ব্যবসায়ীকে লাঞ্ছিত করে চেক ও স্টাম্পে সই আদায়, ভিডিও ভাইরাল

বরিশাল নগরীর একটি হাউজিং কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালককে (এমডি) শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করে দুটি চেক ও স্টাম্পে সই আদায়ের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।

জানা গেছে লাঞ্ছনার শিকার ব্যক্তি অগ্রণী হাউজিং লিমিটেড নামে একটি প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আব্দুল আজিজ হাওলাদার। অভিযুক্ত ব্যক্তি বরিশাল নগরীর কাটপট্টি এলাকার বাসিন্দা মোস্তাফিজুর রহমান লিটু।

ভুক্তভোগী আব্দুল আজিজ অভিযোগ করেন, শনিবার দুপুরে আকস্মিকভাবে তিন-চার জন লোক নিয়ে লিটু তার নগরীর হোটেল আলী সংলগ্ন এলাকার অফিসে হানা দেন। সে সময় অফিসে থাকা অন্য স্টাফদের তার কক্ষ থেকে বের করে দরজা আটকে দেন। কিছু বুঝে ওঠার পূর্বেই লিটু তার অণ্ডকোষ চেপে ধরেন। সে সময় তিনি চিৎকার দিলে তার অন্য স্টাফরা দরজা ধাক্কাধাক্কি করেন। তারা ভেতরে ঢুকে তাকে রক্ষা করতে এগিয়ে এলে তাদেরও ভয় ভীতি দেখানো হয়। এ সময় স্টাফরাও তাদের হাত থেকে রক্ষা পেতে শটকে পড়েন। এরপর লিটু তার সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে দুটি চেকে তার সই নেন। একই সঙ্গে স্ট্যাম্পেও সই আদায় করেন। চেকে কোনও টাকার অংক বসানো ছিল না।

তিনি আরও জানান, এ সময় লিটুকে বারবার নিবৃত করার চেষ্টা করা হলেও তিনি অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকেন। বিভিন্ন ধরনের হুমকি-ধামকি দেন।

লিটু তার অফিস ত্যাগ করার পর তিনি বিভিন্ন মিডিয়ার অফিসে গিয়ে ধরনা দেন এ বিষয়টি তুলে ধরার জন্য। এরপর অফিসের সিসি ক্যামেরা ফুটেজ বের করে তা তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তুলে ধরেন। এ বিষয়টি দেখে বিভিন্ন মিডিয়াকর্মী ও কন্টেন্ট ক্রিয়েটর তার কাছ থেকে ওই ভিডিও ক্লিপস নিয়ে তারাও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছেড়ে দিলে তা ভাইরাল হয়।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত মোস্তাফিজুর রহমান লিটু বলেন, ‘আজিজের কাছে আমার পাওনা রয়েছে ৫০ লাখ টাকার উপরে। এ টাকা নিয়ে বছরের পর বছর টালবাহানা করছেন তিনি। একাধিক সালিশি বৈঠক হলেও আজিজ একটি টাকাও দেননি। গত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ওই দলের প্রভাবশালী নেতাদের ছত্রচ্ছায়ায় থেকে তিনি বহু লোকের টাকা আত্মসাৎ করেছেন। ৫ আগস্ট পরবর্তী তাকে বারবার টাকা ফেরত দেওয়ার জন্য তাগিদ দেওয়া হলেও তিনি সেই টাকা আর ফেরত দেননি। প্রতিবারই তার একটি জবাব, “হাতে টাকা আসলে ফেরত দেবো।” এই টাকা নিয়ে আমার রাতের ঘুমও হারাম হয়ে গেছে। কোনও উপায়ান্তর না পেয়ে আমি তার অফিসে গিয়ে প্রথমে নরম সুরে টাকার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত চাই। তিনি কোনও উত্তর না দিয়ে গড়িমসি করতে থাকেন। এক পর্যায়ে ক্ষুব্ধ হয়ে আমি তাকে লাঞ্ছিত করেছি, তা মিথ্যা নয়।’

লিটু বলেন, ‘সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সিসি ক্যামেরার যে ফুটেজটি ঘুরপাক খাচ্ছে সেটি ভালো করে দেখেন, সেখানে তার পক্ষে কেউ কিছু লিখেছে কিনা। আমার অন্যায় হয়েছে, তার অফিসে গিয়ে এ ধরনের আচরণ করা। কিন্তু ভূমিদস্যু ও প্রতারক আজিজের খপ্পরে পড়ে অগণিত মানুষ লাখ লাখ টাকা খুইয়েছেন। এখন তারাও সোচ্চার হচ্ছেন।’

এক প্রশ্নের জবাবে লিটু বলেন, ‘আমি কোনও রাজনীতির সঙ্গে জড়িত না। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যারা একটি সংগঠনের নাম উল্লেখ করেছেন বিষয়টি সত্য নয়। আমি একজন সাধারণ জনগণ মাত্র।’

টাকা পাওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে আব্দুল আজিজ বলেন, ‘সে টাকা পাবে তা মিথ্যা নয়। এ বিষয়ে বৈঠকের মাধ্যমে সমস্যার সমাধান সম্ভব ছিল। কিন্তু তিনি তা না করে সন্ত্রাসের মাধ্যমে টাকা আদায় করার চেষ্টা চালিয়েছেন। আমি আইনের কাছে এর বিচার চাইবো।’

এ ব্যাপারে বরিশাল দক্ষিণ জেলা যুবদলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মামুন রেজা খান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘যাকে যুবদলের সঙ্গে সম্পৃক্ত দেখানো হয়েছে, এই দলের কোনও কর্মকাণ্ডের সঙ্গে কোনও ইউনিটের সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা নেই। এমনকি বিএনপির অঙ্গসংগঠনের সঙ্গেও তিনি জড়িত না। একটি সংগঠনকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে হলে আগে জানতে হবে। কিন্তু যারা তাকে যুবদলের সঙ্গে সম্পৃক্তের কথা বলেছেন, আসলে এটা ঠিক না।’

যুবদল সভাপতি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে বলেন, এ ব্যাপারে কেউ কোনও প্রমাণ দিতে পারলে তিনি পদ থেকে সরে দাঁড়াবেন।

এ ব্যাপারে বরিশাল কোতয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আল মামুনুল ইসলাম জানিয়েছেন, ঘটনার পরপর আব্দুল আজিজ তার কাছে গিয়ে বিষয়টি মৌখিকভাবে জানিয়েছেন। আজ রবিবার আদালতে এ ঘটনায় মামলা দায়ের করবেন। ওই মামলায় তাকে সহযোগিতা করার জন্য অনুরোধ জানিয়েছেন।

ওসি বলেন, ‘এখন পর্যন্ত মামলার নথি আমার হাতে আসেনি। আদালত থেকে যে নির্দেশনা দেওয়া হবে সেভাবেই বিষয়টি দেখা হবে।’