সোনাই নদীর ওপর স্বেচ্ছাশ্রমে নির্মিত হলো দৃষ্টিনন্দন সেতু

ছাতক ও কোম্পানীগঞ্জের মাঝ দিয়ে প্রবাহিত সীমান্তবর্তী সোনাই নদীর ওপর স্থানীয় গাঙপার নোয়াকুটের ২১ জন ব্যক্তি মিলে স্বেচ্ছাশ্রম ও নিজস্ব অর্থায়নে গড়ে তুলেছেন একটি দৃষ্টিনন্দন সেতু। লোহা ও কাঠের সমন্বয়ে নির্মিত সেতুটি কোম্পানীগঞ্জের শাহ আরেফিন বাজারের সঙ্গে ছাতকের গাঙপার নোয়াকুটের সরাসরি সংযোগ স্থাপন করেছে। ফলে দুই পাড়ের বাসিন্দাদের যাতায়াতের পথ সুগম হয়েছে।

রবিবার (৭ জুন) বিকালে দুইপাড়ের বাসিন্দাদের উপস্থিতিতে মোনাজাতের মাধ্যমে সেতুটি উদ্বোধন করা হয়।

সেতুর কাজে যুক্ত ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, চিকিৎসাকেন্দ্র, বাজার ও কর্মস্থলের কারণে দুই পাড়ের অসংখ্য মানুষকে প্রতিদিন নদী পার হতে হয়। সীমান্তবর্তী এই নদীর তিন কিলোমিটার উত্তরে সওজের আরেকটি সেতু থাকলেও দূরত্বের কারণে অনেক ঘুরে যেতে হয়।

আর সরকারি অর্থায়নে আরেকটু সেতু নির্মাণের সম্ভাবনাও দেখছিলেন না এলাকাবাসী। তাই বলে সেতু হবে না, এ বিষয়টি মানতে নারাজ গাঙপার নোয়াকুটের সমাজসেবী কামরুল ইসলাম। তিনি প্রথমে সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেন। পরে এতে যুক্ত হন হাজী সোনা মিয়া, হাজী মানিক মিয়া, তাজুল ইসলাম, আব্দুস সালাম, সিরাজ উদ্দিন খান, কামরুজ্জামান, মনির খান, আব্দুল মছব্বির, শফিকুল ইসলাম, মাস্টার নজরুল ইসলাম খান, মাস্টার আব্দুল মনাফ, মাস্টার আজাদ মিয়া, ব্যবসায়ী নজরুল ইসলাম, আল আমিন খান, সফিক খান, ডা. জহিরুল ইসলাম বিল্লাল, রিয়াজ উদ্দিন খান, আফাজ উদ্দিন, হাসান আহমদ মঙ্গল ও শিব্বির আহমদ।

তাদের স্বেচ্ছাশ্রম ও নিজস্ব অর্থায়নে নির্মিত দৃষ্টিনন্দন এই স্টিলের সেতু এখন এলাকার মানুষের স্বপ্নপূরণের প্রতীক হয়ে উঠেছে। সেতুটি দাঁড়িয়ে আছে ৩২টি স্টিলের পিলারের ওপর। এটি দৈর্ঘ্যে ২৬০ ফুট ও প্রস্থে ৭ ফুট। সেতুর উপরিভাগে বসানো হয়েছে উন্নতমানের কাঠ। দুইপাশে আছে স্টিলের রেলিং। যা পথচারী ও যানবাহনকে সুরক্ষিত রাখতে সাহায্য করবে। এতে খরচ হয়েছে প্রায় ১৮ লাখ টাকা।

কামরুল ইসলাম বলেন, ‘শিক্ষার্থীসহ সব পেশার মানুষকে অনেক ঘুরে যাতায়াত করতে হতো এবং সময় বেশি লাগতো। তা ছাড়া নৌকায় পারাপারে শিক্ষার্থী, বয়স্ক মহিলা ও রোগীদের অনেক সমস্যা হতো। এখানে সরকারি অর্থায়নে আরেকটি সেতু নির্মাণের কোনও সম্ভাবনাও দেখছি না। তাই মানুষের ভোগান্তি দূর করতে আমরা নিজস্ব অর্থায়নেই সেতুটি করেছি। এখন আমরা সহজে এপার থেকে ওপারে যেতে পারছি।’

স্থানীয় বাসিন্দা মনিরুজ্জামান সান্টুল বলেন, ‘সেতুটি নির্মাণ হওয়ায় কৃষিপণ্য পরিবহন সহজ হবে। শিক্ষার্থীরা নির্বিঘ্নে ও কম সময়ে স্কুলে পৌঁছাতে পারবে।’

স্থানীয়রা জানান, স্থানীয় এমন মহৎ ও স্বতঃস্ফূর্ত উদ্যোগ যোগাযোগ সুবিধাই সহজ করেনি, বরং এটি সমাজে পারস্পরিক সহযোগিতা, ঐক্য ও সেবার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।

সেতুটি উদ্বোধনের পর থেকে আশপাশের এলাকা ছাড়াও দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ ছুটে আসছেন এটি দেখতে। কেউ ছবি তুলছেন, কেউ ভিডিও করছেন, আবার কেউবা টিকটক বানিয়ে ফেইসবুকে শেয়ার করছেন। কাঠের এই সেতু এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের কষ্ট লাঘব করেছে।