্রেক্ষিতে হাসপাতাল পরিদর্শন করেছেন। হয়তো শিগগিরই সদর হাসপাতাল সিসি ক্যামেরার আওতায় চলে আসবে। তখন এই ধরনের অনাকাক্ষিত ঘটনা থেকে রেহাই পাওয়া যাবে।’
কুড়িগ্রাম সদর থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি) জমির উদ্দিন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, আমরা ইতোমধ্যে বাচ্চাটির সন্ধানে অভিযান শুরু করেছি।
/এএইচ/আপ-এনএস/