‘আমাদের একটি ভবন লাগবে, না হয় কষ্ট শেষ হবে না’

৩২ বছর ধরে সংস্কার ও মেরামত না করায় বগুড়ার সোনাতলা ইউনাইটেড উচ্চ বিদ্যালয়ের ভবনটি জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে। বৃষ্টি হলে ভবনটির ছাদ চুয়ে পানি পড়ে। ভবনের নানা অংশের পলেস্তারা খসে পড়ছে। বৃষ্টির পানিতে ভবনের গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র নষ্ট হচ্ছে। সামান্য বৃষ্টিতে ভবনের ভেতরে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মাথায় ছাতা মেলে ধরতে হয়। শিক্ষার্থীদের বইখাতা নষ্ট হয়।

শিক্ষার্থীরা বলছেন, সামান্য বৃষ্টিতে শ্রেণিকক্ষের ছাদ চুয়ে পানি পড়ে। বেঞ্চে বসা শিক্ষার্থীদের
বইখাতা ভিজে যায়। তখন তাদের এক বেঞ্চ থেকে অন্য বেঞ্চে ছুটতে হয়। আবার কখনও বারান্দায় আশ্রয় নিতে হয়। এ অচলাবস্থা নিরসনে আমাদের একটি ভবন লাগবে। না হয় কষ্ট শেষ হবে না।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এলাকার শিক্ষানুরাগী মরহুম খবিবুর রহমান ১৯৬৬ সালে ইউনাইটেড উচ্চ বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন। এরপর ফ্যাসালিটিজ বিভাগ ১৯৯৪ সালে প্রায় এক কোটি টাকা ব্যয়ে একটি একাডেমিক ভবন নির্মাণ করে। তিন কক্ষ বিশিষ্ট ওই ভবনের দুইটি শ্রেণিকক্ষে বৃষ্টি এলেই ছাদ চুয়ে পানি পড়ে। শ্রেণিকক্ষ দুটি পড়ালেখা অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এমনকি বৃষ্টির পানি পড়ে শিক্ষার্থীদের বইখাতা, পাঠ্যসামগ্রী ও বিদ্যালয়ের আসবাবপত্র নষ্ট হচ্ছে। সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়ছে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা।

এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী হাবিবা খাতুন, মনিরা খাতুন, জেরিন, নিশানা বলেন, বৃষ্টি শুরু হলেই ক্লাসে মনোযোগ ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়ে। অনেক সময় বেঞ্চ ভিজে যাওয়ায় দাঁড়িয়ে বা অন্য কক্ষে গিয়ে পাঠ গ্রহণ করতে হয়। এতে পাঠদান ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি শিক্ষার পরিবেশও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। জরুরি ভিত্তিতে আমাদের একটি স্কুলভবন লাগবে। না হয় এই কষ্ট কাটবে না।

এ বিষয়ে স্থানীয় অভিভাবক মিজানুর রহমান, জহুরুল ইসলাম, সিরাজুল হক বলেন, বহুদিন ধরে বিদ্যালয়ের ভবন সংস্কারের প্রয়োজন হলেও কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। শিক্ষার মান উন্নয়নে সরকার নানা পদক্ষেপ নিলেও অবকাঠামোগত সমস্যার কারণে এই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা এখনও মৌলিক সুবিধা থেকে
বঞ্চিত।

স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, একটি বিদ্যালয় শুধু শিক্ষা দেওয়ার স্থান নয়, এটি ভবিষ্যৎ প্রজন্ম গড়ে তোলার ভিত্তি। তাই শিক্ষার্থীদের নিরাপদ ও মানসম্মত শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করতে ইউনাইটেড
উচ্চ বিদ্যালয়ের জরাজীর্ণ ভবনের ছাদ দ্রুত সংস্কারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।

এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আমিনুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ছাদ সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা বিভিন্ন সময়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। দ্রুত সংস্কারকাজ বাস্তবায়ন হলে শিক্ষার্থীরা নিরাপদ ও স্বস্তিকর পরিবেশে পাঠগ্রহণ করতে পারবে।

এ বিষয়ে সোনাতলা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শেখ নজমুল হক বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ইউনাইটেড উচ্চ বিদ্যালয় একটি ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এই প্রতিষ্ঠানে কয়েক হাজারো শিক্ষার্থী রয়েছে। ওই বিদ্যালয়ের ভবনটি দ্রুত সংস্কার করতে ফ্যাসালিটিজ বিভাগের অর্থ বরাদ্দ দেওয়া প্রয়োজন।

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও স্কুলের সভাপতি স্বীকৃতি প্রামাণিক বলেন, খুব অল্প সময়ের মধ্যে ওই বিদ্যালয়ের পশ্চিম পাশের সীমানা প্রাচীরের কাজ শুরু হবে। পর্যায়ক্রমে ভবনটি সংস্কার করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।