‘দুপুরে খাইছি ব্রয়লার মুরগির ঝোল। মোটা চাইলের পোলাও। মনে হয় পচা তেল দিয়া রান্না করছে, সেজন্য বাবা খাইতে পারি নাই।’ এভাবেই কথাগুলো বলেন হাসপাতালে ভর্তি রোগী আব্দুল বাতেন (৫৫)। একই ধরণের কথা বললেন, রোগী মাবিয়া খাতুন (৪০) ও বিলকিছ বেগম (৫০)। নববর্ষে ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে উন্নতমানের খাবারের পরিবেশন করার কথা থাকলেও রোগীদের দেওয়া হয় নিম্মমানের খাবার।
নববর্ষ উদযাপন উপলক্ষে গত ৩০ মার্চ সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সভায় সব সরকারি হাসপাতালে উন্নতমানের খাবার পরিবেশন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এজন্য সিনিয়র সহকারি সচিব এসএম জাহাঙ্গীর হোসেন স্বাক্ষরিত স্বাস্থ্য অধিফরের পরিচালককে দেওয়া চিঠিতে পহেলা বৈশাখে দেশের সব সরকারি হাসপাতালে উন্নতমানের ঐতিহ্যবাহী বাঙালি খাবার পরিবেশনের আদেশ জারি করা হয়। এজন্য বিশেষ অর্থ বরাদ্দও দেওয়া হয়।
আরও পড়তে পারেন:
সিএনজি স্টেশনে সিলিন্ডার বিস্ফোরণে নিহত ২
বৃহস্পতিবার ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দুপুরের খাবারের তালিকায় ছিল ব্রয়লারের ঝোল ও পাতলা মুসরির ডাল। নাম মাত্র পোলাও দেওয়া হয়। তাও আবার মোটা চালের। রোগীদের অভিযোগ, পোলাওয়ে দেওয়া হয়েছে নিম্মমানের তেল।
কিন্তু সরকারি নিয়মে নববর্ষে দুপুরের খাবারে দেওয়ার কথা ছিল, ভুনা খিচুরি, রুই মাছ ভাজা, মুরগির রেজালা, ডিমকারি ও রসগোল্লা।
হাসপাতালে সকালে নাস্তা দেওয়া হয়েছে একটি ডিম ও নামমাত্র সেমাই। হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের মধ্যে বেশ কয়েক জনকে আবার খাবার দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এসব রোগীরা তাদের নিজের বা আত্মীয় বাড়ি থেকে খাবার এনে খেয়েছেন।
বিশেষ দিনে হাসপাতালের চিকিৎসকদের সামনে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার সরকারি নিয়ম অমান্য করে এ ধরণের নিম্মমানের খাবার পরিবেশন প্রসঙ্গে নাম প্রকাশে না করার শর্তে একাধিক সূত্র জানায়, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কর্মকর্তার যোগসাজসে এরকম নিম্মমানের খাবার দেওয়া হয়েছে।
হাসপাতালে ভর্তি রোগী, নজরুল ইসলাম, ইকবাল হোসেন ও লিজা বেগম বলেন, প্রতিদিনই তাদের নিম্মমানের খাবার পরিবেশন করা হয়। এসব খাবার খাওয়ার অযোগ্য। প্রতিদিন তাদের দেওয়া হয় পাঙ্গাশ মাছের ঝোল। ডিম ও দুধ কখনই দেওয়া হয় না। এসব খাবার তৈরিও করা হয় অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে।
আরও পড়তে পারেন:
হেফাজতকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে বৈশাখ উদযাপ
উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা (ইউএইচও) ডা. আলম আরা বেগম এসব অভিযোগ অসত্য দাবি করে বলেন, বরাদ্দ অনুযায়ী নববর্ষে খাদ্য পরিবেশন করা হয়েছে।
/জেবি/