কুড়িগ্রামের চিলমারীতে ব্রহ্মপুত্র নদের ডান তীর রক্ষা বাঁধে ধস দেখা দিয়েছে। বুধবার (১ জুলাই) সন্ধ্যার পর উপজেলার কাঁচকোল এলাকায় নদের ডান তীর রক্ষা বাঁধে এই ধস দেখা দেয়। বাঁধের ৩০ মিটার অংশে আকস্মিক তীর সংরক্ষণে ব্যবহৃত ব্লকসহ মাটি ধসে যাওয়া শুরু করায় তীরবর্তী কয়েকটি গ্রামের মানুষের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে। ধস রক্ষায় জরুরি ভিত্তিতে প্রতিরক্ষা কাজ শুরু করা না হলে উপজেলার কয়েকটি গ্রাম প্লাবিত হয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয় লোকজন।
ব্রহ্মপুত্র পাড়ের বাসিন্দাদের দাবি, বড় ধরনের বিপর্যয় থেকে রক্ষা পেতে ধস রোধে জরুরি ভিত্তিতে কার্যকর ও শক্তিশালী প্রতিরোধ ব্যবস্থা নিতে হবে। না হলে চলমান বন্যা পরিস্থিতিতে উপজেলা শহরসহ হাজারো পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়তে পারে। শত শত হেক্টর আবাদি জমিতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে কৃষিতে বিপর্যয় দেখা দিতে পারে।
স্থানীয় পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) বলছে, তীর রক্ষা বাঁধের ৩০ মিটার অংশে ধস দেখা দিয়েছে। বাঁধটির ওই স্থান বেশ দুর্বল কাঠামোর উপর নির্মিত। আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই। ওই অংশে প্রায়ই ধস দেখা দেয়। পাউবো জরুরি ভিত্তিতে সেটি মেরামত করে নিরাপত্তা নিশ্চিত করে। এবারও তীর রক্ষা বাঁধের ধস শুরু হওয়ার খবরে জরুরি মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় লোকজন জানান, বুধবার সন্ধ্যার পর থেকে তীরে তীব্র ভাঙন দেখা দেয়। একের পর এক ব্লক ও জিও ব্যাগ ধসে যেতে থাকে। আকস্মিক এই ভাঙনে কাঁচকোল সড়কটারী ও পার্শ্ববর্তী এলাকার মানুষের মাঝে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
আতঙ্কের কথা জানিয়ে স্থানীয় বাসিন্দা নজরুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘যে হারে ভাঙন চলছে, তাতে রাতেই যদি এটি বন্ধ করার ব্যবস্থা না নেওয়া হয় তাহলে বাঁধটির পুরো অংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যেতে পারে। এতে কয়েকটি গ্রাম প্লাবিত হতে পারে।’
বাঁধ সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দা নুরজাহান বেগম বলেন, ‘খুব ভয় লাগতেছে। চোখের সামনে বাঁধের ভাঙন দেখি ঘুম হারে গেইছে। রাইতে যদি গোট বাঁধ ভাঙে তাহলে সবাই পানিত ভাসি যাওয়া লাগবে। এই অবস্থায় রাইতে হামরা ঘুমবার পাবার নই।’
তীর রক্ষা বাঁধে ধসের বিষয়টি নিশ্চিত করে পাউবো কুড়িগ্রামের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘তীর রক্ষা বাঁধে ধসের খবরে ঘটনাস্থলে লোক পাঠানো হয়েছিল। ইতোমধ্যে সেখানে জরুরি প্রতিরোধমূলক কাজ করার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সকাল থেকে নৌকা করে বালু ভর্তি জিও ব্যাগ ফেলে স্থানটির ধস বন্ধ করার ব্যবস্থা করা হবে।’
‘বাঁধের ওই স্থানটির নকশা ও কাঠামোগত দুর্বলতা রয়েছে। যে পরিমাণ ঘনত্বে ব্লক ও বস্তা ডাম্পিংয়ের প্রয়োজন ছিল তা করা হয়নি। ফলে প্রায়ই ধস দেখা দেয়। তখন আমরা জরুরি মেরামত করি। বাঁধের ওই স্থানটি নতুন করে স্থায়ী মেরামত করার জন্য প্রকল্প তৈরি করে পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন পেলে নতুন করে কাজ করা হবে,’ যোগ করেন এই নির্বাহী প্রকৌশলী।