বান্দরবানের লামা উপজেলার আজিজনগর মিশনপাড়া এলাকায় ভারী বর্ষণে পাহাড়ধসে দুটি পরিবারের পাঁচ জনের মৃত্যু হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে শিশুসহ একই পরিবারের তিন জন এবং ভোররাত ৪টার দিকে আরেক পরিবারের দুই জনের মৃত্যু হয়।
মৃতরা হলেন- মিশনপাড়া এলাকার মৃত আদম আলীর ছেলে ইউনুস (২৮), তার স্ত্রী রানু আক্তার (২২) এবং তাদের সন্তান সোলেমান (৪); একই এলাকার আলী হায়দারের ছেলে জুয়েল (৩৫) এবং তার স্ত্রী কুলসুমা আক্তার (২৫)।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, কদিন ধরে টানা ভারী বর্ষণের কারণে আজিজনগরের দুই নম্বর ওয়ার্ডের মিশনপাড়া এলাকায় একটি পাহাড়ের একাংশ ধসে নিচে থাকা একটি মাটির ঘরের উপর পড়ে। এতে ঘরের ভেতরে থাকা তিন জন মাটির নিচে চাপা পড়েন। অপরদিকে, একই এলাকায় পাহাড়ধসের কারণে একটি দেয়াল ধসে পড়ে একই পরিবারের দুই জনের মৃত্যু হয়।
ঘটনার পর পরই স্থানীয় বাসিন্দা, পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধারকারী দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কাজ শুরু করে। মাটি চাপাপড়া অবস্থা থেকে একে একে তিন জনের এবং দেয়াল চাপা পড়া দুজনের মরদেহ উদ্ধার করে।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে আজিজনগর ইউপি চেয়ারম্যান (ভারপ্রাপ্ত) মোবারক হোসেন জানিয়েছেন, পাহাড় ধসে মাটি দেয়াল ও ইটের দেয়াল চাপা পড়ে দুই পরিবারের শিশুসহ পাঁচ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। নারী মেম্বারসহ কয়েকজন আহত হয়েছেন। ক্ষতিগ্রস্ত ও ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে থাকা অন্য পরিবারগুলোকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
লামা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কাইসার হামিদ বলেন, ‘রাত আনুমানিক আড়াইটার দিকে একই পরিবারের তিন জন এবং ৪টার দিকে দেয়াল ধসে পড়ে আরেক পরিবারের দুই জন মারা গেছে।’
এদিকে, টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি উজানের ঢলে বান্দরবানে সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির চরম অবনতি হয়েছে। পাহাড়ি ঢলের পানিতে ইতোমধ্যেই প্লাবিত হয়েছে জেলা ও উপজেলার নিম্নাঞ্চল। ফলে জেলার হাজার হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। গত কয়েকদিনের অবিরাম বৃষ্টিপাতে সাঙ্গু ও মাতামুহুরী নদীতে নেমে আসা উজানের ঢলে নদীর পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।