মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার একটি হত্যা মামলার আসামি সাবেক ইউপি সদস্য আব্দুল আলিমের মুক্তির দাবিতে থানা ঘেরাও, বিক্ষোভ ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন এলাকাবাসী। সোমবার (১ জুন) সকাল ১১টা থেকে প্রায় এক ঘণ্টাব্যাপী মানিকগঞ্জ সদর থানা ফটকের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেন শতাধিক নারী-পুরুষ।
এ সময় বিক্ষোভকারীরা বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন এবং গ্রেফতারকৃত আব্দুল আলিমকে নির্দোষ দাবি করে তার অবিলম্বে মুক্তির দাবি জানান। তাদের অভিযোগ, প্রকৃত ঘটনা তদন্ত না করেই তাকে হত্যা মামলায় আসামি করা হয়েছে।
বিক্ষোভকারীরা বলেন, আব্দুল আলিম একজন সাবেক জনপ্রতিনিধি এবং স্থানীয় ইউনিয়ন বিএনপির সহসভাপতি। রাজনৈতিক ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত কারণে তাকে মামলায় জড়ানোর চেষ্টা চলছে। সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে তার নাম মামলা থেকে প্রত্যাহার এবং মুক্তির দাবি জানান তারা।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে থানা এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। পরে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের প্রতিনিধিদের আলোচনা হলে তারা শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি শেষ করে স্থান ত্যাগ করেন।
থানা ঘেরাও কর্মসূচির পর দুপুরে মানিকগঞ্জ প্রেসক্লাবের সামনে ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধন করেন বিক্ষোভকারীরা। সেখানে তারা আব্দুল আলিম মেম্বারের মুক্তির দাবিতে বক্তব্য দেন। পরে কোর্ট চত্বরে গিয়ে আরও একটি বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার দিবাগত মধ্যরাতে সদর উপজেলার পুটাইল ইউনিয়নের কৃষ্ণনগর গ্রামের সজীব হোসেনকে পিটিয়ে এবং কুপিয়ে হত্যা করে শতাধিক সংঘবদ্ধ জনতা। পরে এ ঘটনায় রবিবার সন্ধ্যায় নিহতের ভাই নাঈমুর রহমান রাজিব অজ্ঞাত ১৫০ জনকে আসামি করে সদর থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। পুলিশ রাতেই এই মামলায় জড়িত সন্দেহে আব্দুল আলিমকে গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে আসে।
এ বিষয়ে মানিকগঞ্জ সদর থানার ওসি ইকরাম হোসেন বলেন, ‘হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার সন্দেহে সাবেক ইউপি সদস্য আব্দুল আলিমকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তার মুক্তির দাবিতে গ্রামবাসী থানার সামনে এসে বিক্ষোভ করেছেন।’
থানার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, মামলাটি বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে। তদন্তে যার বিরুদ্ধে সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া যাবে, তার বিরুদ্ধেই আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে কোনও নিরপরাধ ব্যক্তি যেন হয়রানির শিকার না হন, সে বিষয়েও গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।
এদিকে, থানা ঘেরাও থেকে শুরু করে প্রেসক্লাব ও আদালত চত্বরে ধারাবাহিক কর্মসূচি পালন করায় ঘটনাটি জেলাজুড়ে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করেছে।