নিখোঁজ বিএনপি নেতা এম ইলিয়াস আলীকে উদ্ধারে সরকারের কোনও আন্তরিকতা নেই বলে মন্তব্য করেছেন তার স্ত্রী তাহসিনা রুশদী লুনা। ইলিয়াস আলী নিখোঁজের চার বছর পূর্তিতে বাংলা ট্রিবিউনের সঙ্গে আলাপকালে এমন মন্তব্য করেন তিনি। কান্না জড়িত কণ্ঠে লুনা বলেন, স্বামীকে উদ্ধারের ব্যাপারে আমরা বার বার সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেছি। কিন্তু সরকার ও প্রশাসনের কাছ থেকে কোনও রেসপন্স পাচ্ছি না। অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, স্বামীকে জীবিত উদ্ধারের আশা এখনও ছাড়িনি।
২০১২ সালের ১৭ এপ্রিল রাতে নিজ বাসায় ফেরার পথে রাজধানীর মহাখালী থেকে নিখোঁজ হন বিএনপি’র কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এম ইলিয়াস আলী ও তার গাড়িচালক আনছার আলী। ওইদিন মধ্যরাতে মহাখালী এলাকা থেকে ইলিয়াস আলীর ব্যবহৃত গাড়িটি উদ্ধার হলেও গত চার বছরেও সন্ধান মেলেনি তাদের দুজনের।
লুনা বলেন, আজ দীর্ঘ চার বছর ধরে আমার স্বামী নিখোঁজ। কিন্তু আজও তার কোনও সন্ধান পাওয়া যায়নি। অনেকবার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেছি, কিন্তু এতে কোনও লাভ হয়নি। প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে কোনও সাড়াও পাইনি। এর আগে ২০১২ সালের ২ মে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাত করেছিলাম। ইলিয়াস আলীকে উদ্ধার করার আশ্বাস দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। কিন্তু এখনও ইলিয়াস আলীকে ফিরে না পেয়ে হতাশায় ভুগছি। সুযোগ পেলে আবার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাত করতে চাই।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী রেজিস্ট্রার লুনা বলেন, সরকার আন্তরিক হলে ইলিয়াসকে খুঁজে পাওয়া সম্ভব। কেননা গুম-নিখোঁজ হওয়া অনেক ব্যক্তি তাদের পরিবারের কাছে ফিরে এসেছেন। আমরাও বিশ্বাস করি ইলিয়াস আলী ফিরে আসবেন। আমার শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত ইলিয়াসের অপেক্ষায় থাকব।
স্বামীর কথা বলতে গিয়ে বার বার আবেগ আপ্লুত হয়ে পড়েন লুনা। তার একটাই দাবি যেকোনও কিছুর বিনিময়ে স্বামীকে ফেরত চাই। তিনি এখনও মনে করেন তার স্বামী বেঁচে আছেন, পরিবারের মাঝে আবার ফিরে আসবেন। এখন তিনি শুধু আল্লাহর ওপর ভরসা করে ইলিয়াসের ফিরে আসার পথে চেয়ে রয়েছেন।
আরও পড়তে পারেন:
মুজিবনগরে পাথরের পরিবর্তে পিতলের ভাস্কর্য নির্মাণের পরিকল্পনা
ইলিয়াস নিখোঁজ আন্দোলন প্রসঙ্গে তাহসিনা রুশদী লুনা বলেন, সারাদেশের মতো তার জন্মস্থান সিলেটের বিশ্বনাথবাসীও ইলিয়াসের সন্ধান দাবিতে দলমত নির্বিশেষে সকল শ্রেণি পেশার মানুষ রাস্তায় নেমে আসে। ২০১২ সালের ২৩ এপ্রিল সিলেটের বিশ্বনাথে ইলিয়াস সন্ধান আন্দোলন করতে গিয়ে তিনজন প্রাণ দিয়েছেন। অসংখ্য বিএনপি নেতাকর্মীকে আসামি করে মামলা দেওয়া হয়েছে। কারাবরণ করেছেন কয়েক’শ নেতা। সেইদিন দেশবাসী জেনেছিল ইলিয়াসকে কতোটা ভালোবাসে বিশ্বনাথবাসী। যা গোটা বাংলাদেশে নতুন এক ইতিহাস সৃষ্টি করেছিল। হত্যা-হামলা-মামলা অনেক নির্যাতন করেও ইলিয়াস নিখোঁজ আন্দোলন দমন করা সম্ভব হয়নি।সিলেটে এখন তার সন্ধান আন্দোলন অব্যাহত রয়েছেন বলে তিনি দাবি করেন।
ছেলের অপেক্ষায় সূর্যবান বিবি
ইলিয়াস আলীর সত্তরোর্ধ্ব মা সূর্যবান বিবিও ছেলের অপেক্ষায় এখনও পথ চেয়ে আছেন। আমার ছেলে কোন অবস্থায়, ভালো না খারাপ- আমি তা জানি না। কান্না জড়িত কণ্ঠে সূর্যবান বিবি বলেন, ‘এখন একমাত্র আল্লাহই আমার ভরসা।’ শনিবার দুপুরে সিলেট জেলা বিএনপি’র নেতারা বিশ্বনাথের রামধানায় ইলিয়াস আলীর পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে গেলে তাদের তিনি এ কথা বলেন বলে জানান জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আলী আহমদ।
এ সময় সেখানে ছিলেন সিলেট জেলা বিএনপি’র সভাপতি আবুল কাহের শামীম, সাবেক সংসদ সদস্য শফি আহমদ চৌধুরী, জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সম্পাদক মাহবুবুর রব চৌধুরী ফয়সল ও বর্তমান যুগ্ম সম্পাদক অ্যাডভোকেট হাসান আহমদ পাটোয়ারী রিপন।
/বিটি/টিএন/