সৌদি আরবের রিয়াদে সোফা কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে নিহত শ্যামল উদ্দিন মাঝির দাফন সম্পন্ন হয়েছে। শুক্রবার (২৮ আগস্ট) বেলা ১১টার দিকে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।
এর আগে বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) বিকাল ৪টার দিকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে শ্যামল উদ্দিনসহ আরও ৯ বাংলাদেশির মরদেহ হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছায়। এরপর মরদেহগুলো নিহতের স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। শ্যামল উদ্দিন রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার ঝিকড়া ইউনিয়নের মরুগ্রামের বাসিন্দা।
শ্যামল উদ্দিন মাঝির জামাই মিজানুর রহমান জানান, শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে শ্যামলের জানাজার অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় স্বজনরা ছাড়াও আশপাশের এলাকার মানুষ অংশ নেন। পরে তাকে পারিবারিক কবরস্থানে বাবা-মায়ের পাশে দাফন করা হয়।
এদিন প্রিয়জনকে শেষ বিদায় জানাতে গিয়ে স্ত্রী, তিন কন্যাসন্তান ও স্বজনদের আহাজারিতে হৃদয়বিদারক পরিবেশের সৃষ্টি হয়। স্বজনদের আহাজারিতে ভারি হয়ে ওঠে চারপাশ।
জানা গেছে, শুক্রবার রাত ৩টার দিকে কফিনবন্দি শ্যামলের মরদেহ রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার ঝিকড়া ইউনিয়নের মরুগ্রাম ডাঙ্গাপাড়া গ্রামের নিজ বাড়িতে পৌঁছায়।
দীর্ঘ আট বছর পর শ্যামল দেশে ফেরার অপেক্ষায় ছিলেন পরিবারের সদস্যরা। তবে জীবিত মানুষ হিসেবে নয়, কফিনবন্দি হয়ে ফিরেছেন তিনি। মরদেহ বাড়িতে পৌঁছানোর পর স্ত্রী ও সন্তানরা কান্নায় ভেঙে পড়েন। স্বজনদের কান্নায় ভারী হয়ে ওঠে পুরো বাড়ির পরিবেশ।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, দেশে ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন শ্যামল। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে শেষ কথোপকথনেও শিগগিরই বাড়ি ফেরার কথা জানিয়েছিলেন তিনি। তার ফেরার অপেক্ষায় ছিলেন স্ত্রী ও তিন কন্যাসন্তান। সেই অপেক্ষার অবসান হলেও ফিরলেন নিথর মরদেহ হয়ে।
শ্যামল ছিলেন পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। তার মৃত্যুতে তিন কন্যাসন্তানকে নিয়ে পরিবারটি অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে।
স্থানীয়রা তার শোকসন্তপ্ত পরিবারের পাশে দাঁড়াতে সরকার, জনপ্রতিনিধি, বিত্তবান ব্যক্তি ও প্রবাসী কল্যাণ সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে বাগমারা উপজেলা নির্বাহী অফিসার সেলিম আহমেদ বলেন, নিহতের খবর শোনার পরে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ২৫ হাজার টাকা ও শুকনা খাবার দেওয়া হয়েছিল। এছাড়া তারা এয়ারপোর্টে ৩৫ হাজার টাকা পেয়েছে। যেহেতু নিহতের তিন মেয়ে। আমি এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের বলেছি, তাদের দেখে রাখতে। যেহেতু তারা পড়াশোনা করেন, আমরা তাদের সহযোগিতা করবো।
প্রসঙ্গত, সংসারে সচ্ছলতা ফেরানোর আশায় প্রায় আট বছর আগে সৌদি আরবে পাড়ি জমান শ্যামল উদ্দিন মাঝি। তিনি রিয়াদের মানফুয়া এলাকায় একটি সোফা তৈরির কারখানায় কাজ করতেন। গত ৯ আগস্ট রাতে ওই কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ১৬ বাংলাদেশি শ্রমিক নিহত হন। তাদের মধ্যে ছিলেন শ্যামল।