বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বাজুস) সভাপতি এনামুল হক খান বলেছেন, কিছু অসাধু ব্যক্তি, সরকারি কর্মকর্তা, ব্যবসায়ী ও বিদেশি ব্যক্তিদের একটি সিন্ডিকেট স্বর্ণকে দীর্ঘদিন ধরে ‘স্মাগলিং পণ্য’ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। অথচ এটি সমাজের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি পণ্য।
শনিবার (১ আগস্ট) দুপুরে যশোরে খুলনা বিভাগীয় স্বর্ণ ব্যবসায়ী সমিতির মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। সভায় খুলনা বিভাগের ১০ জেলার জুয়েলার্স সমিতির নেতারা অংশ নেন।
এনামুল হক খান বলেন, ‘যে পণ্য স্ত্রী-সন্তান ও স্বজনেরা ব্যবহার করে, সেই পণ্য স্মাগলিং হতে পারে না। এ দেশের কিছু অসাধু ব্যক্তি, সরকারি কর্মকর্তা, ব্যবসায়ী ও বিদেশি ব্যক্তির সিন্ডিকেটের মাধ্যমে এটার বৈধতা অর্জন করতে দেয়নি। এটা যে স্মাগলিং পণ্য না, সমাজের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’
তিনি বলেন, সরকার স্বর্ণ খাতকে সুনির্দিষ্ট শৃঙ্খলায় এনে রফতানিমুখী শিল্পে রূপান্তরের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। এ লক্ষ্যে স্বর্ণ খাতকে আনুষ্ঠানিক ও শৃঙ্খলাবদ্ধ করতে ভ্যাট, টার্নওভার ট্যাক্স এবং উৎসে কর কমানোসহ বিভিন্ন নীতিগত সহায়তা দেওয়া হয়েছে।
বাজুস সভাপতি বলেন, বৈধ উপায়ে স্বর্ণ আমদানির সুযোগ সৃষ্টি হওয়ায় দেশীয় স্বর্ণ খাত এখন রফতানির নতুন সম্ভাবনার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। ২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক জুয়েলারি রফতানিকারক দেশগুলোর কাতারে শক্ত অবস্থানে নিয়ে যাওয়াই তাদের লক্ষ্য।
তিনি আরও বলেন, ‘সরকার স্বর্ণ ব্যবসায়ীদের যে সুযোগ দিয়েছে, আমরা তা শতভাগ কাজে লাগাতে চাই। স্বর্ণ আমদানি সহজ হতে যাচ্ছে। লাইসেন্সের মাধ্যমে ব্যবসায়ীরা স্বর্ণ আমদানি করতে পারবেন।’
দেশীয় বাজারকে আরও সমৃদ্ধ করার পাশাপাশি বাংলাদেশের স্বর্ণশিল্পকে আন্তর্জাতিক বাজারে নিয়ে যাওয়ার প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেন এনামুল হক খান।
যশোর জেলা বাজুসের সভাপতি রকিবুল ইসলাম চৌধুরী সঞ্জয়ের সভাপতিত্বে সভায় বাজুসের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি আজাদ আহমেদ, সাবেক সহ-সভাপতি আনোয়ার হোসেন, সমীর ঘোষ, সাবেক সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম শাহীনসহ খুলনা বিভাগীয় কমিটির ঊর্ধ্বতন নেতারা উপস্থিত ছিলেন।