ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-৪ (সীতাকুণ্ড) আসনে বেসরকারিভাবে বিজয়ী বিএনপির প্রার্থী আসলাম চৌধুরীর প্রার্থিতা বাতিল করেছেন আপিল বিভাগ। মঙ্গলবার (৩০ জুন) প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন আপিল বেঞ্চ এই রায় দেন। ওই রায় শুনে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন নেতাকর্মীরা। তারা দেশের ‘অর্থনীতির লাইফ লাইন’ হিসেবে পরিচিত ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক দীর্ঘক্ষণ অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন। সড়কের পাশে থাকা গাছ কেটে ফেলে এ অবরোধ করা হয়।
এ প্রসঙ্গে সীতাকুণ্ড উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব মো. মোরছালিন বলেন, ‘আসলাম চৌধুরী জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়েছেন। আজ এ রায়ে সীতাকুণ্ডের সাধারণ মানুষ ও দলীয় নেতাকর্মীরা ক্ষুব্ধ হয়েছেন। এ কারণে তারা সড়কে নেমে বিক্ষোভ করেছেন। তবে আমরা দলীয়ভাবে কোনও কর্মসূচি দিইনি। আদালতের রায়কে আমরা সম্মান করি।’
উত্তর জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক সরোয়ার উদ্দিন সেলিম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আসলাম চৌধুরী দলের নিবেদিতপ্রাণ নেতা। গত ১৭ বছরের ৯ বছর তিনি কারাগারে ছিলেন। তাকে ঋণ খেলাপি বানিয়েছে বিগত ফ্যাসিস্ট সরকার। তাকে ব্যবসা পরিচালনা করতে দেওয়া হয়নি। তবে আদালতের রায় নিয়ে আমি কিছু বলবো না।’
সীতাকুণ্ড উপজেলার কুমিরা ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি মো. আলমগীর বলেন, ‘আসলাম চৌধুরী একজন সৎ মানুষ। ৯ বছর জেল খেটেছেন। তার ব্যাংকের ঋণ পরিশোধ করার মতো সামর্থ্য ছিল না। তার যা কিছু ছিল, বিগত অবৈধ আওয়ামী লীগ সরকার তা কেড়ে নিয়েছে। আমরা এই রায় মানি না। আসলাম চৌধুরী জনতার ভোটে নির্বাচিত হয়েছে। জনতার রায় কার্যকর না হলে আমরা আবার জীবন দিতে প্রস্তুত। আমরা চাই না সেটি ঘটুক। আদালত রায়টি পুনর্বিবেচনা করবে, এ আশা রাখছি।’
মঙ্গলবার আসলাম চৌধুরীর প্রার্থিতা আদালতের রায়ে বাতিল হওয়ার খবর শুনে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন তার সমর্থকরা। দুপুর থেকে সীতাকুণ্ডে মহাসড়কের একাধিক স্থানে অবরোধ করেন বিএনপির কর্মী ও সমর্থকরা। এ সময় সড়কের পাশে থাকা গাছ কেটে ফেলে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করা হয়, আবার কোথাও সড়কে দাঁড়িয়ে নেতা-কর্মীরা মিছিল ও সমাবেশ করেন। উপজেলার রয়েল সিমেন্ট গেট, ছোট দারোগারহাটসহ নানা স্থানে বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়। পরে হাইওয়ে পুলিশ ও থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মহাসড়ক থেকে নেতা-কর্মীদের সরিয়ে দেয়।