জীবিত অবস্থায় ২ হাজার মানুষকে নিজের চল্লিশা খাওয়ালেন সামাদ, কারণ কী

জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলায় জীবিত অবস্থায় নিজের চল্লিশার আয়োজন করে এলাকায় আলোচনার জন্ম দিয়েছেন আব্দুস সামাদ (৭০)। তিনি উপজেলার পলবান্ধা ইউনিয়নের পূর্ব বাহাদুরপুর গ্রামের বাসিন্দা। 

বুধবার (৫ আগস্ট) দুপুরে নিজ বাড়িতে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন তিনি। এতে দুই হাজারের বেশি মানুষ অংশ নিয়ে খাবার খান। স্বচ্ছল কৃষক আব্দুস সামাদ ওই গ্রামের মৃত শুকুর আলীর ছেলে।

স্থানীয় বাসিন্দা রমজান আলী বলেন, আব্দুস সামাদের সংসারে তিন মেয়ে ও চার ছেলে। মেয়েদের বিয়ে দিয়েছেন। ছেলেদের কেউ আলাদা সংসার করছেন, আবার কেউ পড়াশোনা করছেন। বয়স ও শারীরিক দুর্বলতার কথা বিবেচনা করে তিনি নিজের সম্পত্তি সন্তানদের মধ্যে ভাগ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। একইসঙ্গে তার মনে প্রশ্ন জাগে, মৃত্যুর পর যদি সন্তানেরা চল্লিশার আয়োজন না করে। সেই ভাবনা থেকেই পরিবারের সঙ্গে আলোচনা করে জীবিত অবস্থায় নিজেই চল্লিশার আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেন।

চল্লিশায় অংশ নেওয়া রহমত উল্লাহ বলেন, জীবিত একজন মানুষ নিজের চল্লিশার আয়োজন করেছেন। এটি সত্যিই ব্যতিক্রমী ঘটনা। আয়োজনে উপস্থিত হয়ে তারা আনন্দের সঙ্গে খাবার গ্রহণ করেছেন।

আব্দুস সামাদের ছেলে সামিউল বলেন, আব্বার ইচ্ছার প্রতি সম্মান জানিয়ে পরিবারের সবাই এ আয়োজনের সঙ্গে একমত হয়েছেন।

তার মেয়ে সাজেদাও জানান, বাবার মনের সংশয় দূর করতেই পরিবারের সদস্যরা এ সিদ্ধান্তে সম্মতি দিয়েছেন।

আব্দুস সামাদ বলেন, বয়সের ভারে আমি দুর্বল। নামাজ-ইবাদত ছাড়া তেমন কোনো কাজ করতে পারি না। তাই পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে পরামর্শ করেই এই আয়োজন করেছি। 

অনুষ্ঠানের জন্য তিনি প্রায় এক লাখ ২০ হাজার টাকা মূল্যের দুটি গরু এবং ২০ হাজার টাকা মূল্যের একটি খাসি ক্রয় করা হয়েছিল বলে জানান। জীবিত অবস্থায় এমন আয়োজনে শুধু আলোচনা নয়, এটি পরিবারের প্রতি অনাস্থা এবং নিজের আত্মতৃপ্তি বলে মনে করেন অনেকে।